এক জীবনের অবসান, অন্য জীবনে প্রাণের স্পন্দন— দ্রোহ আর ত্যাগের এক শাশ্বত উপাখ্যান!
কবিতা যখন কেবল ছন্দের কারুকাজ ছাড়িয়ে সময়ের জীবন্ত দস্তাবেজ হয়ে ওঠে, তখন কলম থেকে ঝরে পড়ে আগুনের ফুলকি আর রক্তের আলপনা। ‘অগ্নিবীজের আর্তনাদ’ তেমনি এক সংবেদনশীল কাব্যপ্রয়াস, যেখানে সমান্তরালভাবে হেঁটেছে উত্তাল সময়ের দ্রোহ এবং হৃদয়ের নিভৃততম হাহাকার।
বইটি কেন পড়বেন? এই কাব্যগ্রন্থটি মূলত দুটি ভিন্ন কিন্তু অবিচ্ছেদ্য ধারার মিলনস্থল। বইটির প্রথমার্ধে পাঠক খুঁজে পাবেন ২০২৪-এর সেই তপ্ত জুলাইয়ের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রতিচ্ছবি। রাজপথের লড়াই, শৃঙ্খল ভাঙার গান আর স্বাধীনতার নবীন সূর্যকে ছুঁয়ে দেখার যে অদম্য বাসনা—তাই এখানে ‘অগ্নিবীজ’ হয়ে ধরা দিয়েছে।
অন্যদিকে, বইটির গভীরে মিশে আছে এক মরমী মানবিক আখ্যান। এক বাবার নিঃশব্দ প্রস্থান আর তাঁর হৃদপিণ্ডের বিনিময়ে এক কন্যার নতুন জীবন পাওয়ার যে অলৌকিক ত্যাগের গল্প, তা পাঠককে নিয়ে যাবে এক বিমূর্ত অনুভূতির জগতে। এই হৃদস্পন্দনই এই কাব্যগ্রন্থের ‘অবিচ্ছেদ্য’ শক্তি।
লেখকের কলমে নতুন এক মাত্রা: প্রযুক্তি ও করপোরেট জগতের পরিচিত মুখ ‘ফ্রিল্যান্সার ওয়াহিদ’ এই বইয়ে আবির্ভূত হয়েছেন এক ভিন্ন সত্তায়। ‘নেকড়ের অফিস’ কিংবা ‘জীবনের জ্যামিতি’-র লেখক এখানে তাঁর শৈল্পিক কলমে ফুটিয়ে তুলেছেন দ্রোহ, স্মৃতি, মা এবং ত্যাগের এক অপূর্ব সমাহার। ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে তিনি যেমন সভ্যতার উত্থান-পতনকে দেখেছেন, তেমনি একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে কান পেতে শুনেছেন যান্ত্রিক শহরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।
বইয়ের কিছু উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:“আমি আগুন, আমি শিখা, আকাশভেদী দীপ্তিকা।আমি ঝড়ের বজ্রধ্বনি, অন্ধকারে আলোর বাণী।”
কাদের জন্য এই বই? যাঁরা কবিতার মাঝে সময়ের চিৎকার শুনতে চান, যাঁরা ত্যাগের মহিমায় বিশ্বাস করেন এবং যাঁরা শব্দের বুননে হৃদস্পন্দনের শব্দ খুঁজতে ভালোবাসেন— ‘অগ্নিবীজের আর্তনাদ’ তাঁদের সংগ্রহের একটি অমূল্য রত্ন হয়ে থাকবে।
বিপ্লব, রক্ত এবং অশ্রু যখন একই সুতোয় গেঁথে যায়, তখন তৈরি হয় এক ‘অবিচ্ছেদ্য কাব্যগাঁথা’। সেই মহাকাব্যের অংশ হতে আজই সংগ্রহ করুন ‘অগ্নিবীজের আর্তনাদ’।
প্রযুক্তি আর প্রজ্ঞার নিবিড় মেলবন্ধনে গড়া নাম ওয়াহিদুর রহমান, যিনি ডিজিটাল ভুবনে ‘ফ্রিল্যান্সার ওয়াহিদ’ নামে সমধিক পরিচিত। নব্বইয়ের দশকের শেষলগ্নে নোয়াখালীর স্নিগ্ধ আবহে জন্ম নেওয়া এই স্বপ্নদ্রষ্টা বর্তমানে ঢাকার বাসিন্দা হলেও, তাঁর মননে মিশে আছে শেকড়ের ঘ্রাণ। ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে তিনি যেমন অতীতকে দেখার চোখ রাখেন, তেমনি ব্যবসায় প্রশাসনের গবেষক হিসেবে বুনতে জানেন আগামীর স্বপ্ন। যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র—আন্তর্জাতিক কর্মপরিধিতে বিচরণ থাকলেও তাঁর শেকড় প্রোথিত বাংলা সাহিত্যে। এলসেভিয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত জার্নালের রিভিউয়ার কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা—সবখানেই তিনি রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর।
তাঁর লেখনী তরুণদের দেখায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন ও আত্মজাগরণের মন্ত্র। ‘জীবনের জ্যামিতি’ কিংবা ‘প্রজ্ঞার পাঠশালা’-য় তিনি যেমন জীবনের সমীকরণ মিলিয়েছেন, তেমনি ‘আমি হবো ফ্রিল্যান্সার’ ও ‘নিজেকে জাগাও’ বই দিয়ে দেখিয়েছেন আলোর পথ। প্রযুক্তিগত দক্ষতা আর সৃজনশীলতার মিশেলে তিনি তাঁর পাঠকের জন্য তৈরি করেন এমন এক জগত, যা কেবল তথ্য দেয় না—বরং ভাবায় ও স্বপ্ন দেখায়।