3 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 400TK. 349 You Save TK. 51 (13%)
কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙে নার্গিস বেগমের। অনেকক্ষণ ধরেই তিনি চাপা একটা কান্নার শব্দ পাচ্ছিলেন। কিন্তু বিছানা ছাড়তে ইচ্ছা করছিল না তার। দেরিতে ঘুমাতে যাওয়ার কারণে ঘুমের রেশ কাটছে না। ত
‘পারমিতাকে শুধু বাঁচাতে চেয়েছি’ উপন্যাসের সমাপ্তিতে রয়েছে করুণ সুরের রাগিণী। ক্যান্সারে আক্রান্ত পারমিতাকে বাঁচানো গেল না। প্রথম স্বামী নাজমুলের দ্বিতীয় বিবাহ তার পিতার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। কিছুদিন পরে নাজমুলও প্রবাসী জীবনে ইহলোক ত্যাগ করে। পারমিতার দ্বিতীয় স্বামী সানাউল ভবঘুরে। যে ভালোবাসার কাঙাল হয়ে পারমিতা তার সুরের প্রেমে মগ্ন হলো সেখানে বিচ্ছেদ ঘটে গেল মানসিক দূরত্বে। নিষ্ক্রিয়, সন্দেহবাতিক, মদ্যপ একজন অপেশাদার গানের শিক্ষক সানাউল পারমিতাকে কোনো সুখরাজ্যের সন্ধান দিতে পারেনি। সানাউলের বিকারগ্রস্ততা, অসুস্থতা, অচরিতার্থতা পারমিতার স্বাভাবিক সুস্থ দাম্পত্য জীবনের জন্য প্রতিবন্ধক শক্তি। এই শক্তির নিকট সে পরাজিত। সমাজমূলের নানা অসঙ্গতির কেন্দ্রে এ দুজনকে প্রতিস্থাপন করেছেন মোস্তফা কামাল। কিন্তু তাদের অতৃপ্ত বাসনা চরিতার্থতার সুযোগ সমাজ দেয় না, তাই লেখক প্রতিটি নর-নারীর অন্তর্জাগতিক শূন্যতা ও যন্ত্রণাকে তুলে ধরেছেন দৈহিক শুচিতা রক্ষা করে। তিনি অবরুদ্ধ সমাজের সঙ্গে নর-নারীকে সামঞ্জস্য করলেও শিল্পের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে তাঁর উপন্যাসের বিষয়ে নারীর সংগ্রামশীল মনোজগতের কথাই প্রাধান্য পায়।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামালের ‘পারমিতাকে শুধু বাঁচাতে চেয়েছি’ একজন নারীর প্রত্যাশা, অচরিতার্থতা, যন্ত্রণা, সংগ্রামশীলতা তথা অস্তিত্বের সামগ্রিক আকাক্সক্ষার রূপায়ণে বিশিষ্ট। দুই বছর আগে প্রকাশিত ‘জননী’তে বড় ক্যানভাসে গ্রাম এবং শহরের ভূগোলকে কেন্দ্র করে মধ্যবিত্ত এক মমতাময়ী মা’র জীবনালেখ্য উপস্থাপিত হয়েছে। সানজিদা বেগম ওই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। ‘জননী’ বিপুল সংখ্যক পাঠককে বিমোহিত করেছে। গত বছর মোস্তফা কামাল রচনা করেন ‘রুবীর কালো চশমা’। সেই উপন্যাসে রুবীর ব্যক্তিমানুষের অতল গহীনে ডুব দিয়ে একজন নারীর যন্ত্রণা, কষ্ট, ভয়, হতাশা, সংশয়, সাহসিকতাকে পরিস্ফুট করেছেন তিনি। অর্থাৎ নারী চরিত্র রূপায়ণে মোস্তফা কামালের সহানুভূতি, আন্তরিকতা অসামান্য এবং বাস্তবতার নিরিখে পিছিয়ে পড়াদের সক্ষমতার জায়গাটি তৈরি করার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর। তাঁর জীবন-অভিধানে হতাশা শব্দটি নেই। তিনি স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অদম্য চেষ্টা করেন। এ কারণেই হয়তো তিনি সাফল্য পাচ্ছেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। তাঁর পেশা সাংবাদিকতা আর নেশা লেখালেখি। ২৫ বছর ধরে তিনি নিয়মিত লিখছেন। সাংবাদিকতা ও লেখালেখি উভয় ক্ষেত্রেই তিনি সমান খ্যাতি অর্জন করেছেন।