প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 11 Mar 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
ব্ল্যাক কফি: স্যার ক্লড অ্যামোরি উদ্ভাবন করেছেন এক প্রলয়ংকরী বিস্ফোরকের নতুন ফর্মুলা। কিন্তু সেই অমূল্য সম্পদটি হুট করে চুরি হয়ে গেল! ফর্মুলা উদ্ধারে এক বিচিত্র চাল চাললেন তিনি। লাইব্রেরি ঘরে তার সব মেহমানকে আটকে দিয়ে আলো নিভিয়ে দিলেন স্যার ক্লড। শর্ত দিলেন—অন্ধকারে চোর যেন ফর্মুলাটা যথাস্থানে রেখে দিয়ে যায়, কেউ কোনো প্রশ্ন করবে না। কিন্তু আলো জ্বলতেই সবার পিলে চমকে গেল—চেয়ারে নিথর হয়ে পড়ে আছেন স্যার ক্লড, মৃত তিনি! খুনিকে খুঁজে বের করতে আর বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা এক মহাবিপদ রুখতে তদন্তে নামলেন এরকুল পোয়ারো আর তার বিশ্বস্ত সহকারী ক্যাপ্টেন হেস্টিংস। পারিবারিক শত্রুতা, পুরনো প্রেম আর রহস্যময় বিদেশিদের এই গোলকধাঁধায় আসল অপরাধী কে? জট কি খুলতে পারবেন পোয়ারো?
ফাইভ লিটল পিগস: ক্যারোলিন ক্রেলকে নিজের স্বামীকে বিষ খাইয়ে মারার দায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আসলেও কি তিনি অপরাধী ছিলেন? সন্দেহভাজন ছিল আরও পাঁচজন। পোয়ারোর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে একটা পুরনো ছড়া, যার সাথে জড়িয়ে আছে এই পাঁচজন—শেয়ার বাজার নিয়ে মত্ত স্টকব্রোকার ফিলিপ ব্লেক, গাছগাছড়া নিয়ে মেতে থাকা মেরেডিথ ব্লেক, তিনবার ডিভোর্স হওয়া এলসা গ্রিয়ার, নিষ্ঠাবান গৃহশিক্ষিকা সিসিলিয়া উইলিয়ামস এবং ক্যারোলিনের বিকৃত চেহারার বোন অ্যাঞ্জেলা ওয়ারেন। ঘটনাটা ষোলো বছর আগের, কিন্তু পোয়ারোর ঝানু মস্তিষ্ক বলছে কোথাও কোনো বড়ো ভুল হয়ে গেছে।
ওয়ান, টু, বাকল মাই শু: ডেন্টিস্টের লাশের ডান কপালে একটা পোড়া গর্ত, মেঝেতে পড়ে আছে পিস্তল। ওদিকে কিছুক্ষণ পরেই তার এক রোগীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল—শরীরে ওষুধের মারাত্মক ডোজ! আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে দন্তচিকিৎসক রোগীকে খুন করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভরা অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝে একজন ডাক্তার কেন এমন কাজ করবেন? রহস্যের মোড় ঘুরিয়ে দিল একটি জুতোর বাকল। পোয়ারো কি পারবেন এলোমেলো সব জট ছাড়িয়ে সত্যটাকে বের করে আনতে?
'দ্য কুইন অব ক্রাইম' ও 'দ্য কুইন অব মিস্ট্রি' নামে পরিচিত আগাথা ক্রিস্টি অপরাধ বিষয়ক বা রহস্য উপন্যাস রচনার ক্ষেত্রে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর পুরো নাম আগাথা মেরি ক্ল্যারিসা ক্রিস্টি৷ বিখ্যাত এই ইংরেজ লেখিকা সকল গোয়েন্দাগল্প ও রহস্যকাহিনী পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তাঁর অসাধারণ লেখনীর মাধ্যমে। তিনি বেশ বিখ্যাত কিছু চরিত্রের স্রষ্টা, যাদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো এবং মিস মার্পল, যাদের নাম শোনা যায় গোয়েন্দাকাহিনী পাঠকদের মুখে মুখে। 'ম্যারি ওয়েস্টমাকট' ছদ্মনাম ব্যবহারকারী এই প্রখ্যাত লেখিকা ১৮৯০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ডেভন এ জন্মগ্রহণ করেন। আগাথা ক্রিস্টি এর বই সমূহ মূলত রোমাঞ্চ, হত্যারহস্য, অপরাধ ও গোয়েন্দাকাহিনী এবং রোমান্টিক ঘরানার। 'গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী আগাথা ক্রিস্টির বই বিশ্বের ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রিত বই এবং এক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে শুধু আরেক কিংবদন্তী সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপিয়ারকেই ধরা যায়। আগাথা ক্রিস্টি এর বই সমগ্র এর সংখ্যা প্রায় আশিটি। আগাথা ক্রিস্টি রচনাসমগ্র এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দ্য মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার এট স্টাইলস, দ্য মার্ডার অফ রজার অ্যাকর্ড, দ্য বিগ ফোর, দ্য মিস্ট্রি অফ দ্য ব্লু ট্রেন, পেরিল এট এন্ড হাউস, মার্ডার ইন মেসোপটেমিয়া, ডেথ অন দ্য নাইল, অ্যাপয়েন্টমেন্ট উইথ ডেথ, এরকুল পোয়ারোজ ক্রিসমাস, স্যাড সাইপ্রাস, দ্য মার্ডার অ্যাট দ্য ভিকারেজ, দ্য বডি ইন দ্য লাইব্রেরি, দ্য মুভিং ফিংগার, এ মার্ডার ইজ এনাউন্সড, দে ডু ইট উইথ মিররস, এ পকেট ফুল অফ রাই, ৪:৫০ ফ্রম প্যাডিংটন, নেমেসিস ইত্যাদি। আগাথা ক্রিস্টি সমগ্র এর মধ্যে আরো রয়েছে বিখ্যাত সব নাটক, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা দৈর্ঘ্যের নাটক 'দ্য মাউজট্র্যাপ'। আগাথা ক্রিস্টি অনুবাদ বই এর সংখ্যাও অনেক, এমনকি ইউনেস্কোর বিবৃতি অনুযায়ী তাঁর বইগুলো সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর বাংলা ভাষায় অনূদিত বইয়ের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। অনূদিত আগাথা ক্রিস্টি বাংলা বই এর মধ্যে 'সিরিয়াল কিলার', 'গেম ওভার', 'পোয়েটিক জাস্টিস', 'খুনের তদন্ত', 'মার্ডার ইন মেসোপোটেমিয়া', 'থ্রি ব্লাইন্ড মাইস', 'এ বি সি মার্ডার' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য৷ সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৭১ সালে তিনি 'ডেম' উপস্থিতিতে ভূষিত হন। ১৯৭৬ সালের ১২ জানুয়ারি আগাথা ক্রিস্টি ৮৫ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারে মৃত্যুবরণ করেন।