প্রাচীনকালের মানুষ কৃষিবিজ্ঞান কিংবা কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে মাথা ঘামাত না; বনে জঙ্গলে যে ফলমূল আর জীবজন্তু পাওয়া যেত তা দিয়েই জীবন চলত তাদের। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক মানুষ চাষাবাদ করতে শিখেছে। উন্নত ফসল ফলানোর জন্য তারা নানা পথ, পদ্ধতি ও প্রযুক্তির আবিষ্কার করেছে। বিজ্ঞানের ব্যবহার এখন মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিদ্যাশিক্ষার ব্যবস্থা করে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মনোভূমিতে নানা দক্ষতার আবাদ করে চলেছে যেন নাগরিকগণ রাষ্ট্রের ও সমাজের জন্য অধিক উৎপাদনশীল মানুষে পরিণত হতে পারেন। আধুনিক পিতা-মাতাও তাদের সন্তান লালন-পালনের বিষয়ে পূর্বের যে কোনো যুগের তুলনায় এখন অনেক বেশি সচেতন। তাই প্রত্যেক অভিভাবকের জন্য বিজ্ঞান ও গবেষণা ভিত্তিক প্যারেন্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশু তার পরিণত বয়সে কেমন দায়িত্ববান মানুষ হবে, কিসে তার জীবনাগ্রহ সৃষ্টি হবে, পেশাগত জীবনে সে কেমন দক্ষ কিংবা সফল হবে, কিংবা পিতা-মাতার সাথে শিশুর বন্ধন কেমন মজবুত হবে, তার সিংহভাগ নির্ভর করে শিশুটিকে ঠিক কীভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে তারই উপর। মাইন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কী, শিশু হৃদয়ের গঠন কীভাবে ঘটে, ভার্চুয়াল যুগে কিশোর-কিশোরীরা কী কী চ্যালেঞ্জিং অনুভূতির মুখোমুখি হয়, Teenage Management এ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার প্রশিক্ষণে কোন পদ্ধতি সবথেকে কার্যকর, পিতামাতা কীভাবে সন্তানের সাথে শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করতে পারেন। আচরণ বিজ্ঞানের আলোকে সেসব বিষয়ের সর্বাধুনিক গবেষণার তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে এই গ্রন্থে।