বাংলায় ভূমি ব্যবস্থার ইতিহাসে জমিদারি ব্যবস্থার উদ্ভব ও বিকাশ এক বিশাল অধ্যায়। প্রাচীনকালে কৃষি সভ্যতা বিকাশের প্রাক্কালে ভূমিতে আবাদকারী চাষির ব্যক্তি মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠা হয়। পরবর্তীতে রাজতন্ত্রের প্রয়োজনে ভূমিতে পর্যায়ক্রমে মধ্যস্বত্ব, সামন্ত ও জায়গির ব্যবস্থা ইত্যদি প্রচলিত হয়। মধ্যভারতে চতুর্দশ শতাব্দীতে জমিদারি ব্যবস্থা চালু হয়ে গেলেও বাংলায় মোগল বিজয় অভিযানের প্রারম্ভিক পর্যায়ে (১৫৮২ সালে) সম্রাট আকবরের রাজস্বমন্ত্রী টোডরমল তার বিখ্যাত ওয়াশিল জমা তুমারি বন্দোবস্তমূলে বাংলায় জমিদারি ব্যবস্থার প্রচলন করেন। বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নানা দোষেগুণে পুরো মোগল ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময়কাল (৩৭০ বছরাধিককাল) অতিক্রমণে আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবল প্রতাপে ব্যাপক প্রভাববিস্তারকারী শক্তি হিসেবে জমিদারি ব্যবস্থা বাংলার সমাজজীবনের এক অপরিহার্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছিল। ১৯৫০ সালে দ্যা ইস্ট বেঙ্গল স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনেন্সি এক্ট এবং ১৯৫৩ সালের দ্যা ওয়েস্ট বেঙ্গল এস্টেট একুজিশন এ্যান্ড টেনেন্সী এক্ট এর বিধানমতে জমিদারি অধিগ্রহণের মাধ্যমে পুরো বাংলায় এ প্রথার আইনগত সমাপ্তি ও বাস্তব বিলুপ্তি ঘটে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক চাহিদার প্রয়োজনেই ভূমিতে আদি ব্যক্তি মালিকানা পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে বাংলায় ভূমিস্বত্ব ও ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা বিবর্তীত হয়ে এক পর্যায়ে জমিদারি ব্যবস্থায় উপনীত হয় এবং তা এ দীর্ঘ সময়ব্যাপী স্থায়িত্ব লাভ করে। এ দীর্ঘ সময়ে জমিদারির অবয়বে, প্রকৃতিতে, শ্রেণি কাঠামোতে, মালিকানায় এবং ক্ষমতায়নে বহুমাত্রায় রূপান্তর ঘটে। এ জন্য বাংলার ভূমি ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য অনন্য। গবেষণালব্ধ তথ্যের আলোকে বাংলায় জমিদারির উদ্ভব, ক্রমবিকাশ ও অবসানের এ সুবিশাল ইতিহাস সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে এ গ্রন্থে। পাশাপাশি জমিদারি ব্যবস্থাপনা, জমিদারি, তালুকদারি ও রায়তি স্বত্বের প্রকৃতি, শ্রেণিবিন্যাস, আইনগত অবস্থান ইত্যাদি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করা হয়েছে। বাংলার কতিপয় বিখ্যাত জমিদারির পরিচিতি
এ গ্রন্থে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করা হয়েছে। জমিদারি বিলুপ্তির শতবছর পেরোয়ে গেলেও এখনো মানুষের জমির মালিকানা নির্ধারণে জমিদারি আমলের সিএস খতিয়ানকে খুবই নির্ভরযোগ্য ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জমিদারি, তালুকদারি ও রায়তি স্বত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ঠ ধারণা দেশে বিদ্যমান বিবাদবিসংবাদ ও মামলা মোকদ্দমার জটিলতা নিরসনে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ গ্রন্থে বাংলার জমিদারি, তালুকদারি ও রায়তি স্বত্বের উদ্ভব, বিকাশ ও পরিণতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করা যায় ইতিহাস সন্ধানী, গবেষক, ভূমি আইন, প্রশাসন ও সমাজ চর্চায় অনুরাগী ও সচেতন নাগরিক এবং সাধারণ পাঠক এ