গল্পটা ভালোবাসার!
একজোড়া তরুণ-তরুণীর প্রথম পবিত্র প্রেমের।
আবার গল্পটা তেহরানেরও! শহরটার ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতির। ঘটনার প্রেক্ষাপট ১৯৫০-এর দশকের তেহরান থেকে শুরু হয়ে কয়েক দশক পর আমেরিকার নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত ।
বইটির শুরু ১৯৫৩ সালের তেহরানে, যখন ইরানের রাজপথে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মিছিলে স্লোগান দিচ্ছে, স্বপ্ন দেখছে এক নতুন ভোরের—ঠিক যেমনটা আমরা আমাদের চারপাশে দেখছি। গল্পের মূল চরিত্র রয়া এবং বাহমানের পরিচয় হয় একটি স্টেশনারি শপে, যেখানে বইয়ের ঘ্রাণ আর কালির আঁচড়ে তাদের স্বপ্নের বুনন শুরু হয়। বর্তমান প্রজন্ম, যারা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও একটু নিরিবিলি কোণ বা ক্যাফেতে বসে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আড্ডা দিতে ভালোবাসে, তারা রয়া-বাহমানের আবেগের সাথে নিবিড়ভাবে মিশে যেতে পারবে।
রয়া নামের এক স্কুলছাত্রী যে বই পড়তে ভালোবাসে, ভালোবাসে রুমির কবিতা আর বিভিন্ন বিখ্যাত ইংরেজি উপন্যাস।
অপরদিকে বাহমান হচ্ছে সেই ছেলে, যে ছেলেটা পৃথিবী বদলে দেবে।
তাঁরা প্রেমে পড়ে গেলো , ওদের প্রথম দেখা হলো তেহরানের এক স্টেশনারি দোকানে, যেখানে রয়া আসে বই পড়তে, কিনতে আর বাহমান আসে গোপন রাজনৈতিক প্রচারপত্র সংগ্রহ করতে। ওদের সেই নিষ্পাপ প্রেমের গল্পে মিশে গেলো ইরানের গ্রীষ্ম-বসন্ত, প্রকৃতির সাথে রাজনীতি, নওরুজের নববর্ষের উৎসব, জাফরানের, জেসমিনের ঘ্রাণের সাথে বারুদের গন্ধও। ওরা দুজনে একসাথে মিছিলেও ছিলো, হাত ধরাধরি করে আকাশের রঙ বদলও দেখেছিলো।
১৯৫৩ সাল। তেহরান তখন উত্তাল রাজনৈতিক অস্থিরতায়। দেশ ও দেশের মানুষেরা নানা মতে বিভক্ত। প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেক চাচ্ছেন দেশের তেল-সম্পদের উপর থেকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণ তুলে নিতে, শাহ চাচ্ছেন নারী-উন্নয়ন, পশ্চিমা দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে, হুজুর শ্রেনীর লোকেরা চাচ্ছেন ধর্মীয় ও পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে, কমিউনিস্টরা চাচ্ছেন সোভিয়েত ইউনিয়নের আদলে সাম্যবাদী দেশ গড়তে।
আর এই বিভক্তির ফায়দা লোটার জন্য আছে বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত।
ইরানের সেই সময়কার সমাজের চালচিত্র চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে এই উপন্যাসে।
আর রয়া! এই সমস্ত ডামাডোল থেকে একটু শান্তি খুঁজতে নিভৃত স্টেশনারি দোকানে চুপচাপ লুকিয়ে থাকা মেয়েটির শেষ পরিণতি কি হলো?
বাহমান কি পেরেছিলো পৃথিবী বদলে দিতে?
শেষ অব্দি পরিণতি পেয়েছিলো কি ওদের ভালোবাসা?
মারজান কামালীর'র অনবদ্য লেখায় সারা পৃথিবীতে তুমুল জনপ্রিয়তা প্রাপ্ত উপন্যাসটি ইতোমধ্যে অনূদিত হয়েছে বিশ্বের বহু ভাষায়।
বাংলাদেশে তথা বাংলায় অনুবাদ হলো এই প্রথম।
ইরানি ঔপন্যাসিক মারজান কামালী- এর এই বইটি নিয়ে প্রকাশক এবং অনুবাদক দুজনই বেশ আশাবাদী।
বানু মুশতাক- এর "হার্টল্যাম্প" বইটির ন্যায় এটিরও প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ বাংলাদেশের পাঠক মহলে বিশেষ করে তরুণ পাঠকদের কাছে বেশ সমাদৃত হবে।
ইনশা আল্লাহ।