ইউসুফ হাসান অর্ক (ড. এ কে এম ইউসুফ হাসন। শিক্ষক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, সংগীতকার, টেলিভিশন নাটক-নির্মাতা ও নাট্যনির্দেশক। জন্ম ১৯৭১ সালের ১৬ আগস্ট কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বারে অবস্থিত এলাহাবাদ গ্রামে। বরিশাল ক্যাডেট কলেজসহ নানা জেলা-শহরে স্কুল-কলেজের পাঠ শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। 'বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য পালাগান আঙ্গিক বিচার ও বর্ণনাকারীর অবস্থান অনুসন্ধান' শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য 'মনবুকাগাকুশো স্কলার' হিসেবে ২০০৯ সালে তিনি ওকিনাওয়া প্রাদেশিক শিল্পকলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি 'মাসাও ইয়ামামোতো অ্যাওয়ার্ড" (সে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট এ্যাওয়ার্ড) লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে জাপান ফাউন্ডেশনের 'পোস্ট ডক্টোরাল ফেলোশিপ নিয়ে তিনি জাপানের 'নিনগিও-জোওরুরি ও বাংলাদেশের পালাগানে অনুসৃত সংগীতময়তার তুলনামূলক পর্যবেক্ষণ' বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট। সদস্য হিসেবে কর্মরত। শিক্ষকতার পাশাপাশি ১৯৯০ সাল থেকে 'নাট্যকেন্দ্র' নামে একটি নাটকের দলে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনা, মঞ্চ ও সংগীত পরিকল্পনার কাজ করে যাচ্ছেন। নিজ দলে 'ডালিমকুমার' ও 'পুণ্যাহ' নামে দু'টি মঞ্চনাট্য নির্দেশনা করা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন দলের জন্য তিনি নাট্য নির্দেশনা ও পরিকল্পনার কাজ করে থাকেন। এছাড়াও 'কবিয়াল' নামে একটি 'রিপারটরী' নাটকের দল প্রতিষ্ঠা করে পেশাদারী নাট্যচর্চার দিকে তিনি দৃষ্টি স্থির করেছেন। 'একলব্য আখ্যান', 'সীতায়ণ', 'চাঁদ বণিকের পালা', 'কবি', 'তোতাকাহিনী', 'মাতব্রিং', 'দেবদাস', 'ম্যান অব লামাঞ্চা', 'গীতি চন্দ্রাবতী', 'শকুন্তলা', 'যৈবতী কন্যার মন', 'স্বর্ণবোয়াল', জল পলকের গান', 'দহনদয়িতা', 'চাঁন মহুয়ার কিসসা', 'লাইলী মজনু', 'নীল ময়ূরের যৌবন', 'সুখ', 'জেরা', 'নীলাখ্যান' ইত্যাদি তাঁর নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য ও মঞ্চনন্দিত নাট্য প্রযোজনা। এ যাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থ অভিনয়রীতি: বাঙলা বর্ণনাত্মক ও পাশ্চাত্য প্রসঙ্গ (২০১৫, ২০২০-ভাষাচিত্র প্রকাশনী), নবনাটলিপি: চারটি নাটক (২০১৭-ভাষাচিত্র প্রকাশনী), বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য পালাগান: আঙ্গিক বিচার ও বর্ণনাকারীর অবস্থান অনুসন্ধান (২০১৮-বাংলা একাডেমি), গাহনাভিনয় (২০২০-সময় প্রকাশন), দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহণ (২০২৫-বাংলা একাডেমি)। এছাড়াও দেশ-বিদেশের নানা জার্নালে বাংলা, ইংরেজি ও জাপানি ভাষায় রচিত তাঁর বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।