সৌমিত বসু :
জন্ম: ২৬ শে নভেম্বর, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। পেশায় শিক্ষক সৌমিতের লেখার হাতেখড়ি শৈশবে বিদ্যালয়ের পত্রিকায়। পরবর্তীতে দেশ, আনন্দবাজার, সানন্দা, প্রতিক্ষণ, কৃত্তিবাস, শতভিষা, জিজ্ঞাসা, কবিপত্রসহ বাংলা ভাষার প্রথম শ্রেণির প্রতিটি কাগজে লেখেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৩২। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-আরশিমাছের চোখ, নারীগাছ, শ্রাবণকথা, আমার সন্তান যেন থাকে রাইটার্সে, শৃঙ্গারের মায়াশব্দরূপ, ডানার আনন্দরঙ, কৃষ্ণকথা, আমার নিজস্ব কোনো ক্রোধ নেই, হুস বললেই কি উড়ে যাওয়া যায়, ভাঙামন পথঘাট তুতানখামেন, শকুন্তলা, মা স্টিফেন হকিং ও ভাই, আমার মেয়েটি, চাঁদের জমানো জলে মুখ দেখা যায়, ঞড়ি জরাবৎং ঙহব ঋষড়,ি মায়া বৌ, মাছেরা আমার ভাইবোন, লিখি আশ্চর্য সঙ্গমের কথা, বিহানবেলির ওস ইত্যাদি।
বিবাহ
টিলার ওপর বসে আকাশ দেখছে মেয়েটি
দেখছে নদী নৌকো, নদী নৌকো, নদী
পেছন থেকে এসে হুড়মুড় করে জড়িয়ে ধরলো সংসার
কাগজের ঠোঙার মতো সে দুমড়ে মুচড়ে
একাকার হয়ে গেল।
যে কোনো গা ধোওয়া বিকেলে
নদী, নৌকো, আকাশেরা
আজও তার জন্য অপেক্ষা করে।
অথচ তার জন্য সংসারের কোনো অপেক্ষা ছিলো না।
সংসার
স্বপ্নের সাথে স্বপ্নের বিয়ে হলো
একটা বাচ্চাও হলো
কিন্তু তাদের সংসার হলো না।
সংসার করতে গেলে নাকি খানিক বাস্তবতা লাগে
মেঘ থেকে খসে পড়া জল
পুরে নিতে হয় চোখের ভেতর
তালুর উল্টোদিক দিয়ে চোখ মুছে
নেমে পড়তে হয় খাদের গভীরে।
ঠিক এখানটায় স্বপ্ন কিছুতেই ঘুম থেকে উঠতে চায় না।
সে ভাবে একটু বেলা হোক
তারপর না হয় বুজিয়ে দেওয়া যাবে স্বপ্নের ফাঁকফোকর।
জীবনানন্দ মরে গিয়ে ভূত।
অথচ তার স্বপ্নেরা আজও ভেতরে ভেতরে বাবা হয়, কিন্তু
তাদের সংসার করা হয়ে ওঠেনা কোনোদিন।
মায়াবৌ
আমাদের প্রত্যেকেরই একটা দেশের বাড়ি আছে।
যে বাড়িতে আমরা মাঝেমধ্যেই নিঃশ্বাস নিতে যাই।
সেই সব বাড়ি ঘিরে থাকে মায়া।
আমাদের দেশের বাড়ি আমাদেরই বাড়ি।
আর কারো নয়।
যে কলকাতায় থাকে, তার দেশের বাড়ি হয়তো বা সোনারপুর।
আবার যে সোনারপুরে থাকে তার দেশের বাড়ি
নিশ্চিন্তপুরেও হতে পারে। ছেলেমেয়ে নিয়ে যে
বাঁকুড়া শহরে বাস করে তার দেশের বাড়ি হয়তো
কোন অজ গণ্ডগ্রামে, যেখানে সাঁওতালদের চামড়ার গন্ধ লেগে আছে।
সারাটাজীবন দেশের বাড়ি মানুষকে ডাকে।
পাতা পেতে আসন বিছিয়ে দেয়।
নিঃশব্দে পাখারা এসে পাশে বসে। হাওয়া দেয়,
মন জুড়ানো হাওয়া।
সবচেয়ে মজা, মা বাবা দেশের বাড়ি ছেড়ে
শহরের মার্বেল পাথরে রাজিই হয় না। দেশের বাড়ি জুড়ে
ছড়িয়ে থাকে শুধু স্মৃতি। ছেঁড়া খোঁড়া স্বপ্নকে
সুচ সুতো দিয়ে জুড়ে জুড়ে আকাশ পেরোনো।
সাইবেরিয়ার পাখিগুলো নিয়ম করে উড়ে আসে দেশের সাঁতারে।
সাঁতরাগাছির জলের ওপরে শুয়ে তারা টের পায়
স্বপ্নের চেনা তলদেশ।
মায়াবৌ কতটা জলের নীচে গেলে
তোমাকে কুড়িয়ে পাবো দেশের বাড়িতে।
মায়াবৌ - ১২২
জলের নিচে তলিয়ে গেছো তুমি
হাত বাড়ালে রক্ত উঠে আসে
কন্যাহারা মায়ের দু-চোখ জুড়ে
এখন কেন তোমার ছবি ভাসে?
চিনতো তোমায় নরম ঘাসের আলো
চিনতো তোমায় আগুনরঙা মেঘ
‘বলছে চিনি’ কতো মানুষ আজ
তোমায় আমার চেনাই হলো না।