‘চলচ্চিত্রে আইন - প্রথম পর্ব' গ্রন্থখানি মূলত আইন ও চলচ্চিত্রের সম্পর্ক নিয়ে এবং এতে আইনি চলচ্চিত্র নিয়ে কতিপয় প্রবন্ধ ও পৃথিবীবিখ্যাত পাঁচটি আইন বিষয়ক চলচ্চিত্রের ওপর পর্যালোচনা স্থান পেয়েছে। পৃথিবীবিখ্যাত বহু চলচ্চিত্র মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হলেও আইনি চলচ্চিত্র নিয়ে তেমন কোনো কথা, গল্প বা আওয়াজ শোনা যায় না। এমনকি আইনের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, আইনজীবীবৃন্দও এসব চলচ্চিত্র সম্পর্কে তেমন কিছু বলে না। এই না বলার কারণ হল আমাদের আইনশিক্ষাব্যবস্থায় এসব গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো ধারণা না দেওয়া। সিলেবাসে আইনি সাহিত্য বা চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও একজন শিক্ষক চাইলে আইনঅধ্যাপনার সময় এসব চলচ্চিত্রকে রেফারেন্স বা উদাহরণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির করতে পারে। আইনের অধ্যাপকবৃন্দ চাইলে একজন শিক্ষার্থীকে আইনি সাহিত্য পড়তে বা আইনি চলচ্চিত্র দেখতে উৎসাহিত করতে পারে। এই উৎসাহ দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। অধিকন্তু এলএলবি সিলেবাসে আইনি সাহিত্য বা চলচ্চিত্র ঐচ্ছিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকলে শিক্ষার্থীদের উপকার বৈ ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
পৃথিবীর অন্তত পঞ্চাশটি শ্রেষ্ঠ আইনি চলচ্চিত্রের ওপর সেই ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ হতে পর্যালোচনা লিখে আসছি। ছয় বৎসরের চেষ্টায় এর মধ্যে চল্লিশটির মতো চলচ্চিত্রের ওপর পর্যালোচনা লেখা সম্পন্ন হলেও অত্র গ্রন্থে হাজির করেছি মাত্র পাঁচটি পর্যালোচনা। এর কারণ- বাকি পর্যালোচনাগুলো নিয়ে আরও বিশদ অধ্যয়ন ও কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। এই পঁয়-তাল্লিশটি পর্যালোচনা ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী পর্বগুলোতে স্থান পাবে। আমি আশা করি ‘চলচ্চিত্রে আইন’ গ্রন্থটির সবগুলো পর্ব প্রকাশিত হওয়ার পর আইনঙ্গন উপকৃত হবে। যাইহোক, অত্র গ্রন্থে উপস্থাপিত পাঁচটি পর্যালোচনা যে পাঁচটি চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে সেগুলো আমার দৃষ্টিতে ও আমার মতে শ্রেষ্ঠ পাঁচ আইনি চলচ্চিত্র। তাই প্রথম পর্বে আমি এই পর্যালোচনাগুলোকে স্থান দিয়েছি।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বে আইনি চলচ্চিত্র বিষয়ক আরও কতিপয় প্রবন্ধ এবং বাকি পর্যালোচনাগুলো স্থান পাবে। এসব পর্যালোচনা যাতে তথ্যসম্মৃদ্ধ ও আইনঙ্গনের উপকারে আসে সে দিকটিও আমি বিবেচনায় রাখব ইনশাআল্লাহ। গ্রন্থখানিতে যা লিখেছি তার সাহিত্যিক ও তথ্যগত গুরুত্ব কতটুকু তা বিবেচনার ভার পাঠকের হাতে। পাঠকবৃন্দ যদি আমার লেখা হতে সামান্যও উপকৃত হয় তবে আমি নিজেকে কৃতজ্ঞ মনে করব।
সরওয়ার নিজামী একাধারে একজন লেখক, আইন গবেষক, আইনজীবী, সংগঠক এবং সমাজকর্মী। পুরো নাম মোহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন নিজামী। আইন পেশা এবং আইন অঙ্গনে লেখালেখি ও গবেষণার ফাঁকে ফুরসত পেলে সাহিত্য চর্চায় মনোযাগী হন তিনি। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পর্কিত আইন, আইনের জীবন ও দর্শন, চলচ্চিত্রে আইন- এর মতো তাঁর লিখিত গবেষণাধর্মী বহুল জনপ্রিয় আইন বই রয়েছে বাজারে। এছাড়া তিনি দু’টি আন্তর্জাতিক আইন গবেষণা জার্নালের সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। সাহিত্যের কোমল বনে আইনের কর্কশ উপস্থিতি ঠিক মানানসই না হলেও তিনি এ দু’য়ের মধ্যে একটি মেলবন্ধনের চেষ্ঠা করে চলেছেন। আইনকে সাহিত্যের ছাঁচে ফেলে পাঠকের নিকট নতুন ধাঁচে উপস্থাপন করতে পারলে আইনপাঠ আরও বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে বলে তাঁর ভাবনা।
কর্মজীবনে সরওয়ার নিজামী পুরোদস্তুর একজন আইনজীবী। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আইন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লিগ্যাল ডেভেলাপমেন্ট (বিল্ড) প্রতিষ্ঠা করে এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুখ্য আইন গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। বিল্ড ল’ জার্নালের মাধ্যমে দেশকে এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম স্কোপাস ইনডেক্সড ল’ জার্নালের স্বীকৃতি। আইন পেশা ও লেখালিখির বাইরেও সরওয়ার নিজামী বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার সর্ববৃহৎ শিক্ষাবান্ধব সামাজিক সংগঠন ‘প্রজন্ম মীরসরাই’ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক তিনি। এছাড়াও তিনি মীরসরাই এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম এর আজীবন সদস্য, মীরসরাই সমিতি, ঢাকা এর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মীরসরাই উপজেলা প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংগঠনের প্রধান উপদেষ্ঠা, মাজেদা হক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের উপদেষ্টা, ঢাকা ট্যাক্স বার এসোসিয়েশনের সদস্য, বাংলাদেশ কোম্পানি ল’ প্র্যাকটিশনার্স সোসাইটির সদস্য।