দীদার মাহদী—একজন প্রতিভাবান তরুণ আলেম, ছড়াশিল্পী, কবি, গীতিকার, প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও আলোচক। তার কলম সচেতন সমাজ নির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে উঠে এসেছে নানা মাত্রায়—ইসলাম, গ্রামীণ জনজীবন, প্রকৃতি, দেশ, মাটি, ফুল-ফসল এবং সময়ের বাস্তবতা। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেন নির্মল সত্যের কবিতা।
দীদার মাহদীর জন্ম ১৯৯১ সালের ৩ মে, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার দক্ষিণ গজারিয়া গ্রামে। পিতা সিরাজুল ইসলাম এবং মাতা দেলোয়ারা বেগম দুলু—যাঁদের আদর্শিক ছায়াতলে বেড়ে উঠেছেন তিনি। ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এক অনন্য সমন্বয় গড়ে তুলেছেন নিজের জীবনে। তিনি একজন হাফিজুল কুরআন। দাওরায়ে হাদীস (সমমান ইসলামী মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া, ঢাকা থেকে। পাশাপাশি বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। কামিল (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা থেকে।
তার সাহিত্যচর্চার শুরু হয় ছোটবেলায়। প্রথম লেখা প্রকাশ পায় সাহিত্যকলি পত্রিকায়। তারপর থেকে জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, দ্বিমাসিক ও বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখে আসছেন। লেখার উপজীব্য কখনো গ্রামের নিসর্গ, কখনো সমাজের চিরচেনা বাস্তবতা। সমাজ সংস্কারমূলক ধারায় তার প্রাবন্ধিক পরিচিতি যেমন বিস্তৃত, তেমনি ছড়া-কবিতার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে মমতা, প্রতিবাদ ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- প্লে শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্য বই, সেরা শিক্ষক হওয়ার কৌশল, সেরা শিক্ষার্থী হওয়ার কৌশল, বক্তৃতা শেখার কলাকৌশল, প্রডাক্টিভ রমাদান, প্রশ্নোত্তরে রমাদান, ম্যারেজ ম্যাটার্স, শাশুড়ি বউমার মধুময় সম্পর্ক, আদর্শ নারীর জীবন পাঠ, হুজুরের বউ হব কেন, মুমিন জীবনের পাঠশালা এবং ছড়াগ্রন্থ মদপায়ীদেরকে ভেংচি, যা পাঠক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
পারিবারিক জীবনে তিনি একজন নিবেদিত স্বামী ও পিতা। স্ত্রী আসমা আক্তার হুমায়রা এবং দুই কন্যা—রুফাইদা জান্নাত ও নুসাইবা তাহনীমকে নিয়ে তার পরিবার। ভাইদের মধ্যে দীনার আহমাদ ও দেলোয়ার হুসাইন তার জীবনে সহযোদ্ধার ভূমিকা রাখছেন।
পেশায় একজন পুরোদস্তুর শিক্ষক। শরীয়তপুর জেলার অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ দারুলহুদা মডেল মাদরাসার প্রধান হিসেবে ২০২০ সাল থেকে কর্মরত আছেন। পরিচালনা করছেন নাগেরপাড়া মডেল মাদরাসা ও শরীয়তপুর ইসলামী একাডেমি।
খতীবের দায়িত্ব পালন করছেন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিংটোলা সিঁতারা বেগম জামে মসজিদে।
টিভিতে ইসলামিক প্রোগ্রামে আলোচনা রাখেন। পাশাপাশি দেশব্যাপী ওয়াজের ময়দানে কুরআনের আলো ছড়ান।
তার লেখনী যেন পাঠকের হৃদয়ে স্পর্শ রাখে, সমাজে আলো ছড়ায়—এই প্রত্যাশায় আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সমুজ্জ্বল সাহিত্যিক ভবিষ্যৎ কামনা করছি।