লেবুমামার স্রষ্টা মোহাম্মদ নাসির আলী বাংলাদেশের শিশু সাহিত্যের একজন অগ্রগণ্য প্রাণপুরুষ ।সারা জীবন তিনি শিশুদের নিয়ে শিশুদের নিয়ে ভেবেছেন। তাদের জন্যে মমতা মিশিয়ে লিখেছেন।লেখায় এনেছেন বিষয় বস্তুর ধারা। বহু বিচিত্র ধারা। মোহাম্মদ নাসির আলী বহু বই শিশুদের জন্যে রচনা করেছেন। তার মধ্যে মোহাম্মদ নাসির আলী এর কয়েকটি বইয়ের নাম উল্লেখ করলেই লেখক মানস মূর্ত হয়ে উঠবে সবার সামনে। ভিনদেশী এক বীরবল বইটি নাসিরুদ্দিন হোজ্জার হাসির গল্প নিয়ে রচিত। তিমির পেটে কয়েক ঘণ্টা , যোগাযোগ , বারশো বানরের পাল্লায় ইত্যাদি বইয়ে গল্পের মত লিখেছেন জানা অজানা নানা বিষয় । শিশুদের সহজ ও আকর্ষণীয় ভাবে জানাতে চেয়েছেন, পরিচিত করতে চেয়েছেন বিভিন্ন বিষয়ের সাথে। বীরবলের খোশগল্প , বোকা বকাই, সাত পাঁচ গল্প, ছোটদের ভালো ভালো গল্প ইত্যাদি গ্রন্থে পাওয়া যায় লোক কাহিনী ,রূপকথা ও ইতিহাসের গল্প। এ ছাড়াও আরব্য রজনীর গল্প কিংবা হাদীসের কাহিনিও লিখেছেন ছোটদের জন্যেও। অনুবাদ সাহিত্যেও তার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ্যযোগ্য। চিরায়ত শিশু সাহিত্যের কয়েকটি অসামান্য কাহিনী তিনি অনুবাদ করেছিলেন। নাসির আলী এর বাছাই করা অনেক গুলা গল্প নিয়ে এ গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। এই গল্পগুলোর মধ্যেই নাসির আলীর সঠিক লেখক লেখনী খুজে পাওয়া যাবে। তিনিই একমাত্র লেখক যিনি খাটি অর্থে বিদ্যালয় গল্প লিখেছেন। বিদেশী কাহিনির ভাবানুবাদ করেছেন। লিখেছেন উপদেশমূলক গল্প। যে কোনো বড় মাপের শিশু সাহিত্যিক মানেই স্বপ্ন দ্রস্টা , দায়িত্বপ্রবন এবং অঙ্গীকার বদ্ধ। শিশুদের তিনি কক্ষনো নিয়ে যেতে চান সবপ্নের রাজ্যে, কক্ষনো বা জ্ঞান রাজ্যে, কক্ষনো উদ্বুদ্ধ করেন দেশ ও জাতি প্রেম এ। কক্ষনো গল্পের ছলে সিক্ষামুলক বিষয়ের অবতারণা করেন। এ রকমই একজন বড় মাপের শিশুসাশিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আলী। নিরন্তর বিভিন্ন বিষয়আশ্রয়ী লেখা লিখে তিনি শুধুমাত্র সাহিত্যের মান বৃদ্ধি করেননি ।শিশু কিশোর দের মানসিক উৎকর্ষ সাধনেও সহায়তা করেছেন। সে অর্থে মোহাম্মদ নাসির আলী সেই সব বিরল প্রজাতির লেখকদের একজন যারা ছোটদেরকে শুধু আনন্দের সন্ধানই দেন না , আনন্দের মধ্যে দিয়েই শিক্ষার উচ্চায়ত জগতের দিকে টেনে নেন।