প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 10 Mar 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
এক বনে দুটো সফেদ সুন্দর কবুতর ছিল। তাদের নাম ছিল টুলু আর বুলু। টুলু ছিল বড়ো আর বুলু ছিল ছোটো।
শৈশবে তারা তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে। তবে এই কারণে তাদের তেমন কোনো অভাববোধ ছিল না। কারণ বনের অন্যান্য পশু-পাখি, মাছ, ব্যাঙ, সাপ, কুমির, গাছপালা, পানি, মাটি, বাতাস সবাই তাদের চোখে-চোখে, কোলে-কোলে আদরে মানুষ করেছে।
এর অবশ্য অন্য একটি কারণ ছিল। কবুতর দুটোর বাবা-মা তাদের জিম্মায় থাকা বিশাল মিঠা পানির (খাওয়ার উপযোগী) খাল, মাছ, গাছ, সাপ, পোকাসহ সকল জলজ প্রাণি, খালের সকল ঢেউ, হাওয়া-বাতাস ইত্যাদি এই বনের সকলের কল্যাণে দান করে দিয়েছিলেন।
তাছাড়া তারা দেখতে-শুনতে মোটেও সাধারণ কবুতরের মতো ছিল না। তাদের দুইজনের মাথার ওপরে ঝুটির উপরে আরেকটি ঝুটি অর্থাৎ দুইটি ঝুটি ছিল। এই বিশেষ দৈহিক গঠনের জন্যও তারা দুজনে অন্যদের তুলনায় একটু বেশি আদর-কদর-সমাদার পেত।
তাদের হাঁটু থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত সুন্দরমতো ধবধবে ছোটো ছোটো পালকে সজ্জিত ছিল। দেখে মনে হতো যেন, সাদা মখমলের মোজাসহ জুতো পরা রয়েছে। তবে বড়ো কবুতর টুলুর ডান পা ও ডানার পালকগুলো সামান্য বড়ো ছিল। এতে করে তার নিজেকে অন্যদের চেয়ে বিশেষ করে বনের সকল কবুতর থেকে আলাদা মনে হতো। মাঝে মাঝে ছোটো কবুতর বুলুকেও পর্যন্ত বকাবকি করতো কোনো কাজে ভুল করলে। যেমনÑমাছ-গাছ-ফল-ফুলের নাম ওলট-পালট বললে বা খাবার ঠিকমতো খেতে না পারলে।
তবে এ নিয়ে তাদের কোনো অভাব, অভিযোগ, দুঃখ ছিল না। তাদের মধ্যে কোনো হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, লোভও ছিল না। তারা সহজে বিভিন্ন খবর বনের এইপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে দিয়ে আসতো। কোনো শিকারী, মানুষ বা অস্বাভাবিক কোনো কিছু দেখলে তারা তড়িৎগতিতে সকলকে জানিয়ে দিত। এজন্য তাদের সাথে বনের সকলের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। সব নিয়ে তারা খুব সুখি ছিল।