বিশ্বের মানুষ আজ যে ব্রিটেনকে জানে, এক সময় সে দেশটি অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। অন্ধকার যুগে ব্রিটেনে কোনো রাজা বা শাসক ছিল না! ব্রিটেনের এই সময়টিকে বলা হতো ‘ডার্ক পিরিয়ড’। মানুষ ছিল অক্ষরজ্ঞান—শূন্য, মূর্খ। কারণ সে সময়ে কোনো অক্ষরই ছিল না। তখন এখানে—ওখানে ছড়িয়ে—ছিঁটিয়ে ছিল জনবসতি। ধর্ম বলতে ‘পেগাস’ অর্থাৎ প্রকৃতি। মানুষের জীবনধারণের জন্য পেশা ছিল মাছধরা ও কৃষিকাজ।
ব্রিটেনে বিভিন্ন আমলে বড়ো বড়ো ঘটনা ঘটে গেছে। যেমন বিগ ফ্যায়ার, প্লেগের আক্রমণ ও কলেরা—সহ আরো অনেক কিছু। ব্রিটেনে এক সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল না। নোংরা পানি থেকে অসুখ হতে পারে, তা তারা তখন জানতই না। তখনও আবিষ্কার হয়নি এন্টিবায়োটিক। বিগ ফ্যায়ার—এর পরে চিন্তায় আসতে থাকে ফ্যায়ার ব্রিগেডের ধারণা...।
আজকে যে ব্রিটেনকে আমরা দেখতে পাই তার পেছনের কারণ বড়ো বড়ো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার আর সাথে উপনিবেশ। ঔপনিবেশিক কাল শেষ হয়, আবার ব্রিটেনের ম্যাপ ছোট হয়ে পড়ে। তার সাথে অর্থনৈতিক অবস্থা আর বিশ্ব জুড়ে ক্ষমতা খর্ব হচ্ছে। তার সাথে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের চিন্তা—চেতনার পরিবর্তন। পরিবর্তন হচ্ছে ক্লাস সিস্টেমের। নানা রকমের সংস্কার হয়। তার মধ্যে নারীর অবস্থানেরও। ১৭০০ সালে নারীর অবস্থা কেমন ছিল, তা জানা যায় জেইন অস্টেনের গল্পের মাধ্যমে। জেইন অস্টেনের একটি বড়ো নিবন্ধ রয়েছে বইটিতে। পশ্চাৎপদ তখনকার ব্রিটেনের এই বিষয়গুলো ও সভ্যতার পথে ক্রমবির্তনের ধারাগুলো তুলে ধরেছেন লেখক হুসনুন নাহার নার্গিস। ব্রিটেন সম্পর্কে অজানা তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে বইটিতে। যারা ইতিহাস ঐতিহ্য বিষয়ে জানতে আগ্রহী তাদের জন্য বইটি অমূল্য সম্পদ হবে মনে করি।