আমাদের বেশিরভাগই আসলে জানি না—মাথার ভেতরে ঠিক কী চলছে। অথচ মস্তিষ্কবিজ্ঞানীরা এমন অনেক তথ্য উন্মোচন করেছেন, যা ব্যবসায়িক নেতা, অভিভাবক আর শিক্ষক—সবারই জানা উচিত। যেমন: মস্তিষ্ককে সর্বোচ্চ দক্ষতায় চালাতে শারীরিক নড়াচড়া/ব্যায়াম কতটা জরুরি।
তাহলে আমরা শিখি কীভাবে? ঘুম আর স্ট্রেস মস্তিষ্কের উপর ঠিক কী প্রভাব ফেলে? কেন “মাল্টিটাস্কিং” আসলে একটা মিথ? কেন ভুলে যাওয়া এত সহজ—আর নতুন জ্ঞান টিকিয়ে রাখতে বারবার অনুশীলন/পুনরাবৃত্তি করা এত গুরুত্বপূর্ণ? সত্যিই কি নারী-পুরুষের মস্তিষ্কে পার্থক্য আছে?
ব্রেইন রুলস (Brain Rules) বইটিতে আণবিক জীববিজ্ঞানী ড. জন মেডিনা তাঁর দীর্ঘদিনের আগ্রহ দিয়ে দেখান—মস্তিষ্কবিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলো কীভাবে আমাদের সন্তানদের শেখানো এবং কর্মক্ষেত্রে কাজ করার ধরন বদলে দিতে পারে। বইটির প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি তুলে ধরেন একটি করে “ব্রেইন রুল”—অর্থাৎ, আমাদের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা যা নিশ্চিতভাবে জানেন—এবং তারপর দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগযোগ্য কিছু বদলে দেওয়ার মতো আইডিয়া দেন।
মেদিনার রোমাঞ্চকর গল্প বলার ক্ষমতা আর সংক্রামক রসবোধ মস্তিষ্কবিজ্ঞানকে একদম জীবন্ত করে তোলে। এই বই পড়তে পড়তে আপনি জানতে পারবেন কেন মাইকেল জর্ডান বেসবলে তেমন সফল ছিলেন না। আপনি এক সার্জনের কাঁধের ওপর দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখবেন—আমাদের অনেকের মস্তিষ্কে কীভাবে “জেনিফার অ্যানিস্টন নিউরন”-এর মতো নির্দিষ্ট নিউরন সক্রিয় হয়। আপনি পরিচিত হবেন এমন এক ছেলের সঙ্গে, যার সংগীত-স্মৃতি আশ্চর্য রকমের শক্তিশালী—কিন্তু সে নিজের জুতোর ফিতা বাঁধতেই পারে না।
সবশেষে আপনি আবিষ্কার করবেন—
প্রতিটি মস্তিষ্ক আলাদা ভাবে “ওয়্যার্ড” (তৈরি ও সংযুক্ত)