মানবজাতি তার অস্তিত্বের গভীরে চিরন্তন কিছু প্রশ্ন বহন করে—আমি কে, কে আমাকে সৃষ্টি করেছেন, কেন সৃষ্টি করা হয়েছে, কোথা থেকে এসেছি এবং কোথায় ফিরে যাব। এসব প্রশ্নের উত্তর অনিশ্চিত হলে মানুষের চিন্তা, নৈতিকতা ও জীবনদর্শন অস্থির হয়ে পড়ে। পশ্চিমা আধুনিকতা এই অনিশ্চয়তাকেই ভিত্তি করেছে, যেখানে সত্য, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা পরিবর্তনশীল।
এর বিপরীতে ইসলামি আকিদা স্থায়ী ও স্রষ্টাপ্রদত্ত সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে নৈতিকতা ও সত্য মানুষের তৈরি নয়; বরং আল্লাহ নির্ধারিত সর্বজনীন বিধান। ড. উমর সুলাইমান আল-আশকারের ‘আকিদা সিরিজ’ এই সত্যকে গভীরভাবে উপস্থাপন করে এবং দেখায় যে, মানুষের পরিবর্তনশীল চিন্তা সত্যের মানদণ্ড হতে পারে না। এই সিরিজের লক্ষ্য হলো পাঠকের চিন্তার পুনর্গঠন করা, যাতে তারা বুঝতে পারে, সত্যের চূড়ান্ত উৎস আল্লাহ, এবং ইসলামি আকিদা সকল যুগ, সমাজ ও মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক ও জীবনদায়ী। আমরা আশা করি, এই সিরিজ বাংলা-ভাষাভাষী পাঠকদের মধ্যে সত্যের আলো জ্বালাবে এবং তাদের জীবনে নৈতিক দৃঢ়তা ও দিকনির্দেশনা দেবে।
শায়খ উমর সুলাইমান আল-আশকার ১৯৪০ সালে ফিলিস্তিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ (ইসলামী আইন) অনুষদের অধ্যাপক ছিলেন। এর আগে তিনি জর্ডানের আল-জারকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তাঁর পরিবার সৌদি আরবের মদিনায় স্থানান্তরিত হলে তিনি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মদিনায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি কায়রোর আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। শায়খ বিন বাজ ও শায়খ আলবানিসহ বহু খ্যাতিমান আলেমের ছাত্র ছিলেন তিনি।
ড. ওমর সুলাইমান আল-আশকার। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে ফিলিস্তিনের নাবলুস প্রদেশের ‘বারকা’ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেয়া এ মনীষী ছিলেন বিখ্যাত ফিকহ মূলনীতিবিদ মুহাম্মদ সুলাইমা আল-আশকারের সহোদর। শিক্ষাজীবনের শুরুলগ্নে ফিলিস্তিন থেকে তিনি সৌদি আরবে চলে যান। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন কিং সাওদ ইউনিভার্সিটি থেকে। এরপর সেখানকার ‘কুল্লিয়া শরিয়া’ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও শরিয়া বিষয়ে ডক্টরেট অর্জন করেন। তিনি একাধারে জর্ডান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আল-যারকা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন। ছিলেন জর্ডানের রাষ্ট্রীয় ইফতাবোর্ডের সম্মানিত সদস্য। ইসলামি আকিদা ও সমকালীন বিশ্বপ্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর গবেষণাপূর্ণ রচনাবলি আরববিশ্বে ব্যাপক ও বহুল প্রচার লাভ করেছে। ইসলামি আকিদা, সমকালীন প্রেক্ষাপট, মুসলমানদের অবস্থা এবং যুগচাহিদার প্রেক্ষিতে তাদের করণীয়-বর্জনীয় বিষয়ক বহু গ্রন্থ রচনা করেন এ বিদগ্ধ মনীষী। ১০ আগস্ট ২০১২ ইং মোতাবেক ২২ রমযান ১৪৩৩ হিজরিতে অসুস্থ অবস্থায় ৭২ বছর বয়সে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।