জীবনে এমন কিছু কথা থাকে, যা কখনো মুখে বলা যায় না। আবার এমন কিছু কান্নাও আছে, যা চোখের জল হয়ে ঝরে পড়ে না; বরং নীরবে বুকের ভেতর জমে থাকে। “ভাঙ্গা মন থেকে বলছি” সেই জমে থাকা অজানা কান্নাগুলোরই ভাষা হয়ে উঠতে চেয়েছে। এই বই কোনো কল্পনার গল্প নয়, এটি এক ভাঙা হৃদয়ের নীরব সাক্ষ্য, যেখানে প্রতিটি শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে অভিমান, হারিয়ে ফেলার ব্যথা, একাকীত্বের ভার এবং অশ্রুর অদৃশ্য দাগ।
জীবনের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে আমি বুঝেছি, যে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, সে-ই সবচেয়ে বেশি ভাঙে। যে স্বপ্ন দেখতে সাহস করে, আঘাতও তাকেই সবচেয়ে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তবুও মানুষ থেমে থাকে না। কারণ ভেঙে যাওয়ার মাঝেও বেঁচে থাকার এক অদ্ভুত শক্তি লুকিয়ে থাকে, যা মানুষকে আবার সামনে এগিয়ে যেতে শেখায়।
আমি জানি, এই দুঃখ শুধু আমার একার নয়। আমার মতো অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন মুখে হাসি ধরে রাখে, অথচ ভেতরে ভেতরে নিঃশব্দে ভেঙে পড়ে। তাদের না বলা কান্নার সাক্ষী থাকে শুধু রাতের অন্ধকার। এই বই তাদের জন্য, যারা কাউকে কিছু বলতে পারে না, তবুও বুকের ভেতর পাহাড়সম কষ্ট বয়ে বেড়ায়। আমি চাই, যখন কেউ এই লেখাগুলো পড়বে, তখন সে অনুভব করুক—সে একা নয়। তার দুঃখ, তার কান্না, তার ভাঙা মন—এসব অনুভূতির পথেই আমিও হেঁটেছি।
আমার বিশ্বাস, প্রতিটি অশ্রুর ভেতরেই কোনো না কোনো আলো লুকিয়ে থাকে। মানুষ যতবার ভাঙে, ততবারই শেখে আবার নতুন করে গড়ে উঠতে। “ভাঙ্গা মন থেকে বলছি” হয়তো কারও ক্ষত সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলতে পারবে না, কিন্তু অন্তত মনে করিয়ে দিতে পারবে—এই লড়াইয়ে কেউ একা নয়। প্রতিটি কান্নার একটি কারণ আছে, প্রতিটি দুঃখের একটি অর্থ আছে।
এই বই আমার ব্যক্তিগত সত্যের প্রকাশ, আবার একই সঙ্গে প্রতিটি ভাঙা হৃদয়ের কণ্ঠস্বর। যদি কোনো পাঠক শব্দের ভেতর নিজের লুকানো কান্নাকে খুঁজে পান, তবে এই লেখার উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে।
জিয়াম আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন ১০ই ডিসেম্বর, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জে। তাঁর শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে ঢাকার সাভার উপজেলার নবীনগর এলাকার কুরগাঁও পুরাতন পাড়ায়। ছোটবেলা থেকেই জীবন, মানুষ এবং সম্পর্ককে গভীরভাবে অনুভব করার প্রবণতা তাঁর ভেতরে তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে তাকে লেখালেখির জগতে নিয়ে আসে।
জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, অনুভূতির টানাপোড়েন, নীরব বেদনা এবং হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতিই তাঁর লেখার প্রধান অনুপ্রেরণা। তিনি বিশ্বাস করেন—মানুষের না বলা অনুভূতিগুলোই সবচেয়ে সত্য, আর সেই সত্যকে শব্দে প্রকাশ করাই লেখকের দায়িত্ব। তাই তাঁর লেখায় বারবার ফিরে আসে ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, একাকীত্ব এবং আত্মসংলাপের গভীর প্রকাশ।
ইতোমধ্যে তাঁর একটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে— ‘দুঃখ হয়ে থাকি আমি’। বইটিতে মানবিক অনুভূতি, জীবনের বিষণ্ন বাস্তবতা এবং হৃদয়ের নীরব কথাগুলো সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষায় উঠে এসেছে, যা পাঠকের অনুভূতির সঙ্গে এক আত্মিক সংযোগ তৈরি করে।
সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজের অনুভব, সময় এবং জীবনের অদেখা গল্পগুলো পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর একান্ত ইচ্ছা। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিটি মানুষ নিজের ভেতরে এক একটি অসমাপ্ত গল্প বহন করে—আর সেই গল্পগুলোকেই শব্দে জীবন্ত করে তোলাই একজন লেখকের প্রকৃত সাধনা।