ওড়িশা রাজ্যের পুরী ও কোণার্কের মধ্যবর্তী মৌজা রামচণ্ডীপুর। কোণার্ক-বালুখণ্ড অভয়ারণ্য ও সমুদ্র নিয়ে অনুর্বর ভূমিতে বহু বছর ধরে বসবাস করে আদিবাসী জনজাতি। সুদূর অতীতে উৎকলের মহারাজা তাদের সমতলে নিয়ে এসেছিলেন, সঙ্গে ছিলেন তাদের জগবোই দেবতা, মহামহিমান্বিত জগন্নাথদেব। ইতিহাস সাক্ষী, সুভদ্রা ও বলদেব, উভয়েই আদিবাসী জনজাতির পৃথক পৃথক গোষ্ঠীর নিজস্ব দেবদেবী। আজ রাজতন্ত্র নেই, কিন্তু ওড়িশার রাজবংশ আজও জগন্নাথের প্রধান সেবক। জগবোই দেবতার জগন্নাথে রূপান্তর মেনে নিয়েছে আদিবাসী গোষ্ঠীগুলি। পুরাতনকালে তারা ছিল সৈনিক ও সেবক। আজ কোনও গোষ্ঠী কৃষিজীবী অথবা মৎস্যজীবী। ব্রিটিশ আমলে কেউ কেউ কেরেস্তান হয়ে গেছে, তারা বোঙ্গা, জগবোই, যীশু, সবার আরাধনা করে। ঝড়ঝঞ্ঝার প্রবল আঘাত তাদের নিত্যকার সঙ্গী। সেই নিয়েই তারা বাঁচে। বানভাসি লবণাক্ত জলে জমির অনুর্বরতা বেড়ে ওঠে, ঘর ভেসে যায়, উন্মত্ত ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে যায় জীবন, ঝড় থামলে আবার নতুন করে গড়া। দেবী রামচণ্ডী তাদের রক্ষা করেন, জগবোই নতুন প্রাণ দান করেন। ভারত সরকার আদিবাসীদের উন্নতিকল্পে বিদ্যালয়, হাসপাতাল, সরকারি চাকুরির সংরক্ষিত আসন আয়োজন করেছে, গ্রামের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দেখাশোনা করে অঙ্গনওয়ারি নারীরা। আদিবাসীদের ঘরে ঘরে এখন শিক্ষার আগ্রহ। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি উদার, সমৃদ্ধ, তবু শহুরে সমাজ তাদের আদিবাসী জনজাতি বলে উপেক্ষা করে। শিক্ষার আলোক পাওয়া, কম্পিউটার প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত নব্য প্রজন্ম ভাবতে চায়, আদিবাসী জনজাতি অবহেলার বিষয় কেন, শহুরে ভদ্রজন, দিক্যু, যা কিছু পারে, তারাও সেসবে পারঙ্গম। ঝড়ঝাপটা সামলে, সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলে জীবন।
Tilottama Majumder জন্ম: ১১ জানুয়ারি ১৯৬৬, উত্তরবঙ্গ। কালচিনি চা-বাগানে ইউনিয়ন একাডেমি স্কুলে পড়াশোনা। ১৯৮৫-তে স্নাতক স্তরে পড়তে আসেন কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে। ১৯৯৩ থেকে লিখছেন। পরিবারের সকলেই সাহিত্যচর্চা করেন। আনন্দ পাবলিশার্সে সম্পাদনাকর্মের সঙ্গে যুক্ত। প্রথম উপন্যাস: মানুষশাবকের কথা। ‘বসুধারা’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে আছে রাজপাট, একতারা, চাঁদের গায়ে চাঁদ ইত্যাদি। ভালবাসেন গান ও ভ্রমণ।