ঢাকার ভোর তখন কুয়াশার চাদরে আধো-অন্ধকার। মালিবাগের মোড় থেকে এক তরুণী কোনো কথা না বলে রিকশায় উঠে পড়ে, তার মুখ সাদা শালে আধা-ঢাকা। মগবাজারের ঢালু রাস্তায় রিকশা যখন ধীরলয়ে নামছে, রিকশাওয়ালা হঠাৎ খেয়াল করে পেছনের যাত্রী নিথর, নিশ্চুপ। তরুণীর সাদা শালের নিচ থেকে ঝুলে থাকা পাণ্ডুর হাতের আঙুলে শক্ত করে ধরা একটি সাদা কাগজ। তাতে কোনো সাধারণ ছবি নেই, আছে এক 'চোখহীন মুখ'—যেখানে চোখের বদলে কেবল দুটি গভীর কালো গর্ত। স্কেচের নিচে রক্তে লেপ্টে থাকা একটি বাক্য শহরের নিস্তব্ধতাকে চিরে দেয়: "সে ফিরে এসেছে"।
ঠিক সেই মুহূর্তে কুয়াশা ফুঁড়ে উদয় হয় গ্লাভস পরা এক রহস্যময় সাদা পোশাকের মানুষ, যার শীতল কণ্ঠ আর নির্লিপ্ত উপস্থিতি জানান দেয় সে সব জানে । পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সে ভোরের কুয়াশায় মিলিয়ে যায়, রেখে যায় এক লাওয়ারিশ লাশ আর মুছে যাওয়া সব চিহ্ন ।
তদন্তে নামা সাংবাদিক রিধিমা সেনের ডেস্কে এসে পৌঁছায় এক বেনামী ইউএসবি ড্রাইভ । ল্যাপটপে সেটি চালাতেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে মাত্র ৬ সেকেন্ডের এক ঝাপসা ভিডিও—'clip_06.mp4' । সেখানে দেখা যায়, এক দীর্ঘকায় মুখহীন ছায়া-মানব একটি নিথর মেয়েকে ফুটপাতে ফেলে দিয়ে যাচ্ছে । ভিডিওর শেষে কালো স্ক্রিনে ফুটে ওঠে সেই একই বার্তা: 'HE IS BACK' ।
রিধিমা শিউরে ওঠে; ছয় বছর আগে ধামাচাপা পড়া এক ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার 'Shadow Artist' কি তবে সত্যিই ফিরে এল? তদন্তের গভীরে গিয়ে প্রাক্তন ইনভেস্টিগেটিভ ডিআইজি শায়ান আর রিধিমা আবিষ্কার করেন এক অবিশ্বাস্য সত্য—'চিত্রময়ী' । এটি কোনো সাধারণ মানুষ নয়, বরং মানুষের আবেগ, স্মৃতি আর চোখের দৃষ্টি 'চুরি' করে তৈরি করা এক ভয়ংকর কৃত্রিম সত্তা বা এআই প্রজেক্ট ।