বর্তমান বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রমপুর নামক কোন স্থান নেই। কিন্তু বিক্রমপুর এক বৃহত্তর জনপদ, এক অঞ্চল এবং বাংলাদেশের জ্ঞান ও সৃজনশীল চর্চার পুণ্যভূমি।
শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতীয় উপমহাদেশের বিজ্ঞান, রাজনীতি ও সাহিত্য চর্চায় বিক্রমপুরের নাম অগ্রগণ্য। এক সময় যে বিক্রমপুরের সুখ্যাতি চীনের তিব্বত থেকে শুরু করে গ্রিসের এথেন্স পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল, যে বিক্রমপুর ছিল বাঙলার রাজধানী, সে বিক্রমপুর পরে মুন্সিগঞ্জ হয়ে দেশভাগ পরবর্তী সময়ে মেধাশূণ্য হয়ে পড়ে।
ঠিক ভারতের ইউপি বিহার যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নগরী থেকে মূর্খতার আতুঁড় ঘরে রূপান্তরিত হয়েছে, বিক্রমপুরের পরিবর্তন তেমন চরম না হলেও তা অবশ্যই বিহার বা মিশরের মেমফিসের সঙ্গে তুলনীয়।
বিক্রমপুরের ইতিহাস নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বই রচনা করেন শ্রী যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত। ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয় তার বই বিক্রমপুরের ইতিহাস। এতে এ অঞ্চলের ভূগোল, রাজনীতি, সাহিত্য, বিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান যেমন স্থান পেয়েছে তেমনি স্থান পেয়েছে সামাজিক ইতিহাস এবং ১৯০৯ সালের বিক্রমপুরের চিত্র। তিনি একেবারের ইউনিয়ন পর্যায় ধরে ধরে বিক্রমপুরের বর্ণনা দিয়েছেন। যেন উপন্যাসের মত করে মেলে ধরেছেন বিক্রমপুরের প্রকৃতি ও মানুষ।
দার্শনিক ও চিকিৎসক অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুসহ বিক্রমপুরের কৃতি ব্যক্তিত্বদের নিয়েও আলোচনা করেছেন যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন জগদীশ চন্দ্রের বন্ধু। ঠাকুর বাড়িতেও ছিল তার অবাধ যাতায়াত। শরৎচন্দ্র দাশ, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বর্ণকুমারী, প্রমথ চৌধুরীদের সান্নিধ্যে সাহিত্য চর্চা করা যোগেন্দ্র ছিলেন বেঙ্গল রেনেসাঁর একজন কৃতি পুরুষ।
শত বর্ষ ধরে তার রচিত ছবি সম্বলিত এই বইটি সংরক্ষণ করে এসেছেন যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তের পরিবার; যারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন। যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তের প্রপৌত্রী অধ্যাপক শ্রীমতী উত্তরা চক্রবর্তীর হাত ধরে বইটি পুনঃপ্রকাশ করলো আদিত্য প্রকাশ। এর মুখবন্ধ লিখেছেন বিক্রমপুর জাদুঘরের কিউরেটর অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া।