বইয়ের নাম দেখলে সর্বপ্রথম মাথায় আসতে পারে আমাদের সমাজে চলমান রসালো কোন সম্পর্কের বিচ্ছেদের গল্প দিয়ে মোড়ানো হয়েছে। বাস্তবতা একদম ভিন্ন। তুমি এলে হারিয়ে যাওয়ার দিনে আমাদের সমাজের এক স্বপ্নবান বাবার গল্প। ‘স্বপ্ন বিলাস’ এক জীর্ণশীর্ণ কুটিরের গল্প। যারা স্বপ্ন দেখতো। নিজের মধ্যে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে। অথচ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে সমাজের নোংরা রাজনীতি এবং বিভিন্ন ট্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের যে নিকৃষ্টতম পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো এতে বহু প্রাণের অকাল মৃ'ত্যু ঘটেছে!
সময় কত কি বদলে দিতে পারে, যেভাবে নীলাভ লোভনীয় আকাশের রঙ হালকা ধূসর কিংবা কালো মেঘের আবরণে নষ্ট হয়ে যায়। তবে ফটোগ্রাফারের দৃষ্টিতে আকাশের ওই চিত্রের মাঝে কত রঙের ছবি ভাসে তার কোন ইয়ত্তা নেই। ঠিক স্বাভাবিক দৃষ্টি তাহমিদেকে গুম করার উদ্দেশ্য একটা আন্দোলনের দৃশ্যপট বদলে দেয়া আমাদের কাছে মনে হলেও গোয়েন্দা সংস্থা ভিন্ন কিছু দেখছেন। তাদের অনুসন্ধান বলছে তৃতীয় কেউ ফায়েদা নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি তারা তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সফল হতে না পারে তাহলে তাহমিদের জীবন হুমকির মুখে! তবে পারবে কি সত্য পর্যন্ত পৌঁছতে? নিরাপদে ফিরবে কি তাহমিদ মায়ের কোলে? নাকি সময়ের আড়ালে হারিয়ে যাবে তাহমিদ? তাকে নিয়ে পরিবারের হাজারও স্বপ্নের ইতি কি এখানেই টানতে হবে!
পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার বশীভূত হয়ে আমাদের সমাজের নির্মিত বৃদ্ধাশ্রম থেকে শুরু করে পশ্চিমা কালচারে অভ্যস্ত নারীবাদীদের মাধ্যমে আমাদের নারী অধিকার লঙ্ঘনের যে হিড়িক দেখা যায় তা অকল্পনীয়। বিশেষত বিধবা এবং ডিভোর্সী নারীদের আত্মচিৎকার এই সমাজের সুশীলরা যেনো শুনতেই পায় না। অথচ এসব প্রশ্নে ইসলাম ভিন্ন কিছু শেখায় আমাদের। মূলত এসবের সংমিশ্রণেই মলাটবদ্ধ হয়েছে একটি গল্প। একটি আত্মকথা।
রাশেদুল ইসলাম। নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত রহমতপুর গ্রামে তাঁর জন্ম ও বেড়ে উঠা৷ বাবা জনাব বাহার উদ্দীন। শৈশব কৈশোর কাটিয়েছেন নিজ গাঁয়েই। পড়াশোনার জন্যে পাড়ি জমিয়েছেন জামিয়া রহমানিয়া মহব্বতপুর মাদরাসায়। সেখানেই নুরানি থেকে মিজান পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। এরপর চলে আসেন জামেয়া মাদানিয়া নোয়াখালী মাদরাসায়। পড়েন মিশকাত পর্যন্ত। অতঃপর জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুল আমান আদাবর ঢাকায় পাড়ি জমান এবং এখানেই দাওরা শেষ করেন। তারপর থেকে লেগে আছেন কুরআন ও হাদিসের খেদমতে। রাশেদ। তরুণদের ভালোবাসার নাম। নিজে স্বপ্ন দেখেন। অপরকে স্বপ্ন দেখান। শুধু স্বপ্নচারী নন, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নও করেন আপন মনে, খুব সহজে। খুব কম সময়ে জায়গা করে নিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে। নিজের সম্মানের অবস্থান আরো স্পষ্টভাবে বুঝেন মানুষের ভালোবাসার তাড়নায়। এই ভালোবাসার শক্তিতেই একের পর এক দিগন্ত উন্মোচন করেন। নতুন কাজের ভরসা পান। বিনয়ী মনে এগিয়ে চলেন দুর্বার গতিতে, ঝড়ের স্রোতে। রাশেদ সেই মানুষ, যাঁর কথার ভাঁজে রয়েছে সত্যের সুর। সেই সুর বেজে ওঠে ভরসার তালে ক্ষণে ক্ষণে, হৃদয় পটে। রাশেদ। কেবল মাত্র একটি নামই নয়। ভরসা ও আস্থার বিশ্বস্ত ঠিকানা। মানুষের কথা বলেন, তাঁদের কথা শুনেন। নিজ গুরুত্বে আমলে নেন। সহজেই সমাধান করেন। তাঁর ভালোবাসায় সিক্ত পাঠক-লেখক-প্রকাশকপাড়া। এই ভালোবাসার ঠিকানা, ভরসার ছায়া আজীবন থেকে যাক। এবং আল্লাহ তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিন, আমিন!