জীবন একটি দীর্ঘ পথচলা, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন দ্বন্দ্ব এবং নতুন সুযোগ নিয়ে আসে। কিন্তু এই পথচলা শুধুমাত্র চলার জন্য নয়; এটি হলো নিজের মনোবল, চরিত্র এবং মূল্যবোধ বিকাশের জন্য এক অবিরাম যাত্রা। রিফাত রানা আমাদের দেখিয়েছে, কিভাবে একজন কিশোর সাধারণ স্কুল জীবনের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে, স্কাউটিং-এর অনুশীলন, নেতৃত্ব ও সেবার মাধ্যমে নিজের ভিতরের সাহস, সংযম এবং দায়িত্ববোধকে আবিষ্কার করতে পারে।
“পথচলার প্রতিজ্ঞা” মানে হলো সেই অটল শপথ যা একজন যুবক নিজেকে দেয়- ভয়কে স্বীকৃতি দিয়ে তার উপর বিজয় লাভ করা, সামাজিক অজুহাতের সামনে সত্যের পথে দাঁড়ানো, নিজের ভুল স্বীকার করে নতুন করে শুরু করা, এবং অন্যকে সাহায্য করার মধ্যে নিজের আনন্দ খুঁজে পাওয়া। এটি কেবল একটি স্কাউটের প্রতিজ্ঞা নয়; এটি যেকোনো যুবকের জন্য জীবনধারা, যা তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, সহানুভূতিশীল, এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
রিফাত রানার গল্প আমাদের শেখায়- যখন তুমি প্রতিদিন তোমার ছোট ছোট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে “সদা প্রস্তুত” থাকার চেষ্টা করবে, তখন জীবনের বড় পরীক্ষাগুলোও সহজ মনে হবে। পথচলার প্রতিজ্ঞা মানে হলোÑনিজের উপর বিশ্বাস রাখা, অন্যকে সাহায্য করা, এবং সর্বদা সঠিক কাজ করার দৃঢ় সংকল্প।
এই প্রতিজ্ঞা যুব সমাজের জন্য একটি বার্তা হিসেবে কাজ করে- সাফল্য শুধুমাত্র ব্যাজ, পদক বা পুরস্কারে সীমাবদ্ধ নয়; এটি হলো জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নৈতিক, সাহসী ও উদার হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া। একজন যুবক যদি এই প্রতিজ্ঞাকে হৃদয়ে ধারণ করে, সে কেবল নিজের জন্য নয়, সমাজ ও দেশের জন্যও পরিবর্তন আনার সক্ষমতা অর্জন করবে।
“পথচলার প্রতিজ্ঞা” হলো সেই মানসিক বীজ, যা একবার বোনা হলে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে সাহস, সততা, সংযম এবং সেবার আলো ছড়ায়। এটি যুবকদের মনে করিয়ে দেয়Ñস্কাউটিং কেবল একটি কার্যক্রম নয়, এটি জীবনভর চলার জন্য এক দিশারী প্রতিজ্ঞা।
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ ১৯৮০ সালের এপ্রিলের ১১ তারিখে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শাহাবৃদ্ধি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৯০ সালে চট্রগ্রামের নিউঝাউতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এসসি এবং ১৯৯৮ সালে অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজ থেকে স্টার মার্কসহ এইচ এস সি পাস করেন। ২০০২ সালে বাউবি থেকে বি.এজি.এড এবং ২০২২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করেন। ২০০৭ সালে মালয়শিয়া গমন করেন। মালয়শিয়ার স্মৃতিচারণমুলক তাঁর বিখ্যাত বই ‘জীবনযুদ্ধে মালয়েশিয়ে ভ্রমণ’। ২০১০ সালে বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃষি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে। ২০১৫ সালে বিট্রিশ কাউন্সিলের কানেক্টটিং ক্লাশরোম প্রজেক্টের আওতায় যুক্তরাজ্যের লিংকন ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক বিদ্যালয় পরিদর্শণ করে। ২০১৭ সালে ভারত সফর করেন। বিলেতের স্মৃতিচারণমুলক তাঁর বিখ্যাত বই ‘শ্রেণিকক্ষের খোঁজে বিলেত ভ্রমণ’। তিনি ‘শিক্ষক’,শিক্ষককতার করোনাকালীন দিনলিপি, শিক্ষকতার ঝুড়ি, শিক্ষকতার তিলক, জুলাই আগস্ট ’২৪,জীবন পুতুল খেলার গল্প, রূপবৈচিত্র বাংলাদেশ, কৃষি কবিতা, শ্রোতের মাঝে সাগর প্রভৃতি বইয়ের লেখক। সময় ও সুযোগ পেলে আরো বই প্রকাশ হবে।