প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 28 Mar 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
"যতনে বাঁচে ভালোবাসা " মূলত একটা সামাজিক ও রোমান্টিক জনরার উপন্যাস। সমাজের এক বিশেষ চিত্রকে কেন্দ্র করেই উপন্যাসের পটভূমি গড়িয়েছে । সেই বিশেষ চিত্রটি এই উপন্যাসে চিত্রায়িত প্রতিটি চরিত্রই আমাদের অতি পরিচিত। ঠিক তেমনই তাদের কর্মকাণ্ড, আচার আচরণ, চিন্তা ভাবনা, মতবিরোধ সবটাই আমাদের জানা, আমাদের দেখা। যখন নিজের খুব কাছের কারো সাথে এমনটা ঘটে তখন চোখ বন্ধ করে দোষ দেই সবটা এই সমাজকে। সামাজিক অবস্থানের কারণে অনেক সময় অনেক কিছু মেনে নেই, মনে হয় মানিয়ে নেওয়াটাই নিয়ম। কিন্তু আসলেই কি তাই?
সবসময় কি সব মানিয়ে নিতে হয়? কখনো কি মনে হয় না এতে সমাজের কোনো দোষ নেই, সবটাই আমাদের চিন্তাভাবনার দোষ? একটু ভাবলেই দেখবেন মনে হবে, আরে আমি চাইলেই তো এই চিত্র বদলে দিতে পারতাম। ঠিক তখন মনের কোনে বাসা বাঁধবে না পারার কারণে এক বুক আফসোস। আপনি মানেন আর না মানেন এই সমাজে আমরা সবাই পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষ ভাবে সমাজের ভালো মন্দ সকল অলিখিত রীতিনীতি নিয়ন্ত্রণ করি নিজেরই অজান্তে ।
আমার লেখা তখনই গতি পায় যখন সমাজের কোন অসঙ্গতি আমার অন্তরকে নাড়িয়ে দেয়।প্রতিবারের মতো এবারো আমি আমার সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই পটভূমিতে রচিত আমার এগারোতম উপন্যাস নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে।
বেশ কিছুদিন আগে একটা ছোট্ট ঘটনা ঘটে যায় আমাদেরই এপার্টমেন্টে। একটা মেয়ের বিয়ে সংক্রান্ত কথা হচ্ছিল লিফটে দাঁড়িয়ে পাশের ফ্ল্যাটের ভাবির সাথে । মেয়েটির বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে বারবার। কারণ বলতে যা জানলাম তা হল মেয়ে এক ব্রোকেন ফ্যামেলীর মেয়ে। এটাও একটা মেয়ের বিয়ের পাত্রী হিসেবে দোষগুনের লিস্টে জায়গা পাবে তা আমার ভাবনাতেও আসেনি। দেখা হচ্ছে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা রীতিমতো সেই অন্ধকারেই ডুবে আছি। এখনো সূর্যের আলো এসে ছুঁতে পারেনি এই তথাকথিত আধুনিক সমাজকে।
বিবাহ বিচ্ছেদের হাজারো কারণ থাকতে পারে, তবে পাত্র পাত্রীর অমতে জোরজবরদস্তিতে বিয়েগুলোই বেশিরভাগ সময় টেকানো দায় হয়। এই আধুনিক যুগে এসেও যদি অমতে বিয়ে দেওয়া বন্ধ না হয় তবে আর কবে ফিরবে সেই সুদিন?
বাবা মায়ের বিচ্ছেদ এটা কোনো অপরাধ নয় তবে কেন অন্যরা এর মধ্যে দোষ খোঁজে তা আমার বোধগম্য নয়। আর বাবা মায়ের বিচ্ছেদের জের কেন তাদের সন্তান বহন করবে তা-ও আমি বুঝতে পারি না। বহু চিন্তা করেও আমি সেই ঘটনাতে মেয়েটির কোনো দোষ খুঁজে না পেয়ে নিজেই এক পত্রের সন্ধান নিয়ে গিয়েছিলাম কথা বলতে, গিয়ে শুনি মেয়েটা কানাডা চলে গিয়েছে। ওখানেই না কি সেটেল্ড হবে। বুঝলাম না মেয়েটা হেরে গেল না কি জীবন যুদ্ধে জিতল! পালিয়ে গেল বলে মনে হলেও পরে শান্তি পেলাম এই ভেবে যে মেয়েটা নিজের মতো করে বাঁচতে শিখেছে । নিশ্চয়ই ওখানে কেউ ওকে ব্রোকেন ফ্যামেলীর চাইল্ড বলে কথা শোনাবে না, নিশ্চয়ই ওরা মন ও মননে আমাদের এই সমাজ থেকে অনেক উন্নত।
"যতনে বাঁচে ভালোবাসা " উপন্যাসের আস্থা তেমনি এক ব্রোকেন ফ্যামেলীর মেয়ে। ওর জীবনযুদ্ধ নিয়েই এই উপন্যাসের পটভূমি তৈরি হয়েছে। "নির্ঝরের মতো সঙ্গী পেয়েছে বলেই আস্থা এই শৃঙ্খল থেকে বের হতে পেরেছে।" এমন মন্তব্যও পেয়েছি এই পাণ্ডুলিপির বিটারিডারদের কাছ থেকে। তাই আমার প্রশ্ন থাকবে পাঠকদের কাছে, আস্থা কি নির্ঝরের মতো এমন এক জীবনসঙ্গী ডিজার্ভ করে না?
আপনাদের মতামত জানাবেন আশা করি। আমি আমার মতো করে উপন্যাসের ইতি টেনেছি। প্রতিটি সম্পর্কের সঠিক সম্মান দেওয়ার আপ্রাণ প্রচেষ্টা ছিল কারণ আমি জানি প্রতিটি সম্পর্কই একে অপরের পরিপূরক। আস্থা ওর প্রাপ্য ভালোবাসা ও সম্মান নিয়েই আগামীর সুন্দর পৃথিবী গড়বে তেমনটাই আমার প্রত্যাশা । ভালো থাকবেন সবাই। ধন্যবাদ সবাইকে।
সায়লা সুলতানা লাকী ১৯৭৬ সালের ২৬শে আগষ্ট, ঢাকায় জন্ম গ্রহন করেন। লেখিকার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ধাইদা গ্রামে ছিল যা এখন নদী গহ্বরে বিলীন হয়ে গেছে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে তিনিই সবার বড়। বাবা আব্দুল লতিফ চাকলাদার সরকারি চাকরিজীবি ছিলেন। সেই সুবাদে ময়মনসিংহেও কেটেছে জীবনের কিছুটা সময়। মা মরহুমা শামসুন্নাহার নিহার ছিলেন খুবই শিল্পীমনা একজন মানুষ। তাঁর কাছ থেকেই গল্পের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয় লেখিকার। পড়াশোনা তাঁর খুব ভালো লাগে। শিক্ষা জীবনে প্রানিবিদ্যায় বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি (ফিশারিজ) সম্পন্ন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রানীবিদ্যা বিভাগ হতে ফিশারিজে এম ফিল ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।