আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, পড়ার টেবিলে বসলে কিংবা জরুরি কোনো কাজ শুরু করলে বারবার আপনার হাত স্মার্টফোনের দিকে চলে যায়? ফেসবুকের নোটিফিকেশন বা ইউটিউবের শর্টস দেখতে দেখতে কীভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যায়, আপনি টেরই পান না? এই যে বারবার মনোযোগ হারানো এবং অহেতুক ব্যস্ততায় নিজেকে ডুবিয়ে রাখা—এটি কেবল আপনার সমস্যা নয়, এটি এই আধুনিক ডিজিটাল যুগের এক নীরব মহামারী।
‘মনোযোগের মন্ত্র’ বইটি ঠিক এই সমস্যার সমাধান নিয়েই লেখা। লেখক ওয়াহিদুর রহমান তাঁর প্রজ্ঞা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, কীভাবে তথ্যের এই জঞ্জাল থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিজের ফোকাসকে লেজার রশ্মির মতো তীক্ষ্ণ করা যায়। এটি কেবল একটি মোটিভেশনাল বই নয়, বরং আপনার মস্তিষ্ককে পুনরায় প্রোগ্রাম করার একটি প্র্যাকটিক্যাল গাইডবুক।
বইটি কেন পড়বেন?
ডিস্ট্রাকশন জয়: ডিজিটাল ডিস্ট্রাকশন বা স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার কার্যকর উপায় জানতে পারবেন।
ডিপ ওয়ার্ক: অল্প সময়ে কীভাবে অনেক বেশি প্রোডাক্টিভ কাজ করা যায়, তার বৈজ্ঞানিক সূত্রগুলো শিখবেন।
ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধি: নিজের উইলপাওয়ার বা ইচ্ছাশক্তিকে একটি শক্তিশালী পেশির মতো গড়ে তোলার কৌশল আয়ত্ত করবেন।
অলসতা মুক্তি: কাজ জমিয়ে রাখার (Procrastination) অভ্যাস ত্যাগ করে কীভাবে তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নিতে হয়, তা জানবেন।
মানসিক প্রশান্তি: অগোছালো চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে মনের অস্থিরতা কমিয়ে প্রশান্তি আনা যায়, তার দিকনির্দেশনা পাবেন।
২য় সংস্করণের বিশেষত্ব: বইটির এই নতুন সংস্করণে সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে আরও নতুন কিছু চ্যাপ্টার এবং এক্সারসাইজ যুক্ত করা হয়েছে। এটি কেবল পড়ার জন্য নয়, এটি চর্চা করার জন্য।
কাদের জন্য এই বই? ছাত্রছাত্রী, ফ্রিল্যান্সার, চাকরিজীবী কিংবা উদ্যোক্তা—যারা নিজের ক্যারিয়ারে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে চান এবং যারা মনে করেন তাঁদের মনোযোগের অভাবে স্বপ্নগুলো থমকে আছে, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য এই বইটি একটি 'মাস্ট রিড'।
আপনার মনোযোগই আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তাই আজই সংগ্রহ করুন ‘মনোযোগের মন্ত্র’ এবং নিজেকে গড়ে তুলুন একজন ফোকাসড মাস্টার হিসেবে।
প্রযুক্তি আর প্রজ্ঞার নিবিড় মেলবন্ধনে গড়া নাম ওয়াহিদুর রহমান, যিনি ডিজিটাল ভুবনে ‘ফ্রিল্যান্সার ওয়াহিদ’ নামে সমধিক পরিচিত। নব্বইয়ের দশকের শেষলগ্নে নোয়াখালীর স্নিগ্ধ আবহে জন্ম নেওয়া এই স্বপ্নদ্রষ্টা বর্তমানে ঢাকার বাসিন্দা হলেও, তাঁর মননে মিশে আছে শেকড়ের ঘ্রাণ। ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে তিনি যেমন অতীতকে দেখার চোখ রাখেন, তেমনি ব্যবসায় প্রশাসনের গবেষক হিসেবে বুনতে জানেন আগামীর স্বপ্ন। যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র—আন্তর্জাতিক কর্মপরিধিতে বিচরণ থাকলেও তাঁর শেকড় প্রোথিত বাংলা সাহিত্যে। এলসেভিয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত জার্নালের রিভিউয়ার কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা—সবখানেই তিনি রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর।
তাঁর লেখনী তরুণদের দেখায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন ও আত্মজাগরণের মন্ত্র। ‘জীবনের জ্যামিতি’ কিংবা ‘প্রজ্ঞার পাঠশালা’-য় তিনি যেমন জীবনের সমীকরণ মিলিয়েছেন, তেমনি ‘আমি হবো ফ্রিল্যান্সার’ ও ‘নিজেকে জাগাও’ বই দিয়ে দেখিয়েছেন আলোর পথ। প্রযুক্তিগত দক্ষতা আর সৃজনশীলতার মিশেলে তিনি তাঁর পাঠকের জন্য তৈরি করেন এমন এক জগত, যা কেবল তথ্য দেয় না—বরং ভাবায় ও স্বপ্ন দেখায়।