চাঁদের দেশে পাখির গান
নাওয়াফদের বাড়ির উঠোনে সকালে রোদ পড়ে, বিকেলে ছায়া নামে। উঠোনের উত্তর কোণায় একটি বড়ই গাছ আছে। গাছটির ডালপালাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই গাছটি নাওয়াফের দাদু নিজের হাতে লাগিয়েছিলেন।
কয়েক দিন ধরে বড়ই গাছের ডালে একটি ছোট্ট টুনটুনি পাখি এসে বসে। পাখিটির লেজ দুলে দুলে নড়ে, ডানা দিয়ে হালকা ঝাপটানি দেয়। আর টুনটুনির মুখ থেকে বের হয় টিকটিক করে মিষ্টি শব্দ। নাওয়াফ যখন এই দৃশ্য দেখে, তখন তার মন আনন্দে ভরে ওঠে।
একদিন বিকেলে নাওয়াফ উঠোনে বল নিয়ে খেলছিল। তখন সে দেখতে পেল, টুনটুনি পাখিটি ঠোঁটে করে একটি শুকনো ঘাসের ডাল নিয়ে উড়ে যাচ্ছে এবং টুনটুনি পাখি বড়ই গাছের একটি ডালে বাসা তৈরি করছে। নাওয়াফ তখন গাছের নিচে কিছু শুকনো ঘাস আর কিছু পাতা রেখে দিল এবং চুপচাপ গাছের নিচে বসে রইল।
এরপর থেকে নাওয়াফ প্রতিদিন খেলাধুলার ফাঁকে টুনটুনির বাসার দিকে তাকায়। সে পাখিটিকে ভয় দেখায় না এবং তাড়িয়ে দেয় না।
বড়ই গাছের ছায়া, টুনটুনির টিকটিক শব্দ আর বিকেলের হালকা বাতাস- এসবকিছুতে নাওয়াফের মন উৎফুল্ল এবং আনন্দিত।
নাওয়াফের একটি শালিক পাখি আছে। নাওয়াফ প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে শালিক পাখিটিকে দেখতে বারান্দায় যায় এবং শালিক পাখিকে ডাকে—
—পাখি, এই পাখি!
শালিক পাখিটি অনেক সুন্দর। তার চোখ দুটো চকচকে আর গলার সুর অনেক মিষ্টি। শালিক পাখিটি কয়েকদিন হল কথা বলতে শিখেছে। নতুন নতুন কথা বলে। সে নাওয়াফকে নাম ধরে ডাকে—
—নাওয়াফ... নাওয়াফ...।
শালিক পাখির কাছ থেকে এই ডাক শুনে নাওয়াফের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। মন খারাপ থাকলেও শালিক পাখির ডাক শুনে নাওয়াফের মন ভালো হয়ে যায়।
দিন দিন শালিক পাখিটি আরও বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে এবং আরও বেশি কথা বলতে শিখেছে। শালিক পাখিটি এখন নাওয়াফের বড় ভাই ইহানকে ভাইয়া বলে ডাকতে শিখেছে।
একদিন নাওয়াফ মন খারাপ করে বসে আছে এবং এর কিছুক্ষণপর সে তার আরেক বড় ভাই নিহানের কাছে গিয়ে বলল,
ভাইয়া...ভাইয়া...।
শালিক পাখিটি ইহান ভাইয়াকে ভাইয়া বলে ডাকে, কিন্তু আমাকে কেন ভাইয়া বলে ডাকে না?
নিহান বলল,
তুমি ইহানকে ভাইয়া বলে ডাকো, এজন্য শালিক পাখিটিও ইহানকে ভাইয়া বলতে শিখেছে। আর তোমাকে সে বন্ধু মনে করে, তাই তোমাকে শালিক পাখিটি নাম ধরে ডাকে।
নিহানের কাছ থেকে এই কথা শুনে নাওয়াফের চোখ দুটো আনন্দে ছল ছল করে উঠল।
দিন যত যায় বড়ই গাছে টুনটুনি পাখির বাসা আরও শক্ত হয়। শালিক পাখিটিও আরও সুন্দর করে কথা বলে। আর নাওয়াফের ছোট্ট পৃথিবী পাখির গান আর ভালোবাসায় ভরে ওঠে।