পৃথিবীর শিশুরা প্রথম যে বই হাতে পায়- তা হলো ছড়া। শিশুর মানসিক গঠনে ছড়ার কদর সর্বজন বিদিত। বিরহী কবি মাজেদুল হকের এবারকার বই ছড়া নিয়ে; “জাদুর কাঠি”। শিশুর হাতে ছড়ার বই সত্যিই যেনো জাদুর কাঠি। পাণ্ডুলিপিখানি পড়ে আমার মনে এই- প্রতীতি জন্মেছে যে, আমাদের সন্তানের জন্য এমন জাদুর কাঠি থাকা চাই।
ছড়া তবে কী? কেউ কেউ বলেন, কবিতার চেয়ে ছড়া লেখা কঠিন। কঠিন মাত্রাজ্ঞান এবং শব্দচয়ন ছাড়া ছড়া হয়না। সুকুমার রায় বা সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছড়া পড়লে মনে বিমল আনন্দ জাগে। ছড়া আর ছুরিতে খুব একটা পার্থক্য নেই। উভয়েই মানুষকে খোঁচা দিতে পারে। পার্থক্য হলো ছুরি দিয়ে খুঁচা দিলে মানুষটি মারা যেতে পারে, আর ছড়া দিয়ে খোঁচা দিলে মানুষটি ভেতর থেকে জেগে উঠতে পারে। এছাড়াও বোধকরি ছড়িয়ে দেওয়া থেকে ছড়া নামকরণ হতে পারে। ছড়া খুব সহজেই মুখে মুখে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। যেমনটি করেছিলেন খনা। তাঁর বচন গুলো প্রকৃত পক্ষেই সার্থক ছড়া। এই দুরূহ কাজটি এবার করেছেন- কবি মাজেদুল হক। অভিনন্দন প্রাপ্য বটে।
“জাদুর কাঠি” নামক এই বইয়ে ৫৬ টি ছড়া আছে। বইয়ের শুরতেই রয়েছে যে ছড়াটি, তার নামও কিন্তু “ছড়া”।
কবি লিখেছেন-
“পাঠক পড়ে তৃপ্তি পেলে
সেই ছড়াটি বেশ
ভালো ছড়ায় আলো ছড়ায়
মজার নেইতো শেষ।”
আশা যে, এই বই ভালোই ছড়াবে, সাথে আলোও ছড়াবে মানুষের মনে। বিশেষত আমাদের শিশুদের মনে।
কবি মাজেদুল হক ব্যক্তিগতভাবে মানুষটি কিছুটা নিরিবিলি। সমাজে যেমনটি দেখেন নীরব মনে তেমন ছবি আঁকতে পারেন তিনি। যেমনটি আমরা তার কবিতা ও ছড়ায় দেখতে পাই। এ বইয়ে উল্লেখযোগ্য ছড়াগুলো হলো- মায়ের আদালত, আযান, মানুষ হতে হবে, ভূতের বাড়ি, খেলার নাও, পাগলা ঘোড়া, সোনার চাঁদ, মাছরাঙা, মুক্তিযোদ্ধা, বঁড়শি, জাদুর কাঠি, পড়তে হবে, গরুর গাড়ি ইত্যাদি।
আশা করি এসব ছড়া পাঠকের হৃদয়ে বিমল আনন্দ যোগাবে এবং আমাদের শিশুদের মনে আলো ছড়াবে। বইটির বহুল পাঠক প্রিয়তা কামনা করি।