আশা করি নতুন বছরের শুরুতে ভালই যাচ্ছে দিনকাল। বরাবরের মতোই ব্যাপন তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক অসাধারণ সব কন্টেন্ট। এই সংখ্যার শুরুতেই আছে হাইজেনবার্গের বিড়াল নিয়ে জম ব্যাগট-এর লেখার তরজমা। কোয়ান্টাম জগতের এই বিখ্যাত চিন্তা-পরীক্ষা আমাদের খুব সাধারণ একটা প্রশ্নের সামনে দাঁড়
করায়-আমরা যা দেখি, সেটাই কি বাস্তবতা? নাকি বাস্তবতা অনেক সময় আমাদের দেখার ওপর নির্ভর করে? এখান থেকেই সংখ্যাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলাপ সামনে
আসে-বিজ্ঞান কি পরম সত্য, নাকি সত্যের দিকে যাওয়ার একটি মানবিক পদ্ধতি?
ডিএনএ ফরেনসিক নিয়ে লেখাটি বিজ্ঞান আর বিচারব্যবস্থার সংযোগস্থলে দাঁড়ানো, দেখানো হয়েছে কিভাবে ডিএনএ ফরেনসিক বিভাগের দুয়ার খুলে দিয়েছে।
জিনগত তথ্য অপরাধ সমাধানে নতুন সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে। একই ধারায় আছে পাসওয়ার্ডবিহীন সিকিউরিটির উত্থান। পাসওয়ার্ডের ঝামেলা কমছে, কিন্তু যখন আমাদের শরীর আর আচরণই পরিচয়ের চাবি হয়ে ওঠে, তখন ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতেই হয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা ছাড়া এই সংখ্যা অসম্পূর্ণ। ফিউচারোলজি বিষয়ক ২০৫০ সালের পৃথিবী লেখাটি প্রযুক্তি, সমাজ আর পরিবেশ-সবকিছুকে একসাথে ধরে ভবিষ্যতের এবটা সম্ভাব্য ছবি আঁকে। এর পাশেই আছে পপকর্ণ ব্রেন ও আমাদের বিপর মনযোগ-দ্রুত কনটেন্ট আর লাগাতার স্ক্রলিং কীভাবে আমাদের গভীর মনোযোগ আর চিন্তার ক্ষমতাকে ক্ষয় করছে, সেই সতর্ক প্রশ্ন। প্রকৃতি আর মহাবিশ্বও এই সংখ্যায় জায়গা পেয়েছে।
তারা পরিচিতি: রোহিনী রাতের আকাশের সাথে নতুন করে পরিচয় করায়, আর প্রাণীদের আলোর সাহায্যে যোগাযোগ দেখায়-মানুষ ছাড়াও জীবজগতে কত বিচিত্র ভাষা আর বুদ্ধিমত্তা কাজ করছে। সাই-ফাই বিভাগে আছে হালকা মজার মহাকাশে হারানো মোজা এবং চিন্তাশীল অপারেশন সুন্দরবন। কল্পনার ভেতর দিয়েই এখানে বাস্তব ভবিষ্যতের ছায়া ধরা পড়ে। এর সাথে কুইজ, সুডোকু আর মজার বিভাগগুলো পড়াকে করে আরও প্রাণবন্ত। এই সংখ্যাটি উপভোগ্য এবং প্রাণবন্ত হিসেবেই তোমাদের কাছে ধরা দিবে, এটাই আশা করি। বিজ্ঞানের সৌরভ তব ব্যাপিত হোক।
বিজ্ঞানের সৌরভ, তব ব্যাপিত হোক।
Title
ব্যাপন কিশোর বিজ্ঞান সাময়িকী (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-২০২৬)