“ইসলামের আলোকে নারী: এই গ্রন্থটি নারীর অধিকার নিয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তি, চরমপন্থা ও ভুল ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে উঠে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। এই বইয়ের মূল বক্তব্য হলো: ইসলাম নারীকে অবদমিত করেনি; বরং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারীকে মানবিক মর্যাদা, আইনি অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা দিয়েছে। নারীর প্রতি যে জুলুম, বৈষম্য ও বঞ্চনা আজ অনেক সমাজে দেখা যায়, তার মূল কারণ ইসলাম নয়, বরং ইসলামের অপচর্চা, অজ্ঞতা ও সংস্কৃতিগত বিকৃতি।
গ্রন্থটিতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে:
ইসলামে নারীর মানবিক মর্যাদা ও সৃষ্টিগত সমতা
কন্যা, মা, স্ত্রী ও নাগরিক হিসেবে নারীর অধিকার
শিক্ষা, সম্পত্তি, কর্মজীবন ও সামাজিক অংশগ্রহণে নারীর অবস্থান
পর্দা, হিজাব, শালীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সঠিক ব্যাখ্যা
জুলুম, সহিংসতা ও ধর্মের নামে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর অবস্থান
নারীবাদ, পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির তুলনামূলক বিশ্লেষণ
নারী নেতৃত্ব, জিহাদ ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা
এবং সর্বশেষে নারীর অধিকার বাস্তবায়নে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব
এই বই নারীকে পুরুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং সমাজ গঠনের দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করে। একই সঙ্গে পুরুষকে কর্তৃত্বশীল নয়, জবাবদিহির অধিকারী হিসেবে দাঁড় করায়।
গ্রন্থটির মূল আহ্বান হলো:
ইসলামকে সংস্কৃতির ভুল চর্চা থেকে আলাদা করে বোঝা
নারীর অধিকার নিয়ে আবেগ নয়, দলিলভিত্তিক চিন্তা করা
জুলুমের বিরুদ্ধে নীরব না থেকে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া
এবং ইসলামকে স্লোগান নয়, জীবনের বাস্তব অনুশীলনে পরিণত করা
সংক্ষেপে বলা যায়, এই বই প্রমাণ করে: নারীর অধিকার ইসলামে কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং আল্লাহপ্রদত্ত অধিকার। সংকট ইসলামে নয়, সংকট আমাদের বাস্তবায়নে।
এই গ্রন্থ পাঠককে কেবল তথ্য দেয় না: বরং চিন্তা বদলাতে, আত্মসমালোচনা করতে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।
ইঞ্জিনিয়ার মো. রহিম উদ্দিন একজন কবি, গবেষক ও বিজ্ঞানী। তিনি বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত। তিনি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া পাহাং থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বাংলাদেশের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি একজন সক্রিয় বিজ্ঞানী ও গবেষক হিসেবে বায়োপ্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, Techno‑economic analysis এবং Life Cycle Assessment (LCA) সংশ্লিষ্ট গবেষণায় কাজ করছেন। সাহিত্যচর্চায় তিনি মূলত মানুষের জীবন, ইনসাফ ও সংগ্রামকে উপজীব্য করে লেখালেখি করেন। তাঁর লেখায় মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বোধ এবং জীবনের বাস্তব সংগ্রামের গভীর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়।