বিশ্বরাজনীতির চাকা ঘুরছে ধীরে ধীরে, কিন্তু এই ধীরগতি কোনো স্থবিরতা নয়; বরং ইতিহাসের অন্ধকার দিগন্তে জমতে থাকা এক অনিবার্য ঝড়ের পূর্বাভাস। যারা মনে করেন, পরাশক্তি সমূহের সংঘাত-মঞ্চে নীরবতা মানেই শান্তি, তাদের জন্য এ নীরবতাই হবে সবচেয়ে বড়ো বিভ্রম। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলবিদরা খুব ভালো করেই জানে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির গভীরে চলছে তীব্র রূপান্তর।
তাদের কাছে এখন অস্বীকারের কোনো পথ নেই—২০৪০ সালের মধ্যেই চীন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে আর অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব কেবলই নিরীহ সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব-নিকাশ নয়; এটি শক্তিমত্তার নতুন সংজ্ঞায়ন। কারণ, অর্থনৈতিক আধিপত্য যখন দৃঢ় হয়, রাষ্ট্রীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি তখন নিজ ভূখণ্ড পেরিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্তার লাভ করে আর প্রভাব বিস্তার মানেই সামরিক উপস্থিতি, কূটনৈতিক আগ্রাসন এবং ভূরাজনীতির অঙ্গনে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অমানবিক প্রতিযোগিতা।
যুক্তরাষ্ট্র তা বুঝে গেছে; কিন্তু মেনে নিতে পারেনি। চীন তা জানে;তবে সময়কে নিজের পক্ষে কাজে লাগাতে অসাধারণ ধৈর্য প্রদর্শন করছে আর পৃথিবী অপেক্ষা করছে সেই মুহূর্তের, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হারানো সাম্রাজ্যের মুকুট উদীয়মান শক্তির মাথায় উঠবে নতুন আধিপত্যের ঘোষণাপত্র হয়ে।
এই প্রেক্ষাপটে পরবর্তী ১০-১৫ বছরের মধ্যে ভারতও প্রতিযোগিতার ময়দানে অবতীর্ণ হতে পারে, যা ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মনে নতুন উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। কারণ, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির রাষ্ট্র হওয়ার পথে ভারত যখন অগ্রসর হচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে—তার একক আধিপত্যের অবসান ঘটতে যাচ্ছে, রচিত হচ্ছে মাল্টি পোলার বিশ্বব্যবস্থার বুনিয়াদ।
চীনকে মোকাবিলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কখনোই সহজ ছিল না, কারণ চীন তার অর্থনৈতিক শক্তি, শিল্পনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ককে এমন এক দুর্ভেদ্য