--নিহাল ভাই আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমার ভালোবাসাটা একসেপ্ট করে নেও?
--- হুয়াট? তোর মাথা কি নষ্ট হয়ে গেছে? আমি তোর ভাই হই, ভুলে গেছিস?
--- হ্যা, ফুফাতো ভাই।
--- তো? ভাইই তো।
--- ভাইয়া থেকে ছাইয়া হয়ে যাও না, প্লিজ। প্রমিস তোমাকে অনেক ভালোবাসবো।।।।।
--- একটা থাপ্পর খাবি। আর একবার এসব ফালতু কথা বললে। এই তুই আমার বয়স জানিস যে তুই এসব ফালতু কথা বলতেছিস।গুনে গুনে ১২ বছরের বড় আমি তোর এসব বলতে তোর লজ্জা লাগলো না।
নীলিমা কিছুক্ষণ চোখ পিট পিট করে তাকিয়ে বললো,
--- থাপ্পর দিবা ক্যান? আমি তো নিশার ডেয়ার পালন করতে এসেছি। তোমার হাতের চড় খাওয়ার কোন শখ নাই আমার।
--- এতক্ষন ডেয়ার পালন করতেছিলি?
--- জ্বি হ্যাঁ, আমার মানোনীয় নিহাল ভাই।।।।মুখ ভেংচিয়ে বলল
--- বড় ভাই? একটু আগে না ছাইয়া বানাতে চাইছিলি? চল তোকে এখনি বিয়ে করবো।
বলেই নীলিমার হাত ধরে টেনে দিলো।।।।নীলিমা ভয়ে ভয়ে বলতে থাকে,
--- না না, আমি বিয়ে করবো না। আর তোমাকে তো ভুলেও না।মরে গেলেও না
--- তোকে তো বিয়ে করতেই হবে, আমাকেই করতে হবে। চল এখনি। তোর বিয়ে করার শখ মিটাচ্ছে।
--- না না, সত্যি ভাইয়া এটা ডেয়ার ছিল। আমি যাব না।
নীলিমাকে একটানে দূরে ছুড়ে ফেলে বলল।।।।
--- সর যা, আমার চোখের সামনে থেকে দূর হো। আমার মেজাজ খারাপ করবি না।
নীলিমা নিহালের হাত থেকে একটু দূরে গিয়ে বলে,
---ভা- ভা-ভাইয়া? এখানে মেজাজের কি আছে? খেলা তো খেলাই। আপনি তাতে এত রাগ কেন করছেন।
এখন নিহাল ট্রাম্পকার্ডটা ব্যবহার করে। বলে,
--- তোর বাবা জানে যে তুই এখানে আমাকে ভালোবাসার কথা বলছিলি?
--- আব্বু জানবে কেমনে? আমি কি আব্বুকে বলতে এসেছি নাকি? (একটু ভয়ের সুরে বলে উঠে)
নিহাল এবার মুচকি হেসে বলে ওঠে
--- তো তোর হয়ে বলে দেই আমি ?
--- কি বলবা তুমি?
--- বলবো যে, মামা,আপনার মেয়ে আমাকে ভালোবাসে। আমার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছে৷ তাই আমাকে বিয়ে করতে চায়। প্রপোজ করলো আমাকে।
---চোখ মূখ অন্ধুকার করে ফেলে।। আর বলে।।।
কিন্তু এটা তো সত্যি না। আমি তো তোমার বোনের দেওয়া ডেয়ার পালন করছিলাম।
--- তোর বাবা তো আর সেটা জানে না। আমি গিয়ে।
- চিলিয়ে বলে নননননননন-না ভাইয়া। আমার ভুল হয়ে গেছে। প্লিজ আব্বুকে বইলো না। প্লিজ প্লিজ, আমি আর তোর সামনেই আসবো না, প্রপোজ তো দূরের কথা। তোকে দেখব না।
বলেই ভো করে দৌড় দিল নীলিমা । নিহাল তার এমন দৌড় দেখে খুব জোর হেসে দেয়।
কিশোরী নিলীমার প্রচুর উড়নচন্ডী একটা মেয়ে। তবে বাবাকে প্রচন্ড ভয় পায়। নীলিমা বাবা অযথা দুষ্টুমি পছন্দ করেন না,,অভদ্রতা তো একদমই নয়। তাই নিলিমা ও বাবার সামনে ভদ্র থাকার চেস্টা করে। কিন্তু বাবার আড়ালে তার থাকে দুষ্টু আর কেউ নেই।
যেমন ধরেন অন্যের কাছে আম চুরি করে খাওয়া। আরো কত কি বলে আর শেষ করা যাবে না।
আহির ভাই, মিরা চলে যাবে বলে নীলিমার মন খুব খারাপ। তবে তারা মাঝে মাঝেই আসবে বলে নীলিমাকে আশ্বাস দের। মিরা বলে,
⇨ আমরা তো মাঝে মাঝেই আসবোই, কিন্তু বড় ভাইয়া তো আসবে না।
--- কেন? নিহাল ভাই কেন আসবে না?
-- তুই জানিস না,,ভাইয়া তো বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাই তো আমরা এখানে এসেছি,, ভাইয়া সবার সাথে দেখা করে যাবে বলে।
নীলিমা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
⇨ নিহাল ভাই বিদেশ চলে যাবে?
