যখন বাংলা কবিতা নোবেলবিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরম বৈভবে জাজ্বল্যমান, তখন বাংলা কবিতার দিগšেত্ম কয়েকজন আধুনিকতাবাদী কবির আবির্ভাব হলো। সচরাচর তাদের ‘ত্রিশ দশকের কবি’ বলে উলেস্নখ করা হয় এবং বাংলা কবিতায় আধুনিকতা প্রবর্তনের জন্য কৃতিত্ব প্রদান করা হয়। তাদেরই একজন, কবি জীবনানন্দ দাশ, কালক্রমে বিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাংলা কবিতার প্রতিভূ হয়ে ওঠেনÑতাঁর কবিতাবলিতে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার আবশ্যকীয় চারিত্র্য এবং বৈশিষ্ট্যাবলি অনপনেয়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশ আপাদম¯ত্মক দার্শনিক হলেও সচেতন ছিলেন যে, কাব্য একটি শিল্প। কবিতার প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত ছিলেন। এ-ও আশ্চর্যজনক যে, জীবনানন্দ দাশ কবিতার সংজ্ঞা নিরূপণের পরিবর্তে প্রশ্ন তুলেছিলেনÑকবি কে? তার অবিস্মরণীয় উচ্চারণ : সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি। অর্থাৎ কবিতা রচনার মাহাতে¥্যই কেউ ‘কবি’ হয়ে যান না। তার মতে কবিতা সত্য ও বা¯ত্মবকে ধারণ করবে এমন নতুনভাবে যেন পাঠক আকাশে নতুন জ্যোতিষ্ক অবলোকনের আনন্দ লাভ করে।
কবি জীবনানন্দ দাশের কাব্যভাবনা ও কাব্যজগতের চৌহদ্দি এবং বিশ্ববীক্ষার একটি সামগ্রিক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা সমস্যাসংকুল কেননা তার অধিকাংশ কবিতা হয় অপ্রকাশিত অথবা অপঠিত রয়ে গেছে। কিন্তু সেই চেষ্টাই নিরলস করে চলেছেন জীবনানন্দ-গবেষক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। জীবনানন্দ দাশের সনেট, দীর্ঘ কবিতা, প্রবন্ধ নিয়ে তিনি ‘জীবনানন্দ দাশ : জীবন ও কীর্তি’ বইয়ে নানান দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছেন। বইটিতে তিনি যেমন তুলে এনেছেন জীবনানন্দ দাশের চোখে রবীন্দ্রনাথকে, তেমনি সজনীকাšেত্মর চোখে জীবনানন্দ কেমন ছিলেন তা-ও প্রমাণসহ পাঠকের সামনে নিয়ে এসেছেন। জীবনানন্দ দাশের চিঠিপত্র ও দিনপঞ্জি বইটিকে একপ্রকার সম্পূর্ণতা দান করেছে। লেখক সফল হয়েছেন জীবনানন্দ দাশের জীবন ও কীর্তিকে সুন্দরভাবে পাঠকের সামনে নিয়ে আসতে।
জন্ম: ৩ জুন, ১৯৫৯, বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনীতিবিদ ও সাহিত্যিক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও, তিনি অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা ও অপারেশানস্ও বিজনেস রিসার্চ ইত্যাদি বিষয়ের অধ্যাপক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ১৯৮১ স্নাতক ও ১৯৮৩ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন এবং ১৯৯৭ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে অধ্যয়ন করেছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি কিছু সময়ের জন্য পাবলিক পলিসি অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচ) যোগ দেন। অতঃপর সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও আংকটাডের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত তিনি কূটনৈতিক পদে বেলজিয়াম, সুইজারল্যাণ্ড ও লুক্সেমবুর্গ এ দায়িত্ব পাল করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় কার্যরত রয়েছেন। সাহিত্য গবেষণা তাঁর প্রিয় ক্ষেত্র। তিনি জীবনানন্দ দাশের কবিতা ও অন্যান্য রচনা নিয়ে প্রায় তিন দশক যাবৎ গবেষণা করে চলেছেন। জীবনানন্দ দাশের কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি জীবনানন্দ দাশের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থের সঠিক পাঠ নিরূপণ করেছেন। বিশেষ করে রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থের বর্জিত অংশ পুনরূদ্ধার করেছেন ও সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত শব্দাবলী বর্জন করে বিশুদ্ধ পাঠ তৈরী করেছেন। ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গবেষণা প্রতিবেদন ‘চটি সাহিত্যের পূর্ব পশ্চিম’। বর্তমানে তিনি বাংলা সাহিত্যের অভিধানে অসংকলিত শব্দ নিয়ে গবেষণা করছেন।