প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 28 Mar 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
মিস্টেরিয়াস মি. কুইন: থার্টি-ফার্স্ট নাইটের পার্টি জমে উঠেছে। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা বারোটার ঘর ছোঁয়ার আগেই মিস্টার স্যাটার্থওয়েট বুঝতে পারলেন—আসল নাটক এখনো বাকি। মানুষের চরিত্র বুঝতে ওর জুরি নেই, অভিজ্ঞ চোখ বলছে: পর্দার আড়ালে কোনো এক রহস্য দানা বাঁধছে। ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল এক রহস্যময় আগন্তুকের। কে এই মিস্টার কুইন? লোকটা যেন স্রেফ আলোর কারসাজি, এই আছে তো এই নেই। তার উপস্থিতি মানেই বড়ো কোনো ঘটনার পূর্বাভাস—কখনো সেটা আশীর্বাদ হয়ে আসে, আবার কখনো ডেকে আনে চরম বিপদ!
অ্যাট বার্ট্রামস হোটেল: লন্ডনের পুরনো আমলের হোটেলটার আভিজাত্য আর জাঁকজমক দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কী ঘুণ ধরেছে। মিস মার্পল ছুটি কাটাতে এসে বার্ট্রাম হোটেলে যা খুঁজছিলেন তার সবই পেলেন—ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা আর নিখুঁত সেবা। কিন্তু ঝকঝকে পালিশ করা সেই আভিজাত্যের আড়ালে তিনি টের পেলেন বিপদের এক অশুভ ইঙ্গিত। একজন খ্যাপাটে অতিথি ভুল দিনে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হতেই শুরু হয়ে গেল হাড়হিম করা সব ঘটনা। মিস মার্পলও কি আন্দাজ করতে পেরেছিলেন, এর শেষ হবে এক বীভৎস খুনের মধ্য দিয়ে?
এরকুল পোয়ারো'জ ক্রিসমাস: বড়োদিনের আগের রাত। লি পরিবারের আনন্দ-উৎসব মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল ওপর তলায় আসবাবপত্র ভাঙার বিকট শব্দে। পরক্ষণেই ভেসে এলো কলিজা কাঁপানো এক আর্তনাদ। ঘরে গিয়ে দেখা গেল, মেঝেতে রক্তের পুকুরে পড়ে আছেন নিষ্ঠুর বুড়ো সিমিয়োন লি, তার গলা কাটা। তদন্তে নামলেন এরকুল পোয়ারো। কিন্তু সেখানে শোকের কোনো চিহ্ন নেই, বরং ছড়িয়ে আছে পারস্পরিক সন্দেহের বিষবাষ্প। দেখা গেল, পরিবারের প্রত্যেকেরই বুড়োকে ঘৃণা করার মতো যথেষ্ট কারণ ছিল। খুনি কি তবে ঘরেরই কেউ? শুরু হলো পোয়ারোর মগজের খেলা।
'দ্য কুইন অব ক্রাইম' ও 'দ্য কুইন অব মিস্ট্রি' নামে পরিচিত আগাথা ক্রিস্টি অপরাধ বিষয়ক বা রহস্য উপন্যাস রচনার ক্ষেত্রে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর পুরো নাম আগাথা মেরি ক্ল্যারিসা ক্রিস্টি৷ বিখ্যাত এই ইংরেজ লেখিকা সকল গোয়েন্দাগল্প ও রহস্যকাহিনী পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তাঁর অসাধারণ লেখনীর মাধ্যমে। তিনি বেশ বিখ্যাত কিছু চরিত্রের স্রষ্টা, যাদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো এবং মিস মার্পল, যাদের নাম শোনা যায় গোয়েন্দাকাহিনী পাঠকদের মুখে মুখে। 'ম্যারি ওয়েস্টমাকট' ছদ্মনাম ব্যবহারকারী এই প্রখ্যাত লেখিকা ১৮৯০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ডেভন এ জন্মগ্রহণ করেন। আগাথা ক্রিস্টি এর বই সমূহ মূলত রোমাঞ্চ, হত্যারহস্য, অপরাধ ও গোয়েন্দাকাহিনী এবং রোমান্টিক ঘরানার। 'গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী আগাথা ক্রিস্টির বই বিশ্বের ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রিত বই এবং এক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে শুধু আরেক কিংবদন্তী সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপিয়ারকেই ধরা যায়। আগাথা ক্রিস্টি এর বই সমগ্র এর সংখ্যা প্রায় আশিটি। আগাথা ক্রিস্টি রচনাসমগ্র এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দ্য মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার এট স্টাইলস, দ্য মার্ডার অফ রজার অ্যাকর্ড, দ্য বিগ ফোর, দ্য মিস্ট্রি অফ দ্য ব্লু ট্রেন, পেরিল এট এন্ড হাউস, মার্ডার ইন মেসোপটেমিয়া, ডেথ অন দ্য নাইল, অ্যাপয়েন্টমেন্ট উইথ ডেথ, এরকুল পোয়ারোজ ক্রিসমাস, স্যাড সাইপ্রাস, দ্য মার্ডার অ্যাট দ্য ভিকারেজ, দ্য বডি ইন দ্য লাইব্রেরি, দ্য মুভিং ফিংগার, এ মার্ডার ইজ এনাউন্সড, দে ডু ইট উইথ মিররস, এ পকেট ফুল অফ রাই, ৪:৫০ ফ্রম প্যাডিংটন, নেমেসিস ইত্যাদি। আগাথা ক্রিস্টি সমগ্র এর মধ্যে আরো রয়েছে বিখ্যাত সব নাটক, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা দৈর্ঘ্যের নাটক 'দ্য মাউজট্র্যাপ'। আগাথা ক্রিস্টি অনুবাদ বই এর সংখ্যাও অনেক, এমনকি ইউনেস্কোর বিবৃতি অনুযায়ী তাঁর বইগুলো সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর বাংলা ভাষায় অনূদিত বইয়ের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। অনূদিত আগাথা ক্রিস্টি বাংলা বই এর মধ্যে 'সিরিয়াল কিলার', 'গেম ওভার', 'পোয়েটিক জাস্টিস', 'খুনের তদন্ত', 'মার্ডার ইন মেসোপোটেমিয়া', 'থ্রি ব্লাইন্ড মাইস', 'এ বি সি মার্ডার' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য৷ সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৭১ সালে তিনি 'ডেম' উপস্থিতিতে ভূষিত হন। ১৯৭৬ সালের ১২ জানুয়ারি আগাথা ক্রিস্টি ৮৫ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারে মৃত্যুবরণ করেন।