প্রকৃতি, মানুষ সবকিছুই আমার প্রেমের অনুসঙ্গ আর প্রেম আমার লেখার উপাত্ত।
প্রেম কখনোই ধ্বংস করে না। প্রেম হৃদয়ে লহর তোলা এক সুরের মূর্ছনা। যা কেবল নিজ হৃদয়ের গোপন ধন। হৃদয়ের অলিন্দে প্রেমের যে গভীর, জটিল, অথচ নির্মল অনুরণন ধরা পড়ে — তা আসলে আত্মার পরতে পরতে লেখা এক নীরব সমর্পণ।
অভিমান, প্রেম ও হৃদয়—এই তিন অবস্থার মধ্য দিয়ে এক একটি সম্পর্ক, একটি আত্মিক টান, এক অন্তরঙ্গ সত্তা কীভাবে রূপ নেয়, গড়ে ওঠে, আবার ভেঙে পড়ে আবার উঠে দাঁড়ায়— এই কবিতাগুলো তার প্রতিফলন ধরার প্রয়াস।
সাহিত্য মানুষের মনের আয়না। কবিতা সেই আয়নায় প্রতিসরিত হওয়া হৃদয়ের এক নিরেট প্রতিচ্ছবি।
গল্প, কবিতা সব শব্দের খেলা। মিথ্যে নয় উপলব্ধি। সত্য নয় বহিরাবরণ। হৃদয়ের সব অনুরণন শব্দে ধরা যায় না, কিন্তু অনুভূতি যখন কারো না কারো অনুভূতির সাথে মিলে যায় তখন সে লেখা স্বার্থকতা পায়। সাহিত্য তখনই সার্থক হয়ে ওঠে যখন পাঠকের অনুভূতিতে নাড়া দিয়ে বলে, "এ তো আমারই কথা।"
শুরুর "কী লিখি তোমায়" চিঠি দিবসের আহ্বানে লেখা। কাল্পনিক কিন্তু ভিতরমনের চিরকালীন নিঃসঙ্গতার অনুরণন। এই চিঠি নিঃসঙ্গতার অন্তঃসলিলা থেকে উঠে আসা এক অমর স্বীকারোক্তি—প্রেম, বেদনা আর আত্মমগ্নতার মিশ্রণে এক নারীর সমগ্র সত্তা উজাড় করে দেয়া আকুতি। এক অচেনা অথচ অন্তরঙ্গ পুরুষের কাছে এই লিখন একসাথে প্রেমপত্র, কবিতা আর আত্মার ভাষ্য।
শেষের “শেষ পৃষ্ঠার ইতিহীন চিঠি” এক অন্তর্লীন স্বীকারোক্তি, যেখানে প্রেম, বেদনা, বিস্মৃতি আর আত্মোপলব্ধি মিলেমিশে গেছে অনন্য শিল্পরূপে। শব্দগুলো শুধু বলা নয়—শ্রুতির বাইরে এক অন্তরঙ্গ সঙ্গীতের মতো হৃদয়ে বাজে। সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব পেরিয়ে যে অমলিন অনুভূতি, তাকে কাব্যিকতার ছোঁয়া দেয়ার প্রচেষ্টা।
কী এক দূর্দান্ত সাহসে ভর করে কাব্য মূদ্রণে এসেছি জানি না। কবিতার অ, আ, ক,খ কিছুই আমার জানা নেই। আন্তমিল, ছন্দ বা ব্যাকরণের কিছুই আমি বুঝি না। আমার তাই কবিতা হয় না। শব্দের বুননে, ভূষণে আমি বলি আমার উপলব্ধির কথা।
এইরকম একাত্তরটি মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধিকথন এই গদ্যকাব্য এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য। পাঠকের আগ্রহে এই গ্রন্থে শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধিজাত লেখাগুলো ঠাঁই পেয়েছে।
বন্ধুদের আগ্রহে মূদ্রণে সাহসী হয়েছি ভয় মনে পুষে রেখে। পাঠক যদি গ্রহণ করেন তবেই আমার ভয় দূর হয়।