সাহিত্য মানব মনের আয়না। কবিতা সাহিত্যের একটা শাখা। একটি কবিতা যত ছোটই হোক, তা একটি মহাবিশ্বের দরজা খুলে দিতে পারে। কবিতা হচ্ছে বুকের গভীরে জমে থাকা মুক্তোদানা। কবিরা তা কলম আর কালির মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন।
একটি ভালো কবিতা মানব মনকে শুদ্ধতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। একটি কবিতার মাধ্যমে পাল্টে দেওয়া যায় একটি সমাজ, একটি বিশ্ব। প্রত্যেক কবি-লেখকদের নিকটই তাদের লেখা সাহিত্য সন্তানের মতো। কবিরা অতি যত্নে সেই সন্তানকে লালন-পালন করেন।
‘রূপালি অপরাহৃ’ গ্রন্থটি কবি ওয়াহিদা বানু স্বপ্নার একক কাব্যগ্রন্থ। ওয়াহিদা বানু স্বপ্নার ‘রূপালি অপরাহ্ন’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি প্রেম-ভালোবাসা, অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের ভাব-ভাবাবেগ, চিন্তা-চেতনা, সমতার-সমানুকতা, বৈষম্যে-বহুমাত্রিকতা, বিদ্রোহ-বিপ্লব ক্ষুধা, জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি অবাধ্য-মহানুভবতা, সহমর্মিতা, মানুষ-মানুষের প্রতি সহানুভুতির উপরে ফেলেছে সমাজের ঈর্ষা, হিংস্র-নিষ্ঠুরতার প্রলেপ ‘রূপালি অপরাহ্ন’ ভাবনায় ভাসিয়ে দেবে সূর্যের আলোক ছটায় প্রশান্তির জলধারা। মাতৃভাষা, স্বদেশ প্রেমের সূর্যরশ্মি ছড়িয়ে গেছে তরুণ প্রজন্মের নতুন আগামী রচনায়। এছাড়াও উঠে এসেছে সামাজিক বন্ধনের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা। এই কাব্যগ্রন্থে উঠে এসেছে বিগত পতিত সময়ের ঝরাপাতাদের গল্প ও বিজয়ের ফুল শিহরিত মনোমুগ্ধকর সুবাস। কবিতাগুলো সম্পাদনায় রয়েছে কবির দৃঢ় স্বীকারোক্তির বিনম্র প্রকাশ। আশাকরি পাঠক কবিতা পড়ে বিরহের নয়-বিভাজনের নয়, বন্ধনের সাধ খুঁজবেন।
যেমন:
মৃত্যুর দূতরা এইখানে
আমাদের খুঁজে পায়
আমগাছের ছায়
কবুতরদের খাবার ছিটায়
ঘাসের উপর পায়চারি
করো তুমি খালি পা’য়। (কবিতা-মৃত্যুদূত)
অথবা:
চারিদিকে! আমার আশপাশে
যা দেখি কেমন জটিল লাগে
যতোই করি হিসাব-নিকাশ
যোগ-বিয়োগের অবশেষে
ফলাফল মিলে যায় শূন্য। (কবিতা-অস্পষ্টতা)
ব্যতিক্রধর্মী এ কাব্যগ্রন্থটি আশাকরি পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। কবির জন্য শুভকামনা।