‘কিছু স্মৃতি, কিছু কথা’- গ্রন্থখানি খুবই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে লিখিত আমার কতিপয় প্রবন্ধের সংকলন। সময়কাল ২০২০ ইংরেজি সনের এপ্রিল-মে মাস। পৃথিবীব্যপী করোনা মহামারীর কারণে বাসায় বন্দী হয়ে অগত্যা বিভিন্ন বিষয়ে লিখতে শুরু করেছিলাম। ৩ পুরানা পল্টনের বাসায় বসে সেসব লেখা হয়েছিল। মাত্র একটি প্রবন্ধ ‘মিরসরাই ও আমার প্রত্যাশা’ লিখিত হয়েছে ২০২১ এ এসে, ১৬/১ পুরানা পল্টন লেনের বাসায় বসে।
পুস্তকটিতে আমার জীবনের কিছু স্মৃতি, আর সেসবকে ঘিরে আমার কিছু কথা স্থান পেয়েছে। সম্মিলিতভাবে দাঁড়িয়েছেÑ ‘কিছু স্মৃতি, কথা কথা’। অধিকাংশ লেখা ফেসবুকের মাধ্যমে পাঠকমহল পূর্বেই পড়ার সুযোগ পেয়েছিল। কেউ কেউ সেখানে বিভিন্ন মন্তব্য করেছিল। নতুন নতুন বিষয়ে লিখতে বলেছিল। একজন লিখেছিল- “আপনার লেখার হাত ভালো। বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন নিয়ে একটি লেখা লিখেন।” আরেকজন লিখেছিল- “দেশের বিচারব্যবস্থায় সংস্কার নিয়ে লিখেন।” কিন্তু সেসব আর লেখা হয়নি।
ভেবেছিলাম ২০২১ এ বই আকারে প্রবন্ধগুলো ছাপাব। কিন্তু অর্থ সংকুলান না হওয়াতে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এদিকে ছাপার অভাবে আমার অসংখ্য লেখা হারিয়ে গেছে। কিছুদিন আগে একবার হিসেবে করে দেখি- জীবনে যা লিখেছি তার পঞ্চাশ শতাংশ এখন আর খুঁজে পাইনে। এ আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও স্মৃতির অগোচরে রয়ে যাওয়া বহু লেখা পুনরায় আর স্মৃতিতে আনতে পারিনি। তাই বিক্ষিপ্ত লেখাগুলো অতিদ্রুত মলাটবন্দী করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারই ধারাবাহিকতা এ গ্রন্থখানি।
গ্রন্থখানির প্রাণশক্তি এর সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধগুলোই। ছোট হলেও প্রত্যেকটি লেখার একটি পৃথক সত্ত্বা রয়েছে। এসকল প্রবন্ধে নিজের একান্ত কিছু স্মৃতির আড়ালে পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলার চেষ্টা করেছি মাত্র। প্রয়োজনের তাগিতে লেখার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরতে হয়েছে। এতে কেউ কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলে, অপমানিত বোধ করলে, ক্ষমাপ্রার্থী। এসকল বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই কোনো কিছু এড়িয়ে না গিয়ে, যা সত্য, যা বাস্তবতা তাই তুলে ধরেছি মাত্র। গ্রন্থখানি পড়ে পাঠক কী পেল তার উত্তর ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দিলাম।
গ্রন্থখানি উৎসর্গ করেছি আমার মমতাময়ী মা বেগম রোকেয়া’র উদ্দেশ্যে, যাঁর দোয়ায় আজ আমি বর্তমান অবস্থানে এসে পৌঁছেছি। মা’য়ের অসীম মমত্ববোধ ব্যতীত আমার জীবন অপূর্ণই থেকে যেত।
সরওয়ার নিজামী একাধারে একজন লেখক, আইন গবেষক, আইনজীবী, সংগঠক এবং সমাজকর্মী। পুরো নাম মোহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন নিজামী। আইন পেশা এবং আইন অঙ্গনে লেখালেখি ও গবেষণার ফাঁকে ফুরসত পেলে সাহিত্য চর্চায় মনোযাগী হন তিনি। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পর্কিত আইন, আইনের জীবন ও দর্শন, চলচ্চিত্রে আইন- এর মতো তাঁর লিখিত গবেষণাধর্মী বহুল জনপ্রিয় আইন বই রয়েছে বাজারে। এছাড়া তিনি দু’টি আন্তর্জাতিক আইন গবেষণা জার্নালের সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। সাহিত্যের কোমল বনে আইনের কর্কশ উপস্থিতি ঠিক মানানসই না হলেও তিনি এ দু’য়ের মধ্যে একটি মেলবন্ধনের চেষ্ঠা করে চলেছেন। আইনকে সাহিত্যের ছাঁচে ফেলে পাঠকের নিকট নতুন ধাঁচে উপস্থাপন করতে পারলে আইনপাঠ আরও বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে বলে তাঁর ভাবনা।
কর্মজীবনে সরওয়ার নিজামী পুরোদস্তুর একজন আইনজীবী। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আইন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লিগ্যাল ডেভেলাপমেন্ট (বিল্ড) প্রতিষ্ঠা করে এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুখ্য আইন গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। বিল্ড ল’ জার্নালের মাধ্যমে দেশকে এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম স্কোপাস ইনডেক্সড ল’ জার্নালের স্বীকৃতি। আইন পেশা ও লেখালিখির বাইরেও সরওয়ার নিজামী বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার সর্ববৃহৎ শিক্ষাবান্ধব সামাজিক সংগঠন ‘প্রজন্ম মীরসরাই’ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক তিনি। এছাড়াও তিনি মীরসরাই এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম এর আজীবন সদস্য, মীরসরাই সমিতি, ঢাকা এর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মীরসরাই উপজেলা প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংগঠনের প্রধান উপদেষ্ঠা, মাজেদা হক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের উপদেষ্টা, ঢাকা ট্যাক্স বার এসোসিয়েশনের সদস্য, বাংলাদেশ কোম্পানি ল’ প্র্যাকটিশনার্স সোসাইটির সদস্য।