অ
ামার কথা
সময়ের স্রোতে অনেক কিছু হারিয়ে যায় কিন্তু স্মৃতি আর রক্তের বাঁধন থেকে
যায়। আমার পূর্বসূরীদের গড়া মূল্যবোধ, শ্রম, আর মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সেই
মাটির গন্ধ, সেই ইতিহাস তারই উত্তরাধিকার হিসেবে লিখে রাখতে চেয়েছি। এই
গ্রন্থ কেবল একটি পরিবারের ইতিহাস নয়, একটি সংগ্রামী সময়ের আত্মমর্যাদার
উপাখ্যান। আমি খুঁজে চলেছি আমার শেকড়। পরিবারের ইতিহাস যাঁরা জানতেন,
তাঁরা কেউ বেঁচে নেই। পূর্ব পুরুষের যে কথা লিখেছি তার কোন ঐতিহাসিক
দালিলিক প্রমাণ নেই। স্মৃতির পাতায় চোখ বোলানো এ লেখা। পাঠককে কতোটা
আনন্দ দেবে জানিনা। এ ধরণের লেখায় সত্য কথা বলার রেওয়াজ আছে। কিন্তু
অপ্রিয় অথবা গোপন কথা প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছি। তবে নিশ্চিত করে বলছি
কোন অসত্য তথ্য উপস্থাপন করিনি। অনেকের কথাই এখানে বলা হয়নি অথবা কম
বলা হয়েছে তাঁরা কষ্ট পেতে পারেন। এতো অল্প পরিসরে সবার কথা বলা দুঃসাধ্য,
এমনও হতে পারে আমার একান্ত আপন, কিন্তু কিছু স্মৃতি আমাকে ধোকা দিয়েছে।
এ অক্ষমতা ক্ষমা করবেন। দাড়া উল্লাহ’র রক্তে জন্মে নেয়া আগামী প্রজন্মের জন্য
কিছুটা হলেও মনে করিয়ে দেবে, সে জন্যই আমার এ প্রাণান্ত চেষ্টা।
মনামী ও দিগন্ত আমাকে এ লেখার জন্য বার বার বলেছে। হারিয়ে যাওয়া কথাকে
নতুন করে সাজানো কষ্টকর। সায়েম এর তাগাদা, সমিতির অফিস সুপার আমার
সন্তান সমতুল্য শাহনেওয়াজ না থাকলে এ লেখা কোনদিন মুদ্রনের জন্য দেয়া
হতোনা। বন্ধুবর নজরুল অগোছালো কাজ গুলোকে মুদ্রন উপযোগী করার চেষ্টা
করেছেন। ছোট ছেলে দিগন্তের প্রচ্ছদ বাড়তি আনন্দ দিয়েছে। হাসিব সার্বক্ষণিক
আমাকে সহযোগিতা করেছে। সবার কথা না বললেও আমি অনেকের কাছে ঋণী।
নিজের কথা বলার প্রবল ইচ্ছে সবার মতো আমারও আছে। তাই মা, বাবা,
সহধর্মিনী ছেলে মেয়ে ভাই বোন এর কথা বলেছি, অতিকথন বা অকথিত দুটোই
থাকতে পারে, লেখা যদি কারো কষ্টের কারণ হয়ে থাকে তা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত।