রাজধানী শহরে পা ফেলার প্রাক্কালে-ই আবিষ্কার করেছিলাম— এ শহর এক অদ্ভুত শহর। কেননা, এ শহরের যাপিত জীবন আমাকে-আপনাকে-সবাইকে ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা, বৈচিত্র্যময়তা আর নানান উপাখ্যানের মধ্য দিয়ে লালিত করে। শহরের নানামুখি দূষণ, হট্টগোল-গণ্ডগোল-কোলাহল, সবুজ বৃক্ষের ছায়াহীন সুউচ্চ অট্টালিকা, মিল-কারখানা প্রথম প্রথম বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালেও একটা সময় এসবের প্রতি অদ্ভুত এক মায়ার জন্ম নিতে বাধ্য করে। তখন শহরই ভালো লাগে। গ্রামকে ভুলিয়ে তুলতে শতভাগ সক্ষম এই যাদুর শহর।
আমার কাছে শহর বলতে ঢাকাকে-ই যে শহর মনে হয়, তা নয়। জন্মভূমি ছেড়ে দু-পা বাড়ালে যে মাটি পায়ের নিচে ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়, তাই শহর। আর সেখানে ঘটে চলে নানান ঘটনা; মুখোমুখি হতে হয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতার। জীবনবোধ আর বিবেক-বুদ্ধি থাকারও পরও কখনও কখনও নিছক দর্শক হয়ে শহরের দিনরাত্রি উপভোগ করতে হয়। এই উপভোগ্যতা কখনও পীড়া দেয়, কখন একরত্তি নাগরিক সুখ দেয়। আবার কখনও শহরের ইট-পাথরের সাথে নিজেকে যান্ত্রিক করে তুলতে বাধ্য করে।
শহরের নানান উপাখ্যান, উচু শ্রেণি থেকে শুরু করে নিচু শ্রেণির মানুষের জীবনবোধ, জীবিকাসংগ্রাম, সুখ-দুঃখগাঁথা, নাগরিক ব্যস্তজীবনের ক্লান্তমুহূর্ত কিংবা লোকচক্ষুর অন্তরালে ঘটে যাওয়া মানবিক-অমানবিক গল্প লেখকদৃষ্টিতে বিচার করে গল্প আকারে তুলে ধরার প্রচেষ্টা নিয়ে-ই নতুন বই ‘এই শহরের দিনরাত্রি’। মলাটবদ্ধ গল্পগুলো কখনও মনে হতে পারে বাস্তব, কারও জীবনের ছায়া অবলম্বনে রচিত কিংবা প্রতিটি চরিত্র থেকে সরাসরি আহরিত। আসলে এসবের কিছুই না। লেখক মন-মননে ভেসে ওঠা শহরের গল্পগাঁথা নিজের মত করে তুলে ধরার প্রয়াসমাত্র। মিলে যেতে পারে কারও জীবনের সাথে, ঘটে থাকতে পারে এমন কিছু ঘটনা যা এই শহরে ঘটে, ঘটছে বা ঘটেছিল।
আমি শহরকেন্দ্রিক জীবনচরিত নিয়ে গল্প বুনতে বেশি ভালোবাসি। তার চেয়ে বড় কথা, আমি এই শহরকে বেশি ভালোবাসি। আর তাই তো চোখের পরতে ভেসে আসে শহরের নানা কল্পচিত্র যা কখনও কখনও বাস্তবতাকেও হার মানায়। সে কল্পচিত্র থেকে ইতোপূর্বে লিখেছি ‘শহরের অসম প্রেম’ ও ‘দেখা শহরের অদেখা গল্প’ নামক বই দুটি। ‘এই শহরের দিনরাত্রি’ তাদেরই উত্তরসূরি।
গল্প ভালো লাগা কিংবা মন্দ লাগা পাঠকের নিজস্ব অভিরুচির বিষয়, আপেক্ষিকও বটে। তবে সামান্য এক লেখক হিসেবে এটুকু প্রত্যাশা করতেই পারি যে হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি কী বলতে চেয়েছি, তা আগে আপনাকে উপলব্ধি করতে হবে। অতঃপর, আপনাদের ভালো লাগা, মন্দ লাগার অভিব্যক্তি প্রকাশ থেকে আমি আরও ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা পাব বলে আশা রাখি। সবসময় প্রিয় মানুষগুলোকে পাশে চাই। বইয়ের কথা ছড়িয়ে দিতে চাই নিকট থেকে দূরবর্তি, সবখানে। বইয়ের কথা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র।
বর্তমান লেখকদের মধ্যে পরিচিত মুখ। শৈশব-কৈশোরে লেখালেখির হাতেখড়ি। নিয়মিত লিখছেন দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিন ও সাময়িকীতে। সাহিত্যের সব শাখাতেই আছে সমান দক্ষতা। দক্ষতা, আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব ও প্রতিশ্রুতিশীলতা ক্রমশ এই লেখককে আগামীর পথ দেখাচ্ছে। বছরব্যাপী নতুন বই প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকমহলে চমক সৃষ্টি করে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যে এই প্রতিভাবান লেখকের অবাধ বিচরণে মুগ্ধ সবাই।
তিনি ১৯৯৭ সালের ৭ নভেম্বর নাটোরের চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করছেন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হওয়ার পরও লেখালেখির সূত্রে ঝুঁকে পড়েন সাংবাদিকতায়। দৈনিক মানবকণ্ঠে সাব-এডিটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও সরকারি চাকরি পাওয়ায় তা আর করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ ইউনিট ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র কম্পিউটার বিভাগে কর্মরত আছেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা: ‘পাপড়ি-করামত আলী পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০১৯’, ‘রূপচাঁদা: অদেখা বাংলাদেশ সেরা গল্পকার-২০১৯’, ‘চয়েন বার্তা সম্মাননা-২০২০’, ‘লিখিয়ে পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০২০’, ‘প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০২২’।