সাহিত্য মানব মনের আয়না। কবিতা সাহিত্যের একটা শাখা। একটি কবিতা যত ছোটই হোক, তা একটি মহাবিশ্বের দরজা খুলে দিতে পারে। কবিতা হচ্ছে বুকের গভীরে জমে থাকা মুক্তোদানা। কবিরা তা কলম আর কালির মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন।
একটি ভালো কবিতা মানব মনকে শুদ্ধতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। একটি কবিতার মাধ্যমে পাল্টে দেওয়া যায় একটি সমাজ, একটি বিশ্ব। প্রত্যেক কবি-লেখকদের নিকটই তাদের লেখা সাহিত্য সন্তানের মতো। কবিরা অতি যত্নে সেই সন্তানকে লালন-পালন করেন।
‘বেদনার বালুচর’ গ্রন্থটি কবি জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব’র একক কাব্যগ্রন্থ। এতে যেমন আছে প্রেম ও বিরহের চিরন্তন সুর, তেমনি অনুরণিত হয়েছে দ্রোহের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। আপনারা পাবেন মাটি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ। যেখানে মিশে আছে এই জনপদের ঘ্রাণ আর সাধারণ জীবনের সুখ-দুঃখের প্রতিচ্ছবি।
সময়ের স্রোতে ভেসে আসা নানা সম-সাময়িক বিষয় ও রাজনীতির চিত্রকে ধরে রাখা হয়েছে কবিতার ছন্দে। এই কাব্যগ্রন্থে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে কবি চেয়েছেন জীবনের সকল দিককে স্পর্শ করতে যা আপনাদের ভাবনার জগতকে প্রসারিত করবে।
‘বেদনার বালুচর’ হয়তো আকারে ছোট কিন্তু এর প্রতিটি কবিতা এক-একটি স্বতন্ত্র দ্বীপ, যেখানে জীবনের ভিন্ন ভিন্ন আবেগ আর বাস্তবতা আশ্রয় নিয়েছে গ্রন্থের প্রতিটি পাতায়।
যেমন:
তোমার অবহেলার প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে
আমার বাসনার তরী,
দিগভ্রান্ত বিবাগী তরী আমার নোঙর ফেলতে পারেনি
তোমার হৃদয়ের শান্ত মোহনায়!
(কবিতা-বেদনার বালুচর)
অথবা:
অজস্র চোখের ভিড়ে খুঁজি সেই দুটি চোখ-
যে চোখ তেত্রিশ বছরের পুরনো
এক মায়াবী কাজল কালো চোখ-
তেত্রিশ বছর আগে যে চোখে স্থির হয়েছিল
আমার দুটি পিপাসাতুর চোখ! (কবিতা-অপেক্ষার তেত্রিশ বছর)
আশাকরি বইটি আপনাদের হৃদয়ে অনুরণন সৃষ্টি করবে এবং আপনারা কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তিতে আপনাদের নিজেদের ভাবনা ও অনুভূতি খুঁজে পাবেন। বিশ্বাস নিয়ে আবারও বলছি বইটি আপনাদের নিরাশ করবে না। আশাকরি বইটি পাঠকপ্রিয়তা পাবে।