ত্র্যম্বাইক (উঁহু, ত্র্যম্বক!) বাইক নয়, আসলে তিনভাঙা অমায়িক এক অস্তিত্ববিশেষ। নিত্যনতুন শব্দেরা এ জাহান্নমে জন্ম না নিলে, তাকে বা কেদারনাথের কাষ্ঠাসনকে সঠিক (না না, টীকাটিপ্পনি সমেত, মানে সটীক) বর্ণনা করা যাবে কি আদৌ? সেসব শব্দের (আহ্! শবদেহের) সন্ধানে কবি নিযুক্ত আছেন শান্তিপূর্ণ এক পদযাত্রায় (আবার ভুল! ‘পদযাত্রায়’ নয়। ওটা ‘পদ্যযাত্রায়’ হবে!)। হেঁটে চলেছেন তিনি হাতে হ্যারিকেন (নাহ্, মোমবাতি!) দেহহীন এক নৃমুণ্ডকে সম্বল করে। আসলে তিনি বয়ে নিয়ে চলেছেন দোদুল্যমান পরাবাস্তবিক পাঠক–মগজ। যে মগজধোলাইয়ের সহায়ক, না না ঈশ্বর নন, আপাত–দুর্বিনীত এই গ্রন্থ। রূপমের জন্ম ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৪, কলকাতায়। টাকি হাউজ় স্কুলে শিক্ষকতা ১৯৯৫ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত। এরপর স্বেচ্ছাঅবসর। ১৯৯৮ সালে এইচএমভি থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘তোর ভরসাতে’। ১৯৯৯ সালে জনপ্রিয়তম বাংলা রক ব্যান্ড ‘ফসিল্স’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ। গানের গোত্র হিসেবে এই প্রথম বাংলায় লেখা হল ‘রক’। ‘বাংলা রক’ নামের সংগীত পত্রিকা সম্পাদনা, তাঁর প্লেব্যাক এবং সংগীতপরিচালক/গীতিকার জীবনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবীন-তরুণদের জন্য তাঁর সৃষ্ট চরিত্র ব্রহ্ম ঠাকুর ‘অনামিকা বলে ডাকতে পারি কি তোমায়’ এবং ‘ব্রহ্ম ঠাকুর প্লাস টু’ উপন্যাস-গ্রন্থদুটিতে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রথম কাব্যগ্রন্থ— ‘তীরে এসো, সাহসিনী’। সম্মান: ২০০৯-এ দেশের শ্রেষ্ঠ নেপথ্য গায়ক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার। ২০১৫-’১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রদত্ত ‘সংগীত সম্মান’। আমাদের প্রকাশিত এই লেখকের অন্যান্য বই: রক জার্নাল সিরিজ় রূপম on the রক্স • এই তো আমি রকস্টার • বিশ্বরূপম গান এবং কবিতাসংগ্রহ। গানসমগ্র ১ • তীরে এসো, সাহসিনী (সিগনেট)।
"রূপম ইসলাম (জন্ম: ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৪) হলয় বাঙালি গায়ক, সুরকার, গীতিকার ও লেখক। তিনি বিখ্যাত বাংলা রক্ ব্যান্ড ফসিলস্-এর প্রধান কন্ঠ শিল্পী। তিনি মূলত তাঁর সোলো অ্যালবাম এবং ফসিল্স-এর অ্যালবাম দ্বারা বিপুল খ্যাতি লাভ করেছেন। এছাড়াও তিনি বহু বাংলা ছবি-তে নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক এবং গীতিকার হিসেবে কাজ করেছেন। দুটো হিন্দি ছবি এবং একটি তেলুগু ছবিতে তিনি গান গেয়েছেন। বিভিন্ন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিজ্ঞাপনের জন্যেও তাঁকে গান গাইতে শোনা গেছে। ২০১০ সালে বাংলা ছবি মহানগর@কলকাতা-তে নেপথ্য গায়ক হিসেবে তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছেন। প্রাথমিক জীবন ১৯৭৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, নুরুল ইসলাম এবং ছন্দিতা ইসলামের একমাত্র সন্তান রূপমের জন্ম। তিনি তাঁর বাবা-মা পরিচালিত ঝংকার শিল্পী গোষ্ঠির অনুষ্ঠানে প্রথমবার মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করেন; তখন তাঁর বয়স মাত্র চার। মাত্র ছয়-সাত বছর বয়সে অন্নদাশঙ্কর রায়-এর একটি ছড়ায় প্রথমবার সুর সংযোজনা করেন, এবং সে গান বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠানে গাইতে শুরু করেন। এমনকি আট বছর বয়স থেকে আকাশবাণী এবং দূরদর্শন-এও নিয়মিত অনুষ্ঠান করতে থাকেন। কলকাতার আশুতোষ কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক করেন রূপম। পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে বিএড শেষ করে টাকি বয়েজ স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। সঙ্গীত শিক্ষকতার পাশাপাশি সঙ্গীতচর্চা চলতে থাকে রূপমের।[৪] ফসিল্স তৈরি হবার আগেও বিভিন্ন ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন তিনি। যেমন 'রিদিম', 'রিদমিক', 'হরিদাসের ডানা' এবং 'দূরের গাংচিল। দুর্ভাগ্যবশত, সে ব্যান্ডগুলি চিরস্থায়ী হতে পারেনি। ১৯৯৮ সালে রূপমের প্রথম সোলো অ্যালবাম 'তোর ভরসাতে' এইচএমভি থেকে প্রকাশিত হয়, তবে তা বাণিজ্যিকভাবে অসফল থেকে যায়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে সে অ্যালবামটি 'নীল রং ছিল ভীষণ প্রিয়' নামে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৯৮ সালে ফসিল্স-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২০০২ সালে তাঁদের প্রথম অ্যালবাম 'ফসিল্স' আশা অডিও থেকে প্রকাশিত হয়। ব্যক্তিগত জীবন ২০০৩ সালে রূপমের সাক্ষাত হয় রূপসা দাসগুপ্তের সাথে। রূপসা তখন ফসিল্স সহ চারটে ব্যান্ডকে নিয়ে একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের জন্য অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় কর্মরত ছিলেন। সেই সূত্রেই তাঁদের আলাপ হয়। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরী হয়, এবং বন্ধুত্ব থেকেই প্রেমের সূত্রপাত। ২০০৭ সালের ২১ অক্টোবর তাঁদের বিবাহ হয়, এবং ঠিক তার তিন বছর পর, অর্থাৎ ২০১০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁদের সন্তান রূপ আরোহণ প্রমিথিউসের জন্ম হয়।"