জীবন থেকে চলে যায়ও কিছু সময় খুবি গুরুত্বপূর্ণ হইয়ে উঠে, আবার কিছু সময় খুবি বিরক্তিকর মনে হয়। আসলে সুখ দুঃখের দোলাচালেই মানুষের জীবন। মূলত পরিস্থিতি যেভাবে গড়ায়, জীবনটাকে ঠিক সেভাবেই উপভোগ করতে হয়।
‘সুবোধ’। গল্প প্রিয় এবং উদার মনোভাব সম্পন্ন একজন মানুষ। ব্যস্ততার অবসরে মন অন্তর যখন উদাসীন থাকে, সহকর্মীদের সাথে গল্পরসে দিব্যি কেটে যায় সময়। বর্তমানে বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে চাকুরি করছে। এয়ারপোর্টে চাকুরির পূর্বে বিদেশে কর্মরত ছিলো দীর্ঘদিন। কর্মজীবনে পদার্পণ অনেক আগে হলেও, বাংলাদেশে চাকুরি করার অভিজ্ঞতা এই প্রথম। সাধারণ একজন কর্মচারী হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করলেও অল্প কিছু দিনেই চাকুরিতে নিজের অবস্থান বেশ উন্নতি করেছে, যা যতসামান্য নয়। সুবোধ মূলত ‘কোরোনা মহামারীর’ কারণে বিদেশে থেকে দেশে চলে আসে। এর পর আর বিদেশ ফিরে যাওয়া হয়নি। যদিও সুবোধের নৈমিত্তিক জীবনে চাকুরিটা এখন খুবি গুরুত্ববহ। তবে ইচ্ছে ছিলো সুবোধের নিজস্ব একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হবে। কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠে না। পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাব খাইয়ে নেওয়া, এবং এক প্রকার বাদ্য হয়েই চাকুরিটা নেয়।
প্রতিদিন পায়ে হেঁটে ডিউটিতে যায়, আবার পায়ে হেঁটেই বাসায় ফিরে। কর্মস্থল হইতে সুবোধের বাসা প্রায় বিশ পঁচিশ মিনিটের রাস্তা। সকাল বেলা ডিউটিতে যেতে ভালোই লাগে কিন্তু ডিউটি শেষে পায়ে হেঁটে বাসায় ফেরার বেপারটা খুবি ক্লান্তির এবং বিরক্তিকর। রিস্কায় উঠলে দশ টাকা গুনতে হয়, বাসা থেকে কর্মক্ষেত্রে আসা যাওয়ার ভাড়া বিশ টাকা। মূলত প্রতিদিন বিশ টাকা বাঁচাতে পায়ে হেঁটেই কর্মস্থলে যাওয়া আসায় অভ্যস্থ। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর, সুবোধ টাকা পয়সা খরচে বেশ হিসাবি হয়ে গেছে। কষ্ট হলেও যথাসম্ভব খরচ খুব কম করার চেষ্টা করে। কেনো, না প্রতিদিনের খরচের টাকা বাঁচিয়ে একটি মটর সাইকেল কেনার জন্যে টাকা জমাচ্ছে।।