" প্রকৃতিকে বড্ড ভালোবাসো তুমি, তাই না?"
শ্রাবণের কথায় বোধহয় ঈর্ষা প্রকাশ পেলো। কি সর্বনাশ! শেষে কিনা শ্রাবণ শেখ প্রকৃতি কেও হিংসা করছে। ধারা তো সেসব বুঝলো না। বরং আগের থেকেও বেশি প্রফুল্ল মুখ করে বলল,
—" হ্যাঁ ভীষন। ছোট থেকেই এই জিনিসে অন্যরকম এক দুর্বলতা টের পাই আমি। জানেন, প্রকৃতির একেক রূপের একেক সৌন্দর্য রয়েছে। আর প্রত্যেক সৌন্দর্যেই অসম্ভব মুগ্ধ হই আমি। তবে সবচেয়ে বেশি পছন্দ বৃষ্টি। আচ্ছা এসব কি আপনার পছন্দ?"
শ্রাবণ ক্ষীণ হাসলো। ভাবা যায়, বখাটে বেপরোয়া শ্রাবণ শেখ এখন এসব নিয়েও কথা বলে! বড় করে শ্বাস নিয়ে শ্রাবণ জবাবে বলল,
—" কখনো প্রকৃতি খেয়াল করিনি, বৃষ্টির সৌন্দর্যও লক্ষ্য করিনি। তোমার মত অত মোলায়েম মন নয় আমার। তবে প্রথমবারের মত আজ এক ফুলের স্নিগ্ধতায় নজর দিলাম। আর আমি বাজি ধরে বলতে পারি, আমার নীলরঙা ফুলের স্নিগ্ধতার কাছে এই প্রকৃতি কিছুই না।"
ধারা হতবাক হলো, সাথে কৌতূহলীও। রেলিঙ এ হাত রেখে সে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
—" কোন ফুল? আমায় দেখাবেন না?"
শ্রাবণ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো ধারার দিকে। আবারো একই মুগ্ধতার নজর দিল শাড়ি পরিহিত মেয়েটার দিকে। বৃষ্টির হাওয়ায় উড়ন্ত চুলগুলোর অবাধ্য খেলা, নীলরঙা শাড়ির মাতাল করা নেশা আর চমৎকার মনোরম পরিবেশের আবেশে হৃদয় আনচান করলো শ্রাবণের। সে পারলে হয়তো সবকিছু ভুলে গিয়ে বলেই ফেলতো,
—" সেই ফুল দেখতে হলে তোমায় আমার চোখের দিকে তাকাতে হবে। হৃদয়ের আঙিনায় উঁকি দিতে হবে। কিন্তু, তা তো তুমি পারবে না। কারন আমার চোখে ভাসতে থাকা নিজেকে দেখলে তো লজ্জা পাবে মেয়ে। রাঙা বউ হয়ে যাবে লাজুক লালিমায়।"
অথচ কিছুই বললো না শ্রাবণ শেখ। বরং আবারো চোখ ফিরিয়ে সামনের দিকে তাকালো। ঠোঁট কাঁমড়ে হেসে নির্বিকার ভঙ্গিতে কাব্যিক সুরে বলে উঠলো,
—" সেই নীলরঙা ফুল দেখা বারণ,
কারন সে আমার সর্বনাশের একমাত্র কারণ।"