সুন্দরবনের লোনা পরিবেশের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির অপার রহস্য- উদ্ভিদ ও প্রাণীরাজ্য। গাছপালা ও নদীনালা সুন্দরবনকে সুন্দর করলেও সেসব গাছ, বন আর নদীনালায় রয়েছে অসংখ্য প্রাণীর বাস। ভয়ের সাথে সৌন্দর্যের এক চমৎকার জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার সুন্দরবন। কিন্তু সে ভাণ্ডারের কতটুকু আমরা দেখেছি। কিইবা চিনতে পেরেছি, জেনেছি সেসব প্রাণীর কথা?
সুন্দরবনের কাছে যাঁরা থাকেন, তাঁরাও সুন্দরবনকে ভালোভাবে জানেন না, চেনেন না। সুন্দরবনে যাঁরা বেড়াতে যান, কিংবা গবেষণা করতে যান, সুন্দরবনের যারা ছাত্র- তাঁদের তো আর শুধু বাঘ আর হরিণ চিনলে চলে না-সেখানকার অন্য সব প্রাণীদেরও খুঁজে খুঁজে বের করতে হয়, সেসব নিয়ে গবেষণা করতে হয়। নানা কিসিমের গবেষক রয়েছেন যাঁরা সুন্দরবনের বিভিন্ন রকম প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করেন। কেউ করেন জলের মাছ নিয়ে, কেউ করেন ডাঙার বাঘ নিয়ে। আবার কেউবা প্রজাপতি ও পাখিদের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হন। এসব প্রাণীর সম্পর্কে গবেষকদের যেমন রয়েছে প্রবল কৌতূহল, তেমনি পর্যটক ও শিক্ষার্থীদেরও জানার আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবনে কি কি প্রাণী আছে, সেসব প্রাণীর চেহারা কেমন, কি তাদের স্বভাব, কোথায় তারা থাকে, কি খায়, তাকে কে খায়, ওদের ছানা হয় কেমন করে, বর্তমানে তাদের অবস্থা কেমন ইত্যাদি। লেখক সুন্দরবনের প্রাণী বৈচিত্র্য গ্রন্থে মোট ৯২২ প্রজাতির প্রাণীর নাম তালিকাভুক্ত করেছেন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীদের সংক্ষিপ্তাকারে হলেও বর্ণনা দিয়েছেন। সেসব প্রাণী ভালোভাবে চেনার জন্য ব্যবহার করেছেন প্রায় ২০০টি ছবি। এসব প্রাণী নিয়ে রয়েছে সরস বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা। বইটি পড়লে পাঠকরা সুন্দরবনের প্রাণীদের যেমন চিনতে পারবেন, তেমনি অনেক অজানা কথাও জানতে পারবেন।
কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায় প্রায় তিন দশক ধরে বিভিন্ন জাতীয় পত্র-পত্রিকায় লিখছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে এম.এসসি.এজি (উদ্যানতত্ত্ব) ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগতভাবে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে। সর্বশেষ অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রয়েছে কৃষিক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সুদীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ফসল উৎপাদনের বিশেষ পারদর্শীতা, শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণের দক্ষতা। এর ওপর ভিত্তি করে তিনি লিখেছেন ‘বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল’ বইটি।। কৃষি বিষয়ে তিনি ইতােমধ্যে অনেকগুলাে বই লিখেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর লেখা ৮৫টি বই প্রকাশিত হয়েছে যার মধ্যে ৬২টি বই কৃষি বিষয়ক। কৃষি বিষয়ক লেখালেখির জন্য তিনি ২০১২ সালে পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার এবং ২০১৮ সালে পেয়েছেন বাংলাদেশ একাডেমী অব এগ্রিকালচার স্বর্ণপদক।