বিশ্ব রাজনীতি, যুদ্ধ, ক্ষমতা—এসবকে আমরা প্রায়ই দেখি নেতা, আদর্শ বা সংঘর্ষের গল্প হিসেবে। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই বোঝা যায়, আসল নিয়ন্ত্রক অনেক সময় মানুষ নয়—ভূগোল এবং প্রযুক্তি।
এই দুই বাস্তবতাকে একসাথে বুঝার জন্য এই চারটি বই জরুরি—
টিম মার্শালের জিয়োগ্রাফি সিরিজ (৩টি বই)
ক্রিস মিলারের চিপ ওয়ার
টিম মার্শাল আমাদের মনে করিয়ে দেন এক ভিন্ন সত্য:
রাষ্ট্রগুলো যেমন ভাবতে চায়, তারা ততটা স্বাধীন নয়। পাহাড়, মরুভূমি, নদী, সমুদ্র, আবহাওয়া—এই ভৌগোলিক বাস্তবতাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাজনীতি, যুদ্ধ ও কূটনীতির সীমানা টেনে দিয়েছে।
'প্রিজনার্স অব জিয়োগ্রাফি' থেকে শুরু করে পরবর্তী বইগুলোতে তিনি দেখিয়েছেন কেন রাশিয়া ইউক্রেন ছাড়তে পারে না, কেন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এত দুরূহ, কেন আফ্রিকা বা লাতিন আমেরিকার ইতিহাস বারবার একই চক্রে ফিরে আসে। মানচিত্র এখানে কেবল কাগজ নয়—এটা ক্ষমতার নীলনকশা।
আর ঠিক সেই জায়গায় এসে 'চিপ ওয়ার' দেখায় আধুনিক যুগের আরেক নিয়ামক—সেমিকন্ডাক্টর চিপ।
আজকের যুদ্ধ শুধু ট্যাংক আর ক্ষেপণাস্ত্রের নয়; যুদ্ধ হচ্ছে কার হাতে থাকবে সবচেয়ে উন্নত চিপ, সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি, সবচেয়ে সূক্ষ্ম উৎপাদন ক্ষমতা। তাই তাইওয়ান শুধু একটি দ্বীপ নয়—এটা বৈশ্বিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্র–চীন দ্বন্দ্ব কেবল আদর্শগত নয়—এটা প্রযুক্তিগত অস্তিত্বের লড়াই।
চিপ ওয়ার পড়লে বোঝা যায়, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হয়তো শুরুই হবে কারখানায়, গবেষণাগারে, আর সাপ্লাই চেইনে।
এই চার বই একসাথে পড়লে একটা বড় ছবি স্পষ্ট হয়—
ভূগোল ঠিক করে দেয় কোথায় ক্ষমতার সীমা,
চিপ ঠিক করে দেয় কে সেই সীমার ভেতরে কতদূর যেতে পারবে।
একদিকে হাজার বছরের নদী–পর্বতের বাস্তবতা, অন্যদিকে কয়েক ন্যানোমিটার চওড়া সিলিকনের আধিপত্য—এই দুইয়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিশ্ব।
যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ভূরাজনীতি, যুদ্ধ, প্রযুক্তি কিংবা “বিশ্বটা আসলে কীভাবে চলে” তা বুঝতে চান—এই চার বই তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য।
নিয়ন প্রকাশন চারটি বই সেরা প্রোডাকশন ও সাবলীল অনুবাদে আপনার সামনে হাজির করেছে। দামও আপাতত আপনার সাধ্যের মধ্যেই রাখা হয়েছে। যদিও অফার শেষ হলে দাম বেড়ে যাবে।