একজন মানুষ যখন কালিমায়ে তাইয়িবা কিংবা কালিমায়ে শাহাদাত পড়ে আল্লাহ তায়ালার তাওহিদ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয় তখন সে আনুষ্ঠানিক ভাবে মুসলমান হিসাবে গণ্য হয়। আদম শুমারিতে সে মুসলমান পরিচয় বহন করে। এর পরে যদি কোন আমল না করে এবং এই ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করে তাহলে এই ঈমানের বরকতে একদিন না একদিন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তবে আমল ছেড়ে দেওয়ার কারণে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। সেই শাস্তির পরিমাণ কত কোটি কোটি বছর হবে তার হিসাব একমাত্র রাব্বুল আলামিনই জানেন। তাই একজন মুসলমানের জন্য এই আনুষ্ঠানিক মুসলমান হওয়াটাই যথেষ্ট নয় বরং সে যেন পরিপূর্ণ মুসলমান হয় এটাই আল্লাহ তায়ালা বান্দার নিকট কামনা করেন। সুরায়ে আলে ইমরানের ১০২ নং আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন : হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যেমন তাকে ভয় করা উচিত। এবং তোমরা পরিপূর্ণ মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। সুরায়ে বাকারার ২০৮ নং আয়াতে বলেন, হে ঈমানদারগণ। তোমরা পরিপূর্ণ ভাবে ইসলামে প্রবেশ কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।
এই আয়াতদ্বয়ের আলোকে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, বান্দার পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়াটাই আল্লাহ তায়ালা চান। বান্দার আংশিক ইসলাম আল্লাহ তায়ালার নিকট গ্রহণ যোগ্য নয়। এখন প্রশ্ন হল পরিপূর্ণ ইসলাম কি? একজন মানুষ কি কি কাজ করলে সে পরিপূর্ণ মুসলমান হিসাবে গণ্য হবে?
হাকিমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) বলেন, কুরআন-হাদিসের বিশাল ভান্ডার মন্থন করে উলামায়ে কেরাম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, পরিপূর্ণ ইসলাম হল পাঁচটি বিষয়ের নাম।