--- হ্যা রে,,,যা তাড়াতাড়ি ভাইয়ার সাথে কথা বলে আায়।
এই কথা শোনা মতই ঝড়ের গদিতে নেহালের রুমের সামনে দাঁড়া।জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে।ভিতরে যাবে না কি যাবে না তা নিয়ে দ্বিধাতন্ত্রে ভুগছে।।। কিন্তু না তার মাথায় কিছু ঢুকতে পারছে না।অবশেষে সে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করল।
আর দেখল নিহাল তার জামা কাপড় প্যাকিং করতেছে।
নিহালের সামনে এসে নীলিমা মুখ কালো করে জিজ্ঞাসা করে,
--- নিহাল ভাইয়া,, তুমি সত্যিই বিদেশ চলে যাবা?
⇨তুই না আমার সামনে আর আসবি না বলে প্রতিজ্ঞা করছিলি।তাহলে আমার রুমে কি করছিস তুই। হুম বুঝছি এবার তুই আমাকে বিয়ে করতে রাজি আছিস তাহলে চল।।।
--- নিহালের কথা শুনে নীলিমা চোখ মুখ কুঁচকে প্রশ্ন করলো।।।
--কোথায় যাবো?
ওমা কোথায় আবার তুই জানিস না৷।। আচ্ছা না চিনলেই আমি তোকে চিনিয়ে দিব।এবার চল আমার সাথে দেরি করিস না
--- আরে কোথায় যাবো তোমার সাথে আমি?
-- কোথায় আর কাজি অফিসে,,,
--- ননননন-নাহ, আমি যাবো না। আমি তো তোমার সাথে একটু কথা বলতে এসেছি।
--- দেখ তোর আর ফালতু মিথ্যা কথা শুনতে পারবো না আমি। সময় নেই আমার। তুই আমার সামনে থেকে চলে যা তো আর আমার মাথা খাস না।
--নীলিমা নিহার এর কথা শুনে খুব কষ্ট পেল. তারপরও সে মনে জোড় এনে বলল
--- তুমি সত্যিই বিদেশ চলে যাচ্ছ?
নীলিমা হটাৎ প্রশ্নে নিহাল উত্তর দেয়,,,
--- তোকে কে বললো?
মিরার কাছ থেকে শুনলাম। তাই নাকি তোমরা এ বাড়িতে আসছো আমাদের সাথে শেষ দেখা করতে।
এই কথাগুলো বলতে নীলিমার খুব কষ্ট হচ্ছিল কেন তা নিজেও জানেনা
--- হ্যাঁ,,, এটা সত্য কথা আমি বিদেশ যাচ্ছি। দুদিন পর।
--- কবে আসবা আবার?
--- দেখা যাক। আগে তো যাই। আর আমাকে নিয়ে তোর এত চিন্তা করার লাগবে না।তুই তোর কাজ কর যা।
নিহালের কথা শেষ হতে না হতে নীলিমা কাদো কাদো গলায় বলে ওঠে।।।।।
--- আমাকে ভুলে যাবা না তো নিহাল ভাই?
নীলিমার কথা শুনে নিহাল হতভম্ব হয়ে গেল। এই মেয়েকে কিভাবে বুঝায় ইহকালেও তার নিহাল ভাই তাকে ভুলে যেতে পারে না। এই প্রিয়সি যে তার নিঃশ্বাস।।
নিহাল এবার একটু মজা করে বলে উঠে।।।
নীলিমা আর কিছু বলার আগেই সেখানে সবাই চলে আসে। তাই সে আর কিছুই বলতে পারে না। সবাই এক সাথে নাস্তা করতে চলে আসেন নিচে। নিহাল চলে যাবে বলে সবাই তাকে যত্ন সহকারে নাস্তা মুখে পড়ে দিচ্ছে। আর এদিকে নীলিমা তার মুখে এক লোক মাও দিতে পারছে না। তার মাথায় শুধু চলতেছে তার নিহাল ভাই তাকে ছেড়ে বিদেশ চলে যাবে। আর তার তো কোনো খবর নাই এই দিকে যে কেও তাকে জান পরান দিয়ে দেখছে।
মনে মনে।।।।
নীলুমনি আমার কলিজা আমার জীবন এভাবে থাকিস না আমার যে তোকে দেখতে খুব কষ্ট হচ্ছে।নীলপরী কিছু দিন অপেক্ষা কর আমি শীঘ্রই তোর কাছে ফিরে আসব।
ততদিন আমার আমানতের তোর কাছে দিয়ে গেলাম। ভালোবাসি আমার নীলপরীকে।নাস্তা শেষ করার পর।।।
এবার নিহালদের চাওয়ার পালা চলে এলো।।।
--নিহাল তার মামা মামিদের সাথে কুশল বিনিময় করে বিদায় নিল। নীলিমা নিহালের যাওয়ার পথে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
সে তো নিহাল ভাইয়াকে প্রপোজ করেছিলো ফান করে, মিরার সাথে মজা করে। কিন্ত তার এত খারাপ লাগছে কেন। নিহাল চলে যাওয়াতে তো তার খুশি থাকার কথা।কিন্তু তার পানে চেয়ে মনে হচ্ছে, খুবই কাছের কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে।