শায়খ তাকীউদ্দিন আন নাবহানী রহ.’ রচিত ‘আশ-শাখসিয়্যাতুল ইসলামিয়াহ্-৩য়’ এবং আল্লামা ‘আতা আবূ আর রাশতা’ প্রণীত ‘তাইসীরুল ওয়াসূল ইলাল উসূল’ গ্রন্থের অনুকরণে শায়খ মুহাম্মাদ আলী সংকলিত ‘উসূলুল ফিকহ্’ এর বাংলা অনুবাদ আর কয়েকদিনের মধ্যেই পাঠকদের হাতে আসছে আলহামদুলিল্লাহ।
মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় পূণর্জাগরণ নিঃসন্দেহে কেবলমাত্র ইসলামের বুনিয়াদের উপরই হতে পারে। কিন্তু এ বিষয়টি প্রত্যেক মুসলমানের কাছে এই দাবী করে যে, মুসলিমগণ ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও একমাত্র জীবনাদর্শ হিসেবে মনে প্রাণে গ্রহণ করবে। যেহেতু মুসলিমগণ শুরু থেকেই বিশ্বাসগতভাবে ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত, তাই মুসলমানদের জীবনের বিভিন্ন বিষয়সমূহের সঠিক ও সুন্দর সমাধান তখনই সম্ভব হবে, যখন তারা ইসলামী আক্বীদা-বিশ্বাস থেকে উৎসারিত ব্যবস্থার উপর পরিচালিত হবে।
আফসোস! এ বিষয়টি যথাযথভাবে না বুঝার কারণে আজ অনেক মুসলিম নিজেদের সমস্যার সমাধান পশ্চিমা জীবন ব্যবস্থার মাঝে খুঁজে বেড়াচ্ছে। পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা অধিকাংশ মুসলমানদের চিন্তা-চেতনায় এতোই ব্যাপক ও সবগ্রাসী প্রভাব বিস্তার করেছে যে, এগুলো কেবল ‘দুনিয়াবি কার্যক্রম থেকে দ্বীনকে পৃথককারী’ (নাস্তিক-কম্যুনিস্ট) সেক্যুলারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটা ঐ সকল লোকদের মাঝেও বিস্তৃত হয়েছে, যারা নিজেদেরকে ‘মডারেট মুসলমান’ বলে দাবী করে এবং অন্য লোকদেরকেও তাদের সেই ‘মডারেট ইসলাম’ -এর প্রতি আহ্বান করে। এর পাশাপাশি পশ্চিমাদের বিভিন্ন মতবাদকে ইসলামী স্বীকৃতি দেয়ার জন্য পাশ্চাত্যের ধ্যান-ধারণাকে মূলভিত্তি ধরে ইসলামের সাথে তার সম্পর্ক সৃষ্টি করার এক মহামারী সৃষ্টি হয়েছে। যা বিগত দেড়শত বছর যাবত রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের নিবিড় সহায়তায় হয়ে আসছে। পাশ্চাত্যের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত এই সকল লোকদের কর্মকাণ্ড অনেকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।
এই উম্মাহ কেবলমাত্র তখনই এ সকল ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পাবে, যখন তারা ইসলামী উসূল (বা মূলনীতি) এবং কুফরী উসূল (বা মূলনীতি)-এর মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করবে। আর এ বিষয়টা তখনই সম্ভব হবে, যখন উম্মাহ ইসলামী শরীয়তের মূল বিষয় তথা উসূলে ফিকাহ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে এবং তার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম-নীতিগুলোকে নিজের মধ্যে যথাযথ বাস্তবায়ন করবে।