অসহায় প্রান্তিকজনের অনি:শেষ কষ্টের দু:সহ জীবন কথাসাহিত্যের প্রেরণা-তাড়নার জন্য যথেষ্ট মনে করি। মানুষের অসহায়ত্বÑ অন্তর্গত দহন-জ্বালাÑ প্রাণ ধারণের গ্লানিÑ নিরাপদ অস্তিত্বের প্রশড়বÑ বোধ-চেতনা আর মানবীয় স্বপড়বকে উচ্চকিত করার আত্মমগড়ব প্রয়াস সঙ্গত কারণেই কথাসাহিত্যের বিষয়। প্রান্তিক মানুষের অসহায়ত্ব-পরাজিতদশার এই সময় কতদূর বিস্তৃত হবে? তারা উচ্চাকাক্সক্ষী-স্বপড়ববিলাসী মানুষ ননÑ খেয়ে-পরে বাঁচার প্রাণান্ত লড়াইয়ে ব্যর্থ এই মানুষদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মাত্র নয়Ñ তাদের হাজার বছরের উত্তরাধিকারের খুঁটির তলায়ও মাটি নেই। আমার অধিকাংশ গল্পই কমবেশি এই অসহায় মানুষেরÑ তা থেকে ১৯টি গল্প নিয়ে এই ‘প্রান্তিকজনের গল্প’।
মানুষের বাইরের দৃশ্যগ্রাহ্য অংশ যতটা বাস্তব ভেতরেরটা তারচেয়ে কম বাস্তব নয়Ñ এটাই তাড়িত করে মানুষের বাস্তব কর্মাচরণ। সময়ের ফোঁড় মানুষের ভেতর নানা জটিল অনুসঙ্গ গেঁথে দেয়Ñ যার মোকাবিলা করতে হয় বাস্তবে এবং বোধ-চেতনাতেও আর এজন্যই গল্পে প্রয়োজনমাফিক শিল্প-শৈলী এবং সেইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিষয়-বিন্যাস ও যথাপ্রযুক্ত প্রকাশের ভার বহনে সক্ষম গদ্য-ভাষা। বাস্তব অভিজ্ঞতার সূত্র ধরেই এসেছে গল্পের ভেতরের অভিজ্ঞতা এবং সাহিত্যিক-অভিজ্ঞতা। গল্পকে ভাষায় প্রতিস্থাপনের কাজÑ ভাষার প্রতি মনোযোগÑ নিজের মত করে বিষয় নিয়েÑ চরিত্র নিয়ে ভাবনাÑ সর্বোপরি মানুষের অসহায়ত্বÑ অন্তর্গত সাহসÑ উঠে দাঁড়াবার ইঙ্গিতময়তাÑ এসবই সঙ্গত বিবেচ্য আর এজন্য গল্পের কলাপ্রযুক্তি সরলরৈখিক না-ও থাকতে পারেÑ এই প্রবণতাগুলো চরিত্র ও বিষয়-বক্তব্যের রক্ত-মাংসে মিশিয়ে দেয়ার চেষ্টাকে কথাসাহিত্যে সুপ্রযুক্ত মনে করিÑ যাতে অসহায়ত্বের ঘেরাটোপ ভেঙে মানবীয় সঙ্গতিমগড়ব মানব-আচরণের উদয়াভাস স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে!
গত ৫০ বছর কথাসাহিত্যের এক অন্তহীন বয়ন-বুনটের মাঝে আছিÑ অবিরত চলছে গল্প-উপন্যাস নামক তাঁতের ছোট-বড় মাক্কুÑ ভাল হোক মন্দ হোকÑ আজীবন আমি কথাশিল্পের এক তন্তুবায়।
প্রিয় পাঠক গল্পের সাথে থাকবেনÑ প্রান্তিকজনের সাথে থাকবেনÑ থাকবেন মানবীয়তার সাথে এবং ভাল থাকবেন।