বিভিন্ন গবেষণা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যায়: একজন নিয়োগদাতা বা রিক্রুটার একটি সিভির উপর মাত্র ৬ সেকেন্ড সময় ব্যয় করেন। হ্যাঁ, মাত্র ছয় সেকেন্ড। এই সামান্য সময়ের মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত নেন যে আপনার সিভিটি আরও মনোযোগ দিয়ে পড়বেন নাকি তা বাতিল করবেন। এই ৬ সেকেন্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ সময় তারা কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় খেয়াল করেন। আপনার নাম, বর্তমান ও পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের পদবি, কোম্পানির কাজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এবং আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতাসংশ্লিষ্ট তথ্যের দিকে নজর দেয়া হয়। পেশাদারভাবে সাজানো মানে ফরম্যাট করা সিভি চাকরির জন্য মৌখিক পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক পাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার সিভি যদি মাত্র ৬ সেকেন্ডে নিয়োগকর্তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে না পারে, তবে অনেক ভালো ডিগ্রি বা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ হারাতে পারেন।
সিভি তৈরি আসলে কোনো সহজ কাজ নয়। আবার এটা এমন কোনো দক্ষতা নয়, যা আপনি জন্ম থেকে জানেন। চাকরি অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের একটি সিভি। সফলভাবে চাকরি পেতে আপনাকে অবশ্যই সিভি তৈরির বিশেষ দক্ষতা ভালোভাবে জানতে হবে। আপনি যদি এই বই বা টুলকিট অনুসরণ করেন, তাহলে অতিরিক্ত কোনো খরচ না করে একটি চমৎকার সিভি তৈরি করতে পারবেন। মনে রাখবেন, সিভির দৈর্ঘ্য পরিবর্তনশীল ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। সাধারণত, একজন নতুন গ্র্যাজুয়েটের সিভি ২ থেকে ৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত হতে পারে। একজন প্রবীণ অধ্যাপকের সিভি ১০ বা তার বেশি পৃষ্ঠা হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
আমি পেশাগত কারণে অনেক সিভি দেখার সুযোগ পাই। আমার অভিজ্ঞতা বলে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর সিভির মধ্যে মাত্র ২০ ভাগ সিভিই নিয়োগদাতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। অধিকাংশ প্রার্থীর সিভিতে প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। মনে রাখবেন, চমৎকার একটা সিভি চাকরির প্রতিযোগিতায় আপনাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে।
আমি আপনাকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গোপন কথা বলতে চাই: সিভি লেখার কোনো একক বা একমাত্র সঠিক কোনো উপায় নেই। আপনি আপনার সিভির কার্যকারিতা সম্পর্কে সাতজন বিশেষজ্ঞকে প্রশ্ন করলে আপনি দশটি ভিন্ন মতামত পাবেন। বিভিন্ন শিল্পখাত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগদাতার পছন্দের ভিন্নতা থাকে। সিভি তৈরির নানান বিষয় জানার জন্য এই বই পড়ার সময় কোনো কিছু বুঝতে না পারলে বা নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্ন থাকলে [email protected] ইমেইল ঠিকানায় প্রশ্ন লিখুন।
আপনার পথচলা শুভ হোক।
ড. খালেদ মাহমুদ
অধ্যাপক
ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়