শহর জুড়ে নেমেছে আতঙ্ক। রক্তে রঞ্জিত এক মৃত্যুর মিছিল। একের পর এক শোকের কালো ছায়া। বাতাসে বাতাসে ছড়িয়ে যাচ্ছে রক্তের ভেজা আর তাজা তাজা ঘ্রাণ। ১৬ থেকে ২০ বয়সি কুমারি মেয়েরা হচ্ছে সব নিখোঁজ। স্বজনদের তীব্র আর্তনাদে শহরের প্রতিটি দেওয়ালের কোণা জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে যেন বিষাদের তীব্র শোক। কে নেমেছে এই নৃশংসতার সঙ্গে রক্তে হাত ডুবানো মৃত্যুর খেলায়? কার শ্বাস মিশে আছে এতে? কে করছে একের পর এক নিরহ মেয়েগুলিকে গুম? কার খেলার গুটি হচ্ছে এই সরলা, নিরপরাধ, নিষ্পাপ মেয়েগুলি? কি উদ্দেশ্য তার? কোন শক্তির হাত আছে এর পেছনে? সে কোন অশরীরী শক্তি কী! নাকি সে রক্তে মাংসে গঠিত কোন এক নরমানব?
তখন বাদলের রাত। পোল্যান্ড শহর জুড়ে নেমেছে ঘন বর্ষণধারা। বাহিরে তুফান হচ্ছিল৷ মি. থমাসের নিদ্রাটা সবে গাঢ় করে চক্ষুকূলে ধরা দিতে যাচ্ছিল। সেই সময়ে বাড়ির সদর দ্বার ঠকঠক শব্দের নৃত্য করে ওঠল। একবার নয়, দুবার নয়। মোট তিন তিনবার। থমাসের চক্ষু দুটো সঙ্গে সঙ্গে চট করে খুলে গেল। ঔৎসুক্যে একাকার সে। রজনীর এই মধ্যপ্রহরে বাড়ির অলিন্দে কে এলো? কোন অশুভ ছায়ার পথচরণ পড়ল তার বদ্ধ কুঠিরের অলিন্দে! ঘরে যুবতি সম্পূর্ণ মেয়ে। উদ্বিগ্নে তার ভারিক্কি মুখজে অমানিশার ছায়া। দরজা খুলতেও সুদৃঢ় দ্বিধা, মতানৈক্য। পরাণে জাগে ভয়ের সুতীব্র আন্দোলন। তবুও মনের কুঠিরে সব সাহসটুকু গড়ে তোলে। লাঠি হাতে উদ্যত হয় দ্বার খুলতে। মনের ভেতরে হাজারটা দ্বিধাদ্বন্দ্বের দোটানা রেখেই চট করে দরজাটি খুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান হয় এক অচেনা রহস্যময় মানবের। যার পুরো শরীর ছিল কালো পোশাকে আবৃত। বৃষ্টিতেও ভেজা। গা চুয়ে চুয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলবিন্দুগুলো ঝরছিল। অক্ষি দুটি অন্ধকারের মাঝেও বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গের সঙ্গে নিদারুণভাবে জ্বলজ্বল করে জ্বলছিল। পাশে দাঁড়িয়ে ছিল হিংস্র এক চারপায়া পশু। যার ধারালো নখ আর সুচালো দাঁতের এক থাবায় প্রাণনাশ হওয়া অতি সুনিশ্চিত। মি. থমাসের চক্ষুদেশ অতি চমকপ্রদ আর বিস্ময়ের আশ্চর্যান্বিতে ছাপিয়ে যায়। ভীত-সন্তন্ত্রে তার অন্তঃকরণ উৎকণ্ঠিত হয়ে ওঠল। শুকনো ঢোক গিললও পর পর। নিজেকে সংযত করে নেয় সে। বারিশূণ্য ওষ্ঠাগত জিভের তলে চুবিয়ে নেয়। তৎপর কম্পিত অধর জোড়া ফুঁড়ে বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গের ন্যায় বেরিয়ে আসে দুটো শব্দের এক ঝাঁঝাল বাক্য।
“কে তুমি?”
রহস্যময় মানবটি বুঝি নিঃশব্দে সুতনু ওষ্ঠজোড়া ছড়িয়ে এক চিলিক হাসল। লম্বা হুডির ভাঁজেই মিলিয়ে যায় ওষ্ঠের নিঃশব্দ সেই হাসিটুকু। তাৎক্ষণিক হুডির আড়ালে থাকা বদনখানি দুই ফাঁক হয়ে বেরিয়ে আসে ভারিক্কি গলার উৎকণ্ঠিত শব্দ দুটি।