এই গ্রন্থের প্রবন্ধগুলোর বেশিরভাগই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধের প্রেক্ষিতে লেখা হয়েছিল।আর তা ছিল কোনো কোনো বছরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশের উদ্দেশ্যে।সেমতে ওই সকল স্মরণিকায় তা প্রকাশিতও হয়েছিল।
আমাদের হিন্দু সমাজের কিশোর-তরুণদের অনেকেরই দুর্গাপূজা বা দুর্গাদেবী সম্পর্কে জানার অনেক আগ্রহ লক্ষ্য করেছিলাম।এজন্য বেশিরভাগ লেখাই ছিল দুর্গাদেবীর বিষয়ে এবং নানান প্রশ্নের কারণে লেখার বিষয়বস্তুও নানানভাবে সাজিয়েছিলাম।তবে এই লেখাগুলো তৈরির জন্য আমাকে অনেক পড়াশুনাও করতে হয়েছিল।বলা চলে আমাকে অনেকটা গবেষণার মতনই কাজ করতে হয়েছিল।আর তারপরই একেকটা প্রবন্ধ আমি বিভিন্ন সময়ে লিখেছিলাম।আর এজন্য আমি বিভিন্ন তথ্যের সূত্র ( ক্ষেত্র বিশেষে ) যথাসম্ভব উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।আমি অনেক পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি।অনেক ক্ষেত্রেই আমার নিজ্স্ব কোনো বক্তব্য সেখানে না লিখে সেই সকল পণ্ডিত ব্যক্তির বক্তব্য হুবহু উল্লেখ করেছি।আমার বিশ্বাস, এতে ওই সকল প্রবন্ধের মান আরো সমৃদ্ধ হয়েছে।আমি এজন্য ওই সকল পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গের নিকট ঋণ স্বীকার করছি এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আবার কিছু প্রবন্ধ আছে আমার মৌলিক লেখা।এগুলোতে আমার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা এবং আমার নিজস্ব অভিমত প্রকাশ করেছি।এসব মতের কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো কারো কারো আবার ভিন্নমত থাকতে পারে।আমি সেই ভিন্নমতের সঙ্গে কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে বলবো - সেই ভিন্নমতের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল থাকবো।তবে আমার কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল কারো চোখে ধরা পড়লে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি এবং আমাকে তা জ্ঞাত করলে ভবিষ্যতে সেই ভুল সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
আমার সেই ধর্মীয় প্রবন্ধগুলো এতদিন ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।তাই এবার সেগুলোকে একত্রিত করে পুস্তক আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নিলাম। আমাদের নবীন প্রজন্মের জন্য এবং আগ্রহী মানুষের জন্য আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস তখনই সার্থক হবে, যখন তারা এই গ্রন্থ থেকে নিজের ধর্ম সম্পর্কে কিছুটা হলেও জ্ঞান আহরণ করতে পারবে।
জন্ম : শ্যামসুন্দর সিকদার শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার লোনসিং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম-গিরেন্দ্র মোহন সিকদার, মাতার নাম-কৃষ্ণদাসী সিকদার ৭ ভাই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। মাটি-জল, খাল-নদী এবং শস্য-শ্যামল প্রকৃতি দেখে দেখে গ্রামীণ পরিবেশে তার কৈশোর কেটেছে। শিক্ষাজীবন : নিজগ্রাম দক্ষিণ লোনসিং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার প্রথমপাঠ শুরু। অতঃপর নড়িয়া বিহারী লাল হাই স্কুল, ফেনী মডেল হাই স্কুল এবং ফেনী কলেজে অধ্যয়ন করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে ১৯৮১ শিক্ষাবর্ষে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০০৮ সালে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে এমবিএ ডিগ্রি প্রাপ্ত হন। কর্মজীবন : ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৪ সালের বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৬ সালে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনসহ বিসিকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৪ সাল থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে এবং ২০১৭ সাল থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে যথাক্রমে সচিব ও সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। সাহিত্যকর্ম : শ্যামসুন্দর সিকদার ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখিতে জড়িত ছিলেন। তিনি একজন প্রথিতযশা কবি ও সাহিত্যিক। তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৫০। তন্মধ্যে কাব্যগ্রন্থ, প্রবন্ধ, গল্প, ভ্রমণ কাহিনী, ছড়া, শিক্ষামূলক গ্রন্থ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস এবং গবেষণামূলক গ্রন্থ। সাহিত্য ও গবেষণা কর্মের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের গর্বিত জনক।