নাদিরা আবদুলকেরেম আর কাদেয়া নয়ারদ্রোন চীনা দুই তরুণী। উরুমচি এয়ারপোর্টে আমাদের বিদায় জানাতে এসে অশ্রম্নতে চোখ লাল করে ওরা কাঁদছিল! আমরা তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়! কি সান্ত্বনা দিই ওদের। মাত্র তো ১৫ দিন। এর মধ্যেই আমাদের ওপর ওদের এতো মায়া পড়ে গেছে! বুঝলাম বিশ্বমানব আসলে এক সুতোয় গাঁথা। দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, সংস্কৃতি হয়তো তাদের বিচ্ছিন্ন করে— কিন্তু সাময়িক সান্নিধ্যেই সবকিছু যেন ভেঙে পড়ে নিমিষে। অচিন মানুষ হয়ে ওঠে চেনা!
অন্যদিকে ল্যাভেন্ডার সঙ্গে যখন এক মধ্যরাতে বেইজিংয়ের রাস্তায় হাঁটছিল তখন সে প্রচণ্ড স্মৃতিকাতর হয়ে বলেছিল— “জানো, আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখনও দিনের বেলায় বেইজিংয়ের আকাশ থাকতো সমুদ্রের মতো নীল, আর রাতে লক্ষ লক্ষ রূপালি তারা।” অথচ এখন সেই নীল নেই আর তারারাও হারিয়ে গেছে আধুনিক চীনের চোখ রাঙানিতে। অবাক হয়ে গেলাম কসমোপলিটন যুগেও চীনারা তাদের অতীত, নিসর্গকে কতো গভীরভাবে অনুভব করে! এমির কাছে শুনেছিলাম চীনাদের সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনার গল্প। আর ইন্টারপ্রেটর ওয়েন জিন, উইঘুর যুবক আব্দুল সালাম, জেং কেইলি, ওয়েন জি এবং চাও জিয়ানজিদের আন্তরিক বন্ধুত্বতায় চীন আর বিদেশ বিভূই থাকেনি। হয়ে উঠেছিল বড্ড আপন।
তদুপরি চীনের মহাপ্রাচীর, তিয়েন আনমেন স্কয়ার, কিয়ানমেন ষ্ট্রিট, ওয়ান পেই লাইব্রেরি, উরুমচি যাদুঘর, হংশান পার্ক, জেং কুভিয়ান ওয়েস্ট সিটি, হংগুয়াংশান বৌদ্ধ মূর্তি, রেড হিল, হুতুবি কৃষি অঞ্চল ভ্রমণ শুনিয়েছিল চীনের হাজার বছরের ইতিহাস—ঐতিহ্যের গল্প। অদ্ভুত মোহ ছড়িয়েছে চীনের রূপকথা, উপকথা, প্রবাদ, মিথ, উৎসব, সঙ্গীত, থিয়েটার, আর খাদ্য সম্ভার। সব মিলে ঘটেছে এক নতুন চীনের উদ্ভাসন!