১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
আরো দেখুন
১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
অনলাইন বাণিজ্য মেলায় আপনার পছন্দের পণ্যে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়! বছরের শুরুতেই সেরা ডিল, রকমারি অনলাইন বাণিজ্য মেলা, ২০২৬
যিনি ভাঁড়, আমাদের কাছে তিনিই তো গোপাল। ভাঁড়ের অবয়ব মনে এলে তাই অবধারিতভাবে টাকমাথা, পেটমোটা, দারুণ এক রসিক লোকের চেহারাই ভেসে ওঠে বাঙালির চোখে। তাঁর নাম অবশ্যই গোপাল ভাঁড়। কালপরম্পরায় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত তাঁর গল্প শুনে হাসেনি এমন মানুষ বোধ হয় নেই। লোকমুখে পল্লবিত তাঁর গল্পগুলোতে চমৎকার হাসির রেখা আছে বটে, তবে ওই হাসির নেপথ্যে গুপ্তঘাতকের মতো রয়েছে মিছরির ছুরি। আছে লোকশিক্ষা, নীতিশিক্ষা ও মোটাদাগে সমাজসংস্কারের ইঙ্গিত। এত কিছুর পরও গোপাল বাঙালির কাছে ভাঁড় বই বেশি কিছু নয়, হাস্যরসিক এক কৌতুকপ্রিয় চরিত্র। তার জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে এর মধ্যেই নির্মিত হয়েছে একাধিক সিনেমা, টেলিভিশন ধারাবাহিক ও অ্যানিমেশন ছবি।
কালে কালে গোপাল ভাঁড়কে নিয়ে গঙ্গা-পদ্মা-যমুনায় কম জল ঘোলা হয়নি। গোপাল ভাঁড় কে? আদতেই কি এই নামে কেউ ছিল? নাকি গোপাল একাধিকজনের সমষ্টি? এ প্রসঙ্গে কেউ বলেছেন, রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে বাস্তবেই ছিলেন তিনি। আবার অনেকের মতে গোপাল ভাঁড় নামে একক কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব খোঁজা বৃথা। কারণ, ইতিহাস তেমন সাক্ষ্য দেয় না।
বাংলা অঞ্চলের প্রবল প্রতাপশালী নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের (১৭১০-৮৩) রাজত্বকাল ৫৫ বছরের। ১৮ বছর বয়সে তিনি যখন সিংহাসনে বসেন, তখন ১৭২৮ সাল। শাক্ত ধর্মে বিশ্বাসী কৃষ্ণচন্দ্র ছিলেন বিদ্যোৎসাহী ও শিল্প-সাহিত্যানুরাগী। যদিও ১৭৫৭-তে পলাশীর প্রেক্ষাপটে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উৎখাতের দায়ে ইতিহাসে তিনি ‘বেঈমান’ হিসেবে চিহ্নিত, তবু এতে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি তাঁর অনুরাগের কাহিনি মুছে যায় না। তাঁর সভাসদ ছিলেন মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্র, রামপ্রসাদ সেন, জগন্নাথ তর্ক পঞ্চানন, হরিরাম তর্কসিদ্ধান্ত প্রমুখ। এই কৃষ্ণচন্দ্রের সভার অনেক রত্নের এক রত্ন ছিলেন গোপাল ভাঁড়—এমন বক্তব্য পণ্ডিতদের। এ বিষয়ে তাঁরা স্থির সিদ্ধান্তে না এলেও এই মতের পক্ষেই রয়েছে অধিকাংশের সায়।
অনেকের মতে, তিনি বাস করতেন কৃষ্ণনগরে। বাঙ্গালা ক্ষিতীশ বংশালী গ্রন্থের ভাষ্যমতে গোপাল ছিলেন শান্তিপুরের বাসিন্দা। কথিত আছে, তাঁর বাড়ি ছিল ঘূর্ণীতে। আবার নগেন্দ্রনাথ বসু সম্পাদিত বিশ্বকোষে পাওয়া যাচ্ছে, গোপালের বাড়ি গুপ্তিপাড়া। কারও ভাষায়, তিনি পড়ালেখা জানতেন। কেউ বলেছেন, জানতেন না। আর এই মহাত্মার পদবি নিয়েও আছে যথেষ্ট ধন্দ—নাঈ, বিশ্বাস, হাস্যার্ণব, ভাণ্ডারী, ভাঁড়—তবে কোনটি সঠিক?
শুধু তথ্যের পর তথ্য। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, গোপালের বিয়ে ও মৃত্যু নিয়ে ইতিহাস নীরব। বহুচর্চিত এই রসিককে নিয়ে বিদগ্ধ ঐতিহাসিকগণ গবেষণা করতে থাকুক। ততক্ষণে আমরা গোপাল ভাঁড়ের হাস্যরসাত্মক জ্ঞানগল্পের কিছুটা রস আস্বাদনের চেষ্টা করি